ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য সর্বৈব মিথ্যা : মির্জা ফখরুল

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য সর্বৈব মিথ্যা : মির্জা ফখরুল

ঢাকা ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): বিএনপি সার্চ কমিটিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে রাখার প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে দিয়েছে বলে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে সর্বৈব মিথ্যা অভিহিত করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার বিকেলে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, আমরা রাষ্ট্রপতির সাথে আলোচনাকালে সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের কথা বলে এসেছি সার্চ কমিটির আহবায়ক হিসেবে। এটা সর্বৈব মিথ্যা। তার এই বক্তব্য তার প্রত্যাহার উচিত।

একই সাথে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের কাছে প্রশ্ন রেখে ফখরুল বলেন, আমার প্রশ্ন তাহলে কী রাষ্ট্রপতি সাহেবের সাথে ওবায়দুল কাদের ও আওয়ামী লীগের একটা গোপন যোগসাজস আছে? এ কথার উত্তর ওবায়দুল কাদেরের কাছে চাই।তাহলে কী রাষ্ট্রপতি তাদের (ক্ষমতাসীন দল) সাথে আলোচনা করে এখন সার্চ কমিটি করবেন? তা-ই যদি হয়ে থাকে আমরা বলব, এ ধরনের সার্চ কমিটি গঠন করার প্রয়োজন নেই। এ ধরণের সার্চ কমিটি এদেশের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না। আওয়ামী লীগের বশংবদ কোনো নির্বাচন কমিশন বা সার্চ কমিটি দেয়া হয়, জনগণ কখনোই তা মেনে নেবে না।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে লেখক-প্রকাশক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী-রাজনীতিবিদদের নিয়ে দ্বিতীয় গ্রন্থ আড্ডা শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের নেতারা এতো এতো কথা বলে, কত যে মিথ্যাচার করছে, তা যে কতোই অসার ‘স্পেইন ১৯৭১’ বইটি পড়লে জানা যায়। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন- একে খন্দকার, উইং কমান্ডার মিজান ও মাঈদুল হাসান সাহেবের লেখা বই, মূলধারা একাত্তর এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থ। এসব বই পড়লে বুঝা যাবে আসল ব্যাপারটা কী? এছাড়া ভারতের একজন গবেষক রাঘবন এর লেখা ‘লিবারেশন ওয়ার অব বাংলাদেশ’। এটা তথ্যপূর্ণ একটা বই যে বইতে সত্য অনেকটা বেরিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, আজকে জিয়াউর রহমানকে বলা হয় তিনি না-কি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। উনি খলনায়ক, উনি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সাথে জড়িত এসব মিথ্যা কথা বলে তাকে একটা খলনায়কে পরিণত করার চেষ্টা। মূল লক্ষ্যটা হচ্ছে জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদের দর্শনকে নিশ্চিহ্ন করা। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে টেলিভিশনের প্রোগ্রাম, পত্রিকা সব জায়গায় একটা সুপরিকল্পিত ক্যাম্পেইন চলছে। এটার লক্ষ্য হচ্ছে বাংলদেশী জাতীয়তাবাদকে নিশ্চিহ্ন করা। তবে এটা সম্ভব হবে না। কারণ এদেশের শতকরা ৯০% মানুষ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে, জিয়াউর রহমানকে বিশ্বাস করে।

ফখরুল অভিযোগ করেন, আজকে একুশের বই মেলায় আওয়ামী লীগের চিন্তার বাইরে, মতের বাইরে যদি কোনো কিছু হয়ে থাকে, তা হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিরোধী, সেটাকে কিছুতেই প্রকাশ করা যাবে না। পাকিস্তানিদের সাথে এদের পার্থক্যটা কোথায়? তারাও তখন কথা বলতে দিতো না, এরাও (ক্ষমতাসীন দল) এখন কথা বলতে দেয় না।

জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংবাদিক এরশাদ মজুমদার, কবি আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, প্রকাশক মোহাম্মদ জহির দীপ্তি, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ছাত্র দলের সভাপতি রাজীব আহসান প্রমূখ বক্তব্য দেন।

Share Button
Previous কন্ডিশনিং ক্যাম্পে যোগ দিলেন ৩০ ফুটবলার
Next শিশুকে গুলি করা নিয়ে লিটনের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়া হয় : প্রধানমন্ত্রী

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply