বায়ুদূষণে দূষিত নগরীর তালিকায় পঞ্চম ঢাকা

বায়ুদূষণে দূষিত নগরীর তালিকায় পঞ্চম ঢাকা

ঢাকা ২৮ মার্চ ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ নগরীগুলোর তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে ঢাকার নাম। এ ছাড়া অ্যামোনিয়া দূষণে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী।

যুক্তরাষ্ট্রর মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বায়ুদূষণের জন্য দায়ী ওজোন, অ্যামোনিয়া, ফরমিক এসিড ও মিথানল- এই চার বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রার তথ্যর ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা করা হয়েছে।

গবেষকদের তালিকায় ‘বিশ্বে ভয়াবহ দূষিত বাতাসের নগর’ হিসেবে প্রথমেই রয়েছে থাইল্যাণ্ডের রাজধানী ব্যাংকক, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীনের রাজধানী বেইজিং। তালিকায় তৃতীয় স্থানে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস, চতুর্থ স্থানে ভারতের দিল্লি এবং পঞ্চম স্থানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে বলে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’ এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাসা, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের একদল গবেষকদের তিন বছরের বেশি সময় ধরে করা ওই গবেষণাপত্র মার্চে ‘অ্যাটমোসফেরিক কেমিস্ট্রি অ্যান্ড ফিজিক্স’ বা এসিপিডিতে প্রকাশিত হওয়ার পর পরিবেশ বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।

নাসার উপগ্রহ ‘অরা’য় স্থাপন করা ট্রপোসফেরিক ইমিশন স্পেকট্রোমিটার বা টিইএস যন্ত্রের মাধ্যমে ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয় এই গবেষণার তথ্য সংগ্রহর কাজ।

কোটি মানুষের বসবাসের স্থান বিশ্বের মেগাসিটিগুলোর ১৮টির প্রতিটিকে ১৬ দিন পর পর প্রায় একই স্থানীয় সময়ে অতিক্রম করে যায় অরার ট্রপোসফেরিক ইমিশন স্পেকট্রোমিটার বা টিইএস। এই পর্যবেক্ষণে বায়ূদূষণে চার বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা নির্ণয় করা হয়, যা একই সময়ে পৃথিবীর পরিবেশে সাথে সঠিকভাবে তুলনা করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফুসফুসের রোগসহ শ্বাসপ্রশ্বাসের বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস সবচেয়ে বেশি দিল্লির বাতাসে; যা স্বাভাবিক ক্ষতিকর মাত্রার থেকে ৭৩ দশমিক ৩ ভাগ বেশি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকার বাতাসে অ্যামোনিয়া রয়েছে স্বাভাবিক ক্ষতিকর মাত্রার থেকে ৫১ দশমিক ৬ ভাগ বেশি। আর তৃতীয় স্থানে থাকা কলকাতার বাতাসে অ্যামোনিয়ার এই মাত্রা ৪৭ দশমিক ১ ভাগ বেশি।

খোলা স্থানের মলমূত্র ও কৃষিকাজে ব্যবহার করা সার থেকে সৃষ্ট অ্যামোনিয়া বাতাসে মিশে বায়ুবাহী ক্ষতিকর কণা তৈরি করে, যাতে হতে পারে ফুসফুসের রোগ। ওজোন গ্যাস দূষণে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি, যেখানে প্রতি একক আয়তনে ৩২ দশমিক ২ পার্টস বিলিয়ন ওজোন গ্যাস রেকর্ড করেছেন গবেষকরা। ঢাকায় করাচির প্রায় অর্ধেক পরিমাণে ( ১৭.১ পার্টস পার বিলিয়ন) ওজোন রয়েছে।ওজোন গ্যাস সাধারণত ট্রপোস্পিয়ার অঞ্চলে পাওয়া যায়। গ্রিন হাউসের অন্যতম এই উপাদান বায়ুমণ্ডলের স্তর ভেদ করে সূর্যালোক সরাসরি পৃথিবীতে আসতে দেয়। ভূ-উষ্ণতার জন্য অন্যতম গ্যাস হিসেবেই ওজোনকে দেখা হয়।

মূল প্রতিবেদনে ১৮টি মেগাসিটির মধ্যে উদাহরণ হিসেবে নাইজেরিয়ার রাজধানী লাগোস ও মেক্সিকো শহরকে তুলে আনা হয়েছে।

 

 

Share Button
Previous সেটেলমেন্ট অফিসে তালা দিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা
Next জার্মানির জাদুঘর থেকে ১০০ কেজির এক স্বর্ণমুদ্রা চুরি

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply