গ্রাহক তথ্য চলে যাবে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কাছে!

গ্রাহক তথ্য চলে যাবে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কাছে!

৬ এপ্রিল ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):  বারাক ওবামার সময়কালে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গ্রাহক-গোপনীয়তা অক্ষুণ্ন রাখার নিয়ম থাকলেও গত সোমবার এ নীতি বাতিল করে একটি নতুন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ আদেশ কার্যকর হলে দেশটির ব্রডব্যান্ডসহ সব ধরনের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও তা বিক্রির সুযোগ পাবে। ওবামার সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন্স কমিশন (এফসিসি) ‘ইন্টারনেট প্রাইভেসি প্রোটেকশন্স (আইপিপি)’ শীর্ষক একটি রুল জারি করে। আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপরীত নীতিসংবলিত একটি কংগ্রেস রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেছেন। ফলে দেশটির ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গ্রাহকতথ্য সংগ্রহ ও এর ব্যবহার অনেক সহজ হয়ে গেল। এসব তথ্য সংগ্রহ ও তা ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন পড়লেও নতুন এ নিয়ম চালু হলে এ ক্ষেত্রে আর কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না। ফলে গ্রাহক তথ্যের অনৈতিক ব্যবহারের দায়ে শাস্তির শঙ্কায়ও ভুগতে হবে না ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
গত বছরের অক্টোবরে গ্রাহক-গোপনীয়তা রক্ষাবিষয়ক নিয়মটি চালু করে ওবামা প্রশাসন। শুরু থেকেই এ নিয়মের বিরোধিতা করে আসছিল ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের মতে, এ নিয়মের আওতায় ফেসবুক ও গুগলের মতো ওয়েবসাইটগুলো না পড়ায় একতরফাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে এটিঅ্যান্ডটি, ভেরাইজন, কমকাস্টের মতো ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে এর বিপরীত নীতি গ্রহণের কারণে ট্রাম্পকে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রশংসায় ভাসিয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানই।
তবে নতুন এ নীতির সমালোচনায় মুখর হয়েছেন গ্রাহক অধিকার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞরা। নতুন এ নীতি কার্যকর হলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই গ্রাহকের ব্রাউজিং হিস্ট্রিসহ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। এসব তথ্য তখন বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাছে বিক্রি করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
ভোক্তা অধিকার সম্পর্কিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান পাবলিক নলেজের নীতি ও আইন কর্মকর্তা ডালাস হ্যারিস জানিয়েছেন, গুগল ও ফেসবুক ছাড়া একজন ব্যক্তি চলতে পারে; কিন্তু বর্তমান সময়ে সমগ্র ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকা প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। এ কারণে নতুন এ নীতির কারণে গ্রাহক-গোপনীয়তার বিষয়টি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনলাইন গ্রাহকদের সুরক্ষা নয়, বরং কিছু পছন্দসই কোম্পানিকে সুবিধা দিতেই নিয়মটি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সাথে কাজ করব, যারা ওয়েবসাইটের বিষয়গুলো দেখে থাকে। আমেরিকানরা মনে করে, তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা আগের মতোই থাকা উচিত। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার ভেরাইজন, এটিঅ্যান্ডটিসহ বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এক বিবৃতিতে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে কাউকে দেবো না কিংবা বিক্রি করব না।

Share Button
Previous ‘ফিরো এসো মাশরাফি’ : নড়াইলে মানববন্ধন, অবরোধ
Next মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে করা সরকারের আপিল প্রত্যাহার

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply