শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৯১ রান

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৯১ রান

১৯ মার্চ ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):   বাংলাদেশ দল যা চাইল তা আর পুরোপুরি হলো কই। ইচ্ছে ছিল পঞ্চম ও শেষ দিনের সকালে কলম্বো থেকে দ্রুত শেষ দুটি উইকেট তুলে নেবে তারা। কিন্তু অলরাউন্ডার দিলরুয়ান পেরেরা (৫০) ও লেজের ব্যাটসম্যান সুরঙ্গা লাকমাল (৪২) দারুণ হতাশ করলেন। ১৩.২ ওভার বল করতে হলো টাইগারদের পি.সারা ওভালের শেষ সকালে। তাতে নিজেদের শততম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের জন্য টাইগারদের লক্ষ্য দাঁড়াল ১৯১।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৯ রান করে অল আউট হয়েছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের সামনে শ্রীলঙ্কাকে প্রথমবার টেস্টে হারানোর হাতছানি। তাও তাদেরই মাটিতে। আর এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মানে দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ হবে ১-১ এর সমতায়।
৯৯ টেস্টে এ পর্যন্ত ৮টি জয় বাংলাদেশের। তার মধ্যে মোটে তিনটি বিদেশের মাটিতে। এখন এসেছে মহোত্তম সুযোগ। আগের বিকেলে শেষ দুটি উইকেট তুলে নেয়া যায়নি। শেষটায় কি যেন হয়! রোববারের সকালেও তাই। পেরেরা সিরিজে দ্বিতীয় ফিফটি করলেন। ৮ উইকেটে ২৬৮ রানে স্বাগতিকরা দিন শুরু করে। ১৩৯ রানের লিড তখন লঙ্কানদের। বাংলাদেশ এই লিডটাকে ২৬০ এর বেশি হতে দিতে চায়নি। কিন্তু ঠেকাতেও পারেনি। আগের দিন তিনটি করে উইকেট নেয়া মোস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসানও সকালটাকে রঙিন করতে পারলেন না। নবম উইকেটে ৮০ রান করে পেরেরা ও লাকমালের জুটি। এই পি.সারা ওভালে যেমন ৩৫২ রানের টার্গেট জয়ের ইতিহাস আছে। আবার ২৪৪ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে স্বাগতিকদের কাছে ১৭১ রানে অল আউট হওয়ার ইতিহাসও আছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে ঘটে এবার!
১৬ কোটি ক্রিকেট পাগল বাংলাদেশের মানুষের চোখ এখন কলম্বোতে।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচ জিতেছে। প্রতিপক্ষের মাটিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ডটা সাকিব আল হাসানের দলের। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে গ্রানাডায় ম্যাচ জিততে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দিয়েছিল ২১৫ রানের টার্গেট। ৪ উইকেটে ওই ম্যাচ জয়ের সঙ্গে বিদেশের মাটিতে প্রথম সিরিজও জিতেছিল বাংলাদেশ। আর এখন পর্যন্ত চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে বাংলাদেশের জেতার রেকর্ড হয়ে আছে ওটাই।
চতুর্থ দিন শেষে যে জয়-স্বপ্নটা রুঙিন হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ শিবিরে, পঞ্চম দিন সকালে তা প্রায় মিলিয়েই যেতে বসেছিল। শ্রীলঙ্কার লেজের দিকের দুই ব্যাটসম্যান দিলরুয়ান পেরেরা ও সুরঙ্গা লাকমল টি-টুয়েন্টি আদলে ব্যাট করে স্বপ্নটা কেড়েই নিচ্ছিলেন প্রায়। তবে ভাগ্য ভালো, কঠিন করতে পারলেও পেরেরা-লাকমল শিততম টেস্টে বাংলাদেশের জয়ের আশায় জল ঢেলে ভাসিয়ে দিতে পারেননি।
নবম উইকেট জুটিতে দুজনে আগের দিনই গড়েছিলেন ৩০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। রোববার পঞ্চম দিনে ১২.৪ ওভার খেলে যোগ করেন আরও ৫০ রান। তাতে শ্রীলঙ্কার স্কোর গিয়ে ঠেকে ৩১৮ রানে। ১৩৯ রানের লিডটা বেড়ে হয়ে যায় ১৯০ রানের। ভাগ্য ভালো যে, শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙতে পেরেছে বাংলাদেশ। মজার ব্যাপার হলো, শততম টেস্টে বাংলাদেশের জয়-স্বপ্নের পথে বিষফোঁড়া হয়ে উঠা এই জুটিটা ভাঙা গেছে ফিল্ডিং মিসের সুবাদে! সত্যিই তাই।
মেহেদী হাসান মিরাজের বলে একটু আগেই চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা পেরেরা শর্ট খেলেন স্কায়ার লেগে। স্কায়ার লেগ ফিল্ডার শুভাশীষ রায় প্রথম দফায় বলটা কুড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হন। ব্যস এই সুযোগেই রান নেন যান পেরেরা-লাকমল। শুভাশীষ দ্রুততার সঙ্গে বল কুড়িয়ে থ্রো করেন বোলারপ্রান্তে। মেহেদী দারুণ দক্ষতায় বল নিয়ে ভেঙে দেন স্টাম্পা। ৫০ রান করে আউট পেরেরা। বাংলাদেশ পায় স্বস্তির ব্রেক থ্রু।  এরপর আর মাত্র ১ রান যোগ করেই সাকিবের বলে আউট লাকমল। ৩১৯ রানেই শেষ হয়ে যায় লঙ্কানদের দ্বিতীয় ইনিংস। সব মিলে ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও নায়ক সাকিব।

Share Button
Previous সংবিধান মানলে এত দুর্নীতি হতো না: বিচারপতি সিনহা
Next কিংবদন্তি গায়ক চাক বেরি মারা গেছেন

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply