হালখাতা করবে এনবিআর

হালখাতা করবে এনবিআর

ঢাকা ৫ এপ্রিল ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): বকেয়া রাজস্ব সংগ্রহে এ বছর প্রথম বারের মতো সারা দেশে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে হালখাতা করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বৈশাখ মাসজুড়ে দেশের সকল আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট কমিশনার কার্যালয়ে এ হালখাতার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

বুধবার এনবিআর কার্যালয়ে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বকেয়া আদায়ে আমরা এবার নতুন পরিকল্পনা নিয়েছি। নববর্ষ উপলক্ষে এবার হালখাতা করা হবে। এর অংশ হিসেবে পয়লা বৈশাখের আগের দিন চৈত্র সংক্রান্তিতে করদাতাদের মিষ্টিমুখ করানো হবে। এটি হবে মূলত বকেয়া আদায় নয়, বকেয়া পরিশোধ।’

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখন এনবিআর বিভিন্ন উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে কাজ করছে। গণমাধ্যম এনবিআরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় এনবিআরের রাজস্ব যাত্রা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। ভবিষ্যতে সিনিয়র সংবাদকর্মীদের রাজস্ব যাত্রায় সঙ্গী করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘চলতি বছর এনবিআর নতুন একটি উদ্ভাবনী চিন্তা করেছে। আমাদের উদ্দেশ্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা, বকেয়া পাওনা থাকে সম্মানজনক পরিবেশে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া। হালখাতার মাধ্যমে বকেয়া আদায় নয় পরিশোধ করার সুযোগ তৈরি করা হবে।’

নজিবুর রহমান বলেন, ‘সারা দেশে রাজস্ব সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। মানুষ আগ্রহী হয়ে কর দিচ্ছেন। ই-টিআইএন ২৮ ইতিমধ্যে উন্নীত হয়েছে। যদিও ৩০ জুন পর্যন্ত ২৫ লাখ করার কথা ছিল। এসব সম্ভব হয়েছে এনবিআরের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর অব্যাহত সহযোগিতার ফলে।’

নতুন ভ্যাট আইন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নতুন ভ্যাট আইন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে বির্তক প্রতিযোগিতা হয়েছে। আগামীতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে বির্তক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।’

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘সকল ক্ষেত্রে করদাতাবান্ধব, জনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আইনগত সংস্কার করা হচ্ছে। নতুন কাস্টমস আইন হয়েছে, প্রত্যক্ষ আয়কর আইন করা হয়েছে। আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগ ডিজিটাল হচ্ছে। এনবিআরের প্রথগত যে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা ছিল তা আমরা কাটিয়ে উঠছি।’

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে এনবিআর এখন ইউনিয়ন পর্যন্ত গিয়েছে। ইউনিয়ন, উপজেলা ও মিউনিসিপ্যাল সেন্টার ব্যবহার করে রাজস্বের ক্ষেত্রে এনবিআর ব্যাপক কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘এনবিআরের ওয়েবসাইট, ফেসবুক, টুইটার দেখলে দেখা যাবে এনবিআরের পরিধি কত বিস্তৃত হয়েছে। ডিজিটাল প্লার্টফর্ম ব্যবহার করে এনবিআর এগিয়ে যাচ্ছে। এনবিআরের এখন লক্ষ্য ইয়াং জেনারেশনের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে তোলা। ইয়াং জেনারেশন ভ্যাট চেকার নামে ভ্যাট ফাঁকি রোধ অ্যাপস তৈরি করেছে। এটুআই ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে ইয়াংদের সঙ্গে পার্টনারশিপ করা হবে। ইয়াং জেনারেশন এনবিআরের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবে। তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইয়াং জেনারেশন ডোর টু ডোর গিয়ে জনগণকে কর বিষয়ে সচেতন করবে।’

এনবিআর চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে প্রাক-বাজেট আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য (মূসক নীতি) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, পারভেজ ইকবাল (করনীতি), লুৎফর রহমান (শুল্কনীতি), ইআরএফের সভাপতি সাইফ হোসেন দিলাল ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানসহ ইআরএফফের সদস্যরা।

Share Button
Previous সিটিং সার্ভিস বন্ধের উদ্যোগ, বাড়বে না বাস ভাড়া
Next ফেসবুক বন্ধ করা সম্ভব নয়: তারানা

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply