হেসেখেলেই জিতল শ্রীলঙ্কা

হেসেখেলেই জিতল শ্রীলঙ্কা

৫ এপ্রিল ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):  ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সঙ্গে বাংলাদেশ এখনো নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগে পাঁচ সাক্ষাতে মাত্র একবার জয়ের দেখা পেয়েছে টাইগাররা। তবে অতীত আর বর্তমানে যে বেশ তফাৎ রয়েছে টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজে ইতোমধ্যেই ক্রিকেটবিশ্বকে সেটি বুঝিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

এবার টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ দেয়ার পালা মাশরাফি-সাকিবদের। মঙ্গলবার কলম্বোতে সেই লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছে লাল সবুজের জার্সিধারীরা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে হার দিয়ে শ্রীলঙ্কা সফর শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর দাপটের সঙ্গেই দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা ফেরায় মুশফিকের দল। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে পরের দুটি ম্যাচে যথাক্রমে বৃষ্টি ও শ্রীলঙ্কা জয় পেলে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান যেখানে বিবর্ণ সেখানেই দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী দলটি সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটি থেকে সিরিজ জয় করে ফিরেছে। কলম্বোতে তাই কঠিন সময়ই অপেক্ষা করছে টাইগারদের সামনে।টস জেতার পর পরই বৃষ্টি এলে খেলা মাঠে গড়াতে বিলম্ব হয়।

মঙ্গলবার দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে লঙ্কানদের সামনে ১৫৬ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে মাশরাফির দল। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কা সিরিজ শেষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেয়া মাশরাফি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে তামিমকে হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। তবে এরপর সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। এই দুজন ২৯ বলে ৫৭ রানের ‌’ঝোড়ো’ জুটি গড়লে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। তবে দ্রুত সাব্বির ও সৌম্যকে ফিরিয়ে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে শ্রীলঙ্কা। এরপর দ্রুত মুশফিক ও সাকিব আউট হয়ে ফিরলে বেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে টাইগার শিবির। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেকের ব্যাটে লড়াই করার পুজিঁ পায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হয়ে মোসাদ্দেক ৩৪*, মাহমুদউল্লাহ ৩১ ও সৌম্য সরকার করেন ২৯ রান। তামিম (০), মুশফিক (৮), ও সাকিব (১১) ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেন। মাশরাফি ৫ বলে ৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

শ্রীলঙ্কার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন লাসিথ মালিঙ্গা ও  একটি করে উইকেট নেন ভিকাম সঞ্জয়া, আসেলা গুনারত্নে ও সেকুগে প্রসন্ন।

মুটিয়ে গেছেন, বয়স হয়েছে- এমন কথা অনেক শুনতে হয়েছে মালিঙ্গাকে। তবে বোলিংয়ে যে ধার কমেনি সেটি ইনিংসের প্রথম ওভারেই প্রমাণ করলেন এই পেস-ব্যাটারি। ইনিংসের প্রথম বলেই দারুণ সুইং দিয়ে তামিমকে স্বাগত জানান মালিঙ্গা। তবে দ্বিতীয় বলের কোনো জবাবই যেন জানা ছিল না তামিমের। মালিঙ্গার বুলেটগতির সুইং বল এই বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক দিয়ে সরাসরি মিডল স্টাম্পে আঘাত হানে। উল্লাসে ফেটে পড়েন কলম্বোর প্রেমাদাসার স্বাগতিক দর্শকরা।

তামিম ফিরে যাওয়ার পরও বাংলাদেশকে পথ হারাতে দেননি সাব্বির ও সৌম্য। একের পর এক বাউন্ডারি বাউন্ডারিতে লঙ্কান বোলারদের কোণঠাসা করে ফেলেন এই দুজন। তবে এরপরই টাইগারদের ইনিংসে বড় ধরনের ধস নামে। ভিকাম সঞ্জয়ার করার ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে সেকুগে প্রসন্নর সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন সাব্বির। একই ওভারের পঞ্চম বলে মিডঅফে থিসারা পেরেরাকে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন সৌম্য।

দলের বিপর্যয়ের মুখে সাকিব ও মুশফিকের দিকেই তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে দুজনই সমর্থকদের হতাশ করেন। আসেলা গুনারত্নের করা নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে উইকেট বিলিয়ে সাজঘরে ফিরে বাংলাদেশকে আরো বিপদে ফেলে দেন মুশফিক। উইকেটরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে প্যাডল সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। কিছুক্ষণ পর পয়েন্টে গুনারত্নেকে ক্যাচ তুলে দিয়ে মুশফিককে অনুসরণ করেন সাকিব।

৮২ রানে নেই ৫ উইকেট। বেশ চাপের মুখে বাংলাদেশ। তবে ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক মিলে ৪২ বলে ৫৭ রানের দায়িত্বশীল জুটি গড়ে বাংলাদেশকে কক্ষপথে ফেরান।

১৫৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে তাড়াহুড়ো না করে ধীর লয়ে ব্যাটিং শুরু করেন স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। ওপেনার কুশল পেরেরার ঝড়ো ফিফটি ৭৭ , উপুল থারাঙ্গা ২৪  ও  গুরুনাত্নের  ১৭ রানের উপর ভর করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় লঙ্কানরা।

টাইগারদের হয়ে তারকা পেসার মাশরাফি-বিন-মর্তুজা ছাড়া কেও সফল হতে পারেন নি। তিনি একাই নিয়েছেন দুটি উইকেট।

বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ।

শ্রীলঙ্কার একাদশ: উপুল থারাঙ্গা (অধিনায়ক), দিলশান মুনাবিরা, কুশাল পেরেরা, লাথিস মালিঙ্গা, নুয়ান কুলাসেকারা, ভিকুম সঞ্জয়, মিলিন্দা সিরিবর্ধানে, আসেলা গুনারত্নে, সেকুগে প্রসন্ন, চামারা কাপুগেদারা ও থিসারা পেরেরা।

Share Button
Previous বিষাক্ত গ্যাস হামলায় নিহত ৫৮ সিরীয় নাগরিক
Next কুমিল্লায় বিএনপির প্রার্থী যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছে : খালেদা

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply