বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশকে লেলিয়ে দিচ্ছে সরকার : রিজভী

বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশকে লেলিয়ে দিচ্ছে সরকার : রিজভী

ঢাকা ৯ জানুয়ারি ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): সরকার বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশ লেলিয়ে দিচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, সরকারি দলের কর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে। যা অগণতান্ত্রিক এবং অসাংবিধানিক।

রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গত ৫ জানুয়ারি বিএনপি ঘোষিত ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন উপলক্ষে দেশব্যাপী সরকারি বাহিনী ও শাসকদলের ক্যাডাররা সহিংস হামলার মাধ্যমে বিএনপির কর্মসূচিতে নির্মমভাবে বাধা দেয়। এর প্রতিবাদে এবং গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে আজ ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় এবং দেশব্যাপী জেলা সদর ও মহানগরগুলোতে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা চালায় এবং ব্যাপক বাধা প্রদান করে। গতকাল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দেয় এবং বেশ কিছু নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে। এমনকি নেতাকর্মীদের না পেয়ে পুলিশ বাড়ির মহিলা ও শিশুদের সাথে অশালীন ব্যবহার করে।

রিজভী বলেন, দু:শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ। লাখ লাখ পায়ের আওয়াজে কেঁপে উঠছে স্বৈরাচারের মাটি। দুরন্ত দুর্নিবার আন্দোলনের শক্তি টের পেয়ে আওয়ামী নেতারা ভয়ে আবোল-তাবোল বকছে। আর তাই বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশ লেলিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এভাবে তারা নিস্তার পাবে না। জনগণের নিকট একদিন তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগকর্মীদের হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানান।তিনি বলেন, বরিশালে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গত ৫ জানুয়ারি যারা মহিলাদের প্রতি আক্রমণ করে নির্যাতিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু আক্রমণকারিরা বীরদর্পে বুক ফুলিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এমনভাবে নিজেদের লোক দিয়ে তৈরি করেছে যারা অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা, হামলা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হিংসা ও হত্যায় আগ্রহী। যার কারণে পুলিশ অন্যায়ভাবে বিরোধী দলের কর্মসূচিকে রক্তাক্ত করলেও তাদেরকে জবাবদিহি করতে হয় না, বরং তাদের প্রমোশন, গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। সরকার অসাংবিধানিক অন্যায় এবং জনসমর্থনহীনভাবে শাসনের পথকে সুগম করার জন্যই পুলিশকে দেয়া হয়েছে লাগামহীন উৎপীড়ণের লাইসেন্স।

 

 

রিজভী আরো বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচির কথা শুনলেই ক্ষমতাসীনদের মসনদ কেঁপে ওঠে। কারণ জনগণই তাদের মূল আতঙ্ক। জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে জনগণকে তাদের এতো ভয়। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সভা-সমাবেশের ওপর হামলা ও বাধা দেয়ার ঘটনায় তারা জনগণের কাছে ক্রমাগত নিন্দিত ও ধিকৃত হচ্ছে। আর জনগণকে তাদের প্রয়োজন নেই বলেই তারা গণতন্ত্রের মুখোশ খুলে দিয়ে বিরোধী দলকে ধারাবাহিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। সরকারের সব বাধা ও উৎপীড়ন উপেক্ষা করে দলের নেতাকর্মীরা জনগণকে সাথে নিয়ে গণতান্ত্রিক সব কর্মসূচি সফল করছে।

এ ছাড়া তিনি বলেন, কিশোরী ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার নির্মম দৃশ্য বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীকে কাঁদিয়েছে। মনে হয়েছে বাংলাদেশটাই যেন কাঁটাতারে ঝুলছে। ফেলানীর হত্যাকারিদের ভারতে কোনো বিচারই হয়নি। ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনায় যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সেটিকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য বাংলাদেশী ক্ষমতাসীন মহলও চেষ্টা করেছে শুধুমাত্র প্রভুদেরকে খুশি করার জন্য। কোনো সত্যই কোনোদিন অতীত হতে পারে না।

রিজভী বলেন, ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা, জুলুমের বিরুদ্ধে এই ক্রোধ আর বেদনাকে জাগিয়ে রাখুন। কোনোদিনই এই নির্মমতা আমরা ভুলে যাবো না। তাছাড়া প্রতিদিনই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে।

গতকালও চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফ পিটিয়ে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে। নওগাঁর পোড়শা থেকে দুজন বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ। নতজানু ও প্রভুভক্ত এই সরকার প্রতিরোধ তো দুরে থাক প্রতিবাদের ভাষাও হারিয়ে ফেলেছে।

Share Button
Previous হস্তক্ষেপমুক্ত ইসি চায় গণফোরাম
Next মেসির গোলে হার থেকে বাঁচল বার্সা

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply