জিয়ানগরের নাম পরিবর্তন আগ্রাসী প্রতিহিংসার নমুনা : রিজভী

জিয়ানগরের নাম পরিবর্তন আগ্রাসী প্রতিহিংসার নমুনা : রিজভী

ঢাকা ১১ জানুয়ারি ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পিরোজপুর জেলাধীন জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তন করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি সরকারের আগ্রাসী প্রতিহিংসার শিকারের আরেকটি ঘটনা।
আজ মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম সহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী লিখিত বক্তব্যে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেসমস্ত বীর সন্তানরা মাতৃভূমির জন্য লড়াই করেছেন তাদের নামে সড়ক-মহাসড়ক-স্থান-ভবন ইত্যাদির নামকরণ করা হয়েছে। কোলকাতার অনেক রাস্তাঘাটের নাম ইংরেজ সিভিলিয়ানদের নামে ছিল, স্বাধীনতার পর সেটি পরিবর্তন করে সেখানে কীর্তিমান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম দেয়া হয়েছে। এভাবে আমরা সেখানে দেখতে পাই-চিত্তরঞ্জন এ্যভিনিউ থেকে শুরু করে বিধাননগরসহ নানা স্থানে স্বজাতির বরেণ্য দেশনায়ক, কবি-সাহিত্যিক-বিজ্ঞানী অথবা সমাজ সংস্কারকদের নাম। শুধুমাত্র বর্তমান বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীতে একটি ব্যতিক্রমী দেশ, যেখানে সরকারের দিন-রাত্রি কাটে হিংসা-বিদ্বেষ-আক্রোশ আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমনে। পিরোজপুর জেলাধীন জিয়ানগর উপজেলা থেকে জিয়ানগর নামটি বাদ দেয়া আমাদের গৌরবোজ্জল মুক্তিযুদ্ধ ও সকল মুক্তিযোদ্ধাদেরকেই অপমান করা। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার আমলে জিয়ানগরে জলথানা প্রতিষ্ঠিত করেন এবং পরে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করেন। ২০০২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে এটিকে উপজেলায় উন্নীত করেন, তখন এটির জিয়ানগর নামকরণ করা হয়। শুধুমাত্র সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম থাকার কারণেই এটি সরকারী আক্রমণের শিকার হলো। প্রতিহিংসা কত ভয়াবহ রুপ নিলে এধরনের সভ্যতা বিবর্জিত আক্রোশমূলক সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার।
রিজভী সরকারের উদ্দেশে বলেন, জনগণের শাসন যদি কখনো কায়েম হয়, তখন যদি বর্তমান বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, বঙ্গবন্ধু সেতু, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার এসবের নাম পরিবর্তন করে পূর্বের যে নাম ছিল তা যদি বহাল করা হয় তাহলে তখন আপনাদের বক্তব্য কী হবে ? আপনারা কি দেশটাকে চিরদিনের জন্য মৌরুসিপাট্টা করে নিয়েছেন যে, ভাবছেন ক্ষমতা আর কোনদিনই ছাড়তে হবে না ?
বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন যে, রাজধানীতে সমাবেশ করতে দেয়ার ক্ষমতা ডিএমপির। আওয়ামী লীগ নেতারা কী জনগণকে কাঁচকলার রাজনীতি শেখাচ্ছেন ? জনগণ মনে হয় কিছুই বোঝেন না? ডিএমপির কাজ হচ্ছে অপরাধ দমন, গণতন্ত্রে বিরোধী দলের অধিকার দমন নয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য যদি সঠিক হয় তাহলে বুঝতে হবে গণতন্ত্রের পায়ে পুলিশ বেড়ি দিয়ে রেখেছে। যখন দেশব্যাপী অপরাধীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তখন সরকার ডিএমপিকে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার দমনে ব্যবহার করছে। আওয়ামী লীগের ইচ্ছা বাস্তবায়নের যন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে ডিএমপি তথা পুলিশ বাহিনীকে, যাদের বেতন দেয়া হয় জনগণের ট্যাক্স থেকে, আওয়ামী লীগের তহবীল থেকে নয়। কাদের ইঙ্গিতে ডিএমপি বিএনপিকে ৭ জানুয়ারি সমাবেশ করতে দেয়নি সেটি আওয়ামী নেতারা না বুঝলেও জনগণ ঠিকই বোঝে। কিন্তু মনরক্ষা ও চাকুরী রক্ষার জন্য তাদেরকে উল্টাপাল্টা অনেক কিছুই বলতে হয়। অথচ কয়েক দিন আগে এরশাদের জাতীয় পার্টি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাতি-ঘোড়া নিয়ে সমাবেশ করেছে। আওয়ামী লীগ রাজধানীতে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অহরহ সমাবেশ করছে, আজকেও পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষনা দিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ-ঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের সমাবেশের জন্য। বাংলাদেশের পুলিশ এখন আওয়ামী লীগের পার্সনাল সিকিউরিটিতে পরিণত হয়েছে। তবে আমি আওয়ামী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ৭২-৭৫ সালেও আপনারা জনগণকে বেকুব মনে করেছিলেন, এখনও তাই ভাবছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সচেতন জনগণ বেকুব নয়,্ এটি যথাসময়ে আপনাদেরকে বুঝিয়ে দেবে জনগণ।
রিজভী সারাদেশের জেলা উপজেলায় উন্নয়ন মেলার সমালোচনা করে বলেন, সরকারের দলবাজ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকদের বাধ্য করে পালন করা হচ্ছে উন্নয়নের গণতন্ত্র মেলা। গণতন্ত্রকে পদদলিত করে আয়োজিত এসব মেলায় সাধারণ মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অসত্য জোর করে প্রচার করতে গেলে মানুষের আনন্দ হওয়ার চেয়ে হতাশার রুপটিই ফুটে ওঠে। তিনি আরো বলেন, মানুষের মনে শান্তি নেই, পকেটে টাকা নেই, পেটে ভাত নেই, ঘরে বাইরে কোথাও মানুষের নিরাপত্তা নেই, আজ দেশে বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই, বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের অধিকারকে হরণ করা হয়েছে, লুটে নেয়া হচ্ছে মা বোনদের ইজ্জত, স্কুল কলেজের মেয়েরা ভয়ে স্কুলে যেতে পারছেনা ছাত্রলীগ-যুবলীগের চাপাতির আক্রমনে, মায়ের কাছে চাঁদা না পেয়ে মেয়েকে ধরে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন করা হচ্ছে, শিশুরাও নিষ্ঠুর নিপীড়ণের শিকার হচ্ছে, রাজকোষসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লুটে ফোকলা করে দেয়া হয়েছে, কিছু কিছু গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে বাকিগুলোকে হুমকি ধামকি দিয়ে সরকারী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ঝনঝনানীতে প্রকম্পিত, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে লুটের কারখানা বানানো হচ্ছে, যুবকদেরকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে কারাগারগুলো ভরে ফেলা হয়েছে, ঘুষের দাবিতে সাধারণ মানুষদের ধরে নিয়ে থানায় লটকানো হচ্ছে, দেশে বেকারত্ব এখন মহামারী রুপ নিয়েছে, শিক্ষিত বেকাররা কাজ না পেয়ে অপরাধের দিকে ঝুঁকছে।
রিজভী বলেন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মানুষের জমি-সহায় সম্পদ দখলের হিড়িক চলছে দেশজুড়ে। পুরো দেশ এখন লুটেরা রাজ্যে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় উন্নয়নের নামে মেলা শুধুই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। সামরিক শাসক আইয়ুব খানও ১৯৬৮ সালে এধরণের উন্নয়নের দশক উৎসব করেছিলেন। তাতে তার শেষ রক্ষা হয়নি। গণঅভ্যূত্থানের স্রোতে ভেসে যেতে হয়েছে। শেখ হাসিনা স্বৈরশাসক আইয়ুব খানসহ বিভিন্ন দেশের স্বৈরশাসকদের মডেলকেই বেছে নিয়েছেন। সেজন্য বাংলাদেশের সবুজে এখন শুধুই রক্তের আল্পনা। জনসাধারণ কিছুই ভোলে না। দেশের উন্নয়ন শুধু প্রধানমন্ত্রীর মুখে, সারা দেশে শুধু লবডঙ্কা।

Share Button
Previous বিদায় ওবামা
Next রাষ্ট্রপতির ওপর আস্থা আ. লীগের: সংলাপে চার প্রস্তাব

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply