উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট দিন : ফরিদপুরে প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট দিন : ফরিদপুরে প্রধানমন্ত্রী

ফরিদপুর ৩০ মার্চ ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশে উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে লুটপাট, দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং হয়। তাই দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে ২০১৯ সালের নির্বাচনে সবাইকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে।
ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে বৃহস্পতিবার জেলা আওয়ামী আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ছাত্রছাত্রী তাদের কাজ পড়ালেখা শেখা। সবাইকে জঙ্গি, মাদকসেবন, সন্ত্রাসের পথ পরিহার করতে হবে। বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে প্রশাসনের লোকসহ সবার কাছে আমার আহ্বান থাকবে একটি ছেলেমেয়েও যাতে জঙ্গি-সন্ত্রাসের পথে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বেলা ৩টা ১০ মিনিটে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে পৌঁছেন। এরপর ফরিদপুরের উন্নয়নে ৩১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। এ সময় ফরিদপুরাসীর প্রাণের দাবি বিভাগ বাস্তবায়নের ব্যাপারে ঢাকা বিভাগ থেকে আলাদা করে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জকে নিয়ে একটি বিভাগ করার ঘোষণা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের জন্য আজ অনেক উপহার নিয়ে এসেছি। আট বছর আগে এই রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে শেখ হাসিনা নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন। সে কথাও স্মরণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা এই ফরিদপুর চিরদিন অবহেলিত ছিল। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল এই এলাকার কোনো উন্নয়ন তারা করেনি। বরং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এই ফরিদপুরের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে। এই বাংলাদেশের মানুষ যখন নৌকায় ভোট দেয়, তখন কিছু পায়। ১৯৪৮ সাল থেকে যে ভাষা আন্দোলন বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন, ’৫২ সালে রক্ত দিয়ে ভাষার সে মর্যাদা আমরা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। এরপর বাংলাকে এ দেশের রাষ্ট্র ভাষা করা হয়েছিল। ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগই এ দেশে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দিয়েছিল। ’৭০-এর নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল বলেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অবস্থা কী ছিল? সেখানে কোনো রিজার্ভ মানি ছিল না। খাদ্য ছিল না। চিকিৎসার সুযোগ ছিল না। এমনি একটি পরিস্থিতিতে ক্ষমতা গ্রহণ করে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে পরিত্রাণ পেতে সোনার বাংলা গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। মানুষকে অর্থনৈতিক উন্নতির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেয়া হয়নি। এরপর বাংলাদেশে কী হয়েছিল? হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশকে এভাবে ভিন্ন পথে নিয়ে যাওয়া হয়। সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশ বছর পর ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসে। আমরা ক্ষমতায় এসেই এ দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ শুরু করি। এ দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলি। বর্গাচাষি কৃষকদের বিনা জামানতে ব্যাংক ঋণ দিই। এ দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আমরা কাজ শুরু করি। কিন্তু এরপর আবার এ দেশের মানুষের মধ্যে অমানিশার অন্ধকার নেমে আসে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কী অত্যাচার নির্যাতন এ অঞ্চলের মানুষের ওপর হয়েছিল তা আপনারা জানেন। পুরো বাংলাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল তারা। ফরিদপুরের মো: পাঞ্জু মোল্যা, টুকু মোল্যা, সাহেব আলী, বিশ^জিত গুপ্ত নাথু, আমীর আলী, তপন ভট্টাচার্য্যসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষকে তারা হত্যা করে। হিন্দুদের মন্দিরে ভাঙচুর করে। তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সেই সময় দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছিল। বাংলা ভাই সৃষ্টি করেছিল। আমার মনে আছে এই ফরিদপুরে বিএনপির অত্যাচারে আমাদের এই অঞ্চলের নেতা হাসিবুল হাসান লাবলু ২০১০ সালে মৃত্যুবরণ করে। এখানেই তারা থেমে থাকেনি। আন্দোলনের নামে তাদের অত্যাচার নির্যাতন চলতে থাকে। ২০১৩ সালে তারা কিভাবে অত্যাচার নির্যাতন করেছে এ দেশের মানুষের ওপর। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে তারা ছিনিমিনি খেলেছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদে আগুন দিয়েছে। শত শত কুরআন পুড়িয়েছে। এই তিন বছরে ৫০৮ জনকে আগুনে পুড়িয়ে তারা হত্যা করেছে। যে ৯২ দিন অবরোধ ডেকেছিল, সেই অবরোধ তো খালেদা জিয়া এখনো তুলেনি। বোধহয় ভুলেই গেছে। আন্দোলনের নামে এ সময় তারা তিন হাজার ৩৬ জনকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। আমরা টাকা পয়সা দিয়ে গাড়ি কিনি যাতে সাধারণ মানুষ চলাফেরা করতে পারে। আর তারা আন্দোলনের নামে তিন হাজার ৯২টি গাড়ি পুড়িয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ক্ষমতায় থাকলে দেশে দুর্নীতি লুটপাট, মানিলন্ডারিং হয়। ’৮১ সালে জিয়া মারা যাওয়ার পর ৪০ দিন টেলিভিশনে ভাঙা স্যুটকেস দেখানো হয়েছিল। এরপর সেই ভাঙা স্যুটকেস থেকে কী বের হলো? টাকা পয়সা, লঞ্চ। এমনকি জিয়ার ছেঁড়া গেঞ্জির বদলে সেখানে থেকে খালেদা জিয়ার ফ্রেঞ্চ শিফনের শাড়ি বের হলো।
সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী তার বক্তব্যে ফরিদপুরকে বিভাগ ও সিটি করপোরেশন করার দাবি জানান।

Share Button
Previous শিশুর পরিচর্যা ও প্রতিপালন
Next বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

You might also like

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন

ঢাকা ২৩  মে ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):পবিত্র ওমরা পালন শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । মঙ্গলবার রাতে দেশের উদ্দেশে জেদ্দা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। রাত দেড়টায় তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

জাতীয়

সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

১৫ মার্চ ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ হাওর অঞ্চলের বিত্তবানদের সাধারণ জনগণ, বিশেষত সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের প্রতি মানবতার এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।খবর বাসসের মঙ্গলবার জেলার অষ্টগ্রাম

জাতীয়

নোয়াখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৪ জানুয়ারি ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): নোয়াখালীর মানুষকে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সংকট থেকে মুক্তি দিতে নোয়াখালী খাল সংস্কার ও পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খালটির উদ্বোধনীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হোয়াংহো আর চীনের

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply