শ্যামনগরে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ

শ্যামনগরে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ

এম এম রায়হান, সাতক্ষীরা ১৫ মার্চ ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):

সুন্দরবনের পাদদেশে মালঞ্চ নদীর কোলে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত সর্ব বৃহৎ উপজেলার নাম শ্যামনগর। সুন্দরবনের পাদদেশে অবস্থিত এ উপজেলার সকল কর্মই যেন সুন্দরবনের সুন্দরের সাথে মিলেই তৈরি হয়েছে। লোনা পানি মিষ্ঠি পানির মিশ্রনে ফলে সকল প্রকারের ফষল। এ অঞ্চলের লোনা পানির সোনা খ্যাত চিংড়ি চাষ বহির্বিশ্বে পরিচয় ঘটিয়েছে এ উপজেলাকে। সত্তর দশক থেকে সাতক্ষীরা বাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সাথে চিংড়ি সম্পদ বিশেষভাবে জড়িত। বঙ্গোপসাগর থেকে চিংড়ি আহরনের পাশাপাশি সত্তর দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশে প্রথম বৃহত্তর খুলনা জেলায় বাগদা চিংড়ি চাষ শুরু হয়।তন্মধ্যে সর্বপ্রথম চিংড়ি চাষ শুরু হয় ততকালীন বৃহত্তর খুলনা জেলার অন্তর্গত বর্তমান সাতক্ষীরা জেলার সদর, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর থানায় ।তখন থেকেই দেশীয় (সনাতন) পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ হয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে চিংড়ি চাষ সনাতন পদ্ধতিকে পেছনে ফেলে শ্যামনগরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়িচাষ করে অধিক উৎপাদনে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। আধা নিবিড় ইংরেজিতে সেমি ইন্টেন্সি বলা হয়। যেহেতু ঘেরে চিংড়ি চাষের জন্য বেশি জমির প্রয়োজন হয়, সে কারণে নানা সমস্যা তৈরি হয়। প্রয়োজনীয় উপযোগী জমিরও অভাব রয়েছে। তাই স্বল্প জমিতে পুকুর কেটে এ পদ্ধতির চাষ বেশ সুবিধা ও লাভজনক।অল্প জমিতে অধিক উৎপাদনের ফলে দিন দিন এই চাষ পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েই চলেছে। তবে সরকারি বেসরকারি সহায়তা পেলে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহারে আরো আগ্রহী হবেন চাষীরা। এই পদ্ধতির ফলে চিংড়ির উপযোগী গুণগত মান সম্পন্নের পাশাপাশি এ খাত থেকে বছরে সনেÍাষ জনক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে করেন সংশ্লিষ্ঠরা । প্রযুক্তির মাধ্যমে অক্সিজেন, ঔষধ ও খাবার সরবরাহের কারণে সম্পূর্ণ ভাইরাসের ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় পদ্ধতিটি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ চাষের তুলনায় মুনাফার পরিমাণ অধিক হওয়ায় পার্শ¦বর্তী কয়েকটি জেলায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে। এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসাইন সাগর বলেন, অল্প জমিতে অধিক মুনাফা লাভের জন্য এই প্রযুক্তিরকোন বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে আধা-নিবিড় পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করতে মত্স্য বিভাগও কাজ শুরু করছে। নওয়াবেকী শ্রীম্প কালচারের দেখাদেখি এলাকার অনেক চিংড়ি চাষি এই পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করতে আগ্রহী হয়েছেন। আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। একটি খামারে দুই শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। প্রতিটি পুকুরে বছরে ২ বার মাছ ধরা যাবে।সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অর্থাৎ যদি নিরোগ পোনা ছাড়া হয় তাছাড়া ঘেরে পানির পরিমান ৩ থেকে ৪ ফুট, ভালো পানি, ভালো পরিবেশ, জৈব নিরাপত্তা, ভালো মানের খাদ্য ,মাছের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এসব সব ঠিক থাকলে ৫ মাসে একর প্রতি ১০ লক্ষ টাকা পাওয়া সম্ভব , যেখানে খরচের পরিমান ৫ লক্ষ টাকা। সনাতন পদ্ধতির অপেক্ষা আধা নিবিড় পদ্ধতিতে ১০ গুন মাছ উৎপাদন করা সম্ভব বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন এ পদ্ধতিতে চিংড়ি উৎপাদন করে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে । সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূল এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাগদাচিংড়ি চাষে ব্যাপক সফলতা এসেছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে অক্সিজেন, ওষুধ ও খাবার সরবরাহের কারণে সম্পূর্ণ ভাইরাসের ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় পদ্ধতিটি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ চাষের তুলনায় মুনাফার পরিমাণ বেশি হওয়ায় পাশের কয়েকটি জেলায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহারহচ্ছে । উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ,শ্যামনগর উপজেলার বাগদা চিংড়ির সেমি-ইনটেনসিভ খামারের ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের তথ্য দিতে গিয়ে বলেন, শাওন ফিস প্রডাক্টস লিঃ,প্রোঃ মোঃ আঃসাত্তার,মোড়ল, ১৩৫.০০ হেক্টর জমিতে যার মধ্যে জলায়তন ৬৪.০০ হেক্টর ,পকুরের সংখ্যা ১৮০টি,যার মধ্যে চাষকৃত ১৫৮াট, তার উৎপাদিত মাছের পরিমান ৯৫০.৫০ মেট্রিক টন। রেডিয়েন্টশ্রিম্প কালচার-০১ প্রোঃ আলহাজ্ব শফিকুলইসলাম নঁওয়াবেকী, ৪০.০০ হেক্টর জমিতে যার মধ্যে জলায়তন ১৯.৪০ হেক্টর ,পকুরের সংখ্যা ৬০ টি,যার মধ্যে চাষকৃত ৪৮াট, তার উৎপাদিত মাছের পরিমাণ ২৩০.০০মেট্রিক টন।সুন্দরবনমৎস্য প্রকল্প টাইগারপয়েন্ট,সুশীলন,মুন্সিগঞ্জ, ৩.৫০ হেক্টর জমিতে যার মধ্যে জলায়তন ১.৬২ হেক্টর ,পকুরের সংখ্যা ৪ টি, তার উৎপাদিত মাছের পরিমান ২০.০০ মেট্রিক টন। সুন্দরবন শ্রিম্প কালচার লিঃ প্রোঃ আলঃ আবুল কালাম বাবলা , নঁওয়াবেকী, শ্যামনগর,সাতক্ষীরা ০৫.০০ হেক্টর জমিতে যার মধ্যে জলায়তন ৩.২৩ হেক্টর ,পকুরের সংখ্যা ১০ টি,যার মধ্যে চাষকৃত ৯ াট, তার উৎপাদিত মাছের পরিমান ২৩.০০ মেট্রিক টন।মৎস্য কর্মকর্তা অল্প পরিসরে হলেও এ পদ্ধতিতে চাষে এগিয়ে আসার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।স্থানীয় চাষীদের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তারা জানান, আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করতে আমরা আগ্রহী হলেও মূলত অর্থনৈতিক ঘাটতি থাকার কারণে আমরা এ চাষে অন্তভূক্ত হতে পারছিনা।তবে আমরা জেনেছি এই পদ্ধতিতে চাষে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা পাওয়া সম্ভব। তারা আরো বলেন, এই চাষ পদ্ধতিতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। বিদ্যুত্ যেখানে নেই সেখানে ইঞ্জিন চালিত মেশিন অথবা প্রয়োজন মতো সোলারের সাহায্যে চাষ করা সম্ভব। চাষী পর্যায়ে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা গেলে এ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষীরা ব্যাপক লাভবান হবে বলে জানান তারা।

Share Button
Previous ‘মেয়ে বলে দুর্বল নই, আন্দোলন ছাড়ছি না’
Next প্রথম দিনটি বাংলাদেশেরই

About author

You might also like

লাইফস্টাইল ০ Comments

How I learned to stop worrying and smell the bluebells

Nam in pharetra nulla. Cras aliquet feugiat sapien a dictum. Sed ullamcorper, erat eu cursus sollicitudin, lorem orci condimentum ante, non tincidunt velit dolor eget lacus. Ut dolor ex, gravida

ফিচার ০ Comments

‘সেরা দেশ’ সুইজারল্যান্ড

৮ মার্চ ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): আমেরিকা নয়, বিশ্বের সেরা দেশের স্বীকৃতি পেল সুইজারল্যান্ড। ইউএস নিউজ এবং ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের দ্বিতীয় বার্ষিক ‘বেস্ট কান্ট্রিস’ তালিকায় শীর্ষস্থানীয় সুইজারল্যান্ডের পরই দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করেছে

ফিচার ০ Comments

Is Brixton London’s next tech hipster hub?

Nam in pharetra nulla. Cras aliquet feugiat sapien a dictum. Sed ullamcorper, erat eu cursus sollicitudin, lorem orci condimentum ante, non tincidunt velit dolor eget lacus. Ut dolor ex, gravida

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply