শিশুকে গুলি করা নিয়ে লিটনের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়া হয় : প্রধানমন্ত্রী

শিশুকে গুলি করা নিয়ে লিটনের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়া হয় : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপি-জামায়াতকে অভিযুক্ত করে হত্যাকারীদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে শোনা যায় সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা কোথায় কে একটু শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদেরকে শেষ করে দেয়া হচ্ছে, তাদেরকেই হত্যা করা হচ্ছে। এসব হত্যা পরিকল্পনাই বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন ও কর্মকাণ্ড। এ ধরনের ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। আমরা যেমন জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি তখন লিটনের হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদের ঠিকই খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী রবিবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং গাইবান্ধা থেকে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল। এটাই ছিল তার অপরাধ। এ জন্যই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। লিটনের মৃত্যুতে আমরা একটি সম্ভাবনাময় নেতৃত্বকে হারিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গাইবান্ধা, পলাশবাড়ী ও সুন্দরগঞ্জ থেকে মিঠাপুকুর পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত প্রচণ্ড সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। সে সময় ওই এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি আক্রমণ করে ও আগুন দিয়ে চারজন পুলিশকে হত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অফিসে আগুন দিয়ে সেখানে কর্মরতদের হত্যার চেষ্টা করা হয়। প্রায় দেড়শ’ থেকে ২শ’ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং সেখানে এক ভয়াবহ তাণ্ডব সৃষ্টি করে। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়িতে আগুন দেয়া হয়। বামনডাঙ্গা রেলস্টেশনে আগুন দেয়, রেল লাইনের ফিসপ্লেট তুলে ফেলে। সেখানে দুইজন পুলিশ সদস্য মারা যায়। সেই সাথে বেলকা ইউনিয়ন পরিষদে আগুন দেয় এবং ভাঙচুর করে। ওই সময় এমন অবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছিল যে, কোনো মানুষ ঘরে থাকতে পারেনি।

শিশুর গায়ে গুলি করা হয়েছিল বলে লিটনের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সৌরভের বাবা আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। ওই পরিবারের সাথে লিটনের সুসম্পর্ক ছিল। তাকে সে কেন গুলি করতে যাবে? সেদিন সন্ত্রাসীরা লিটনকে হত্যা করার জন্য অতর্কিত হামলা চালায়। সে আত্মরক্ষার জন্য ফাঁকা গুলি চালায়। সৌরভের গায়ে যে আঘাত লেগেছিল সেটা নিয়েও অনেক সন্দেহ ছিল বা হতে পারে ফাঁকা গুলিও কারো গায়ে লাগতে পারে। কিন্তু শিশু হত্যা করতে গিয়েছিল বলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এমনভাবে লেখা হয়েছে যে সত্যিকারের ঘটনা কেউ তুলে ধরেনি।’

তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর তার লাইসেন্স করা অস্ত্র জব্দ করা হয়। তার বাড়ির পুলিশ পাহারা সরিয়ে নেয়া হয়। যার ফলে তার বাড়িতে ঘরের ভেতরে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ থেকে রাজনীতি শুরু করে সে এ পর্যায়ে এসেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে বলেই তাকে সুন্দরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোনীত করা হয় এবং সেখানকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যতদিন তিনি বেঁচে ছিলেন ততদিন সুন্দরগঞ্জের মানুষের মনে একটা স্বস্তি ছিল।

 

তিনি বলেন, লিটন গোলাম আযমকে তার এলাকায় যেতে দেয়নি। এছাড়া সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে, স্বাধীনতা বিরোধী চক্র লিটনকে হত্যার মধ্য দিয়ে এসব ঘটনার প্রতিশোধ নিয়েছে।

 

 

Share Button
Previous ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য সর্বৈব মিথ্যা : মির্জা ফখরুল
Next চুল রপ্তানি

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply