তনু হত্যাকাণ্ড ও আমাদের নীরবতা : রাব্বুল ইসলাম খান

তনু হত্যাকাণ্ড ও আমাদের নীরবতা : রাব্বুল ইসলাম খান

১৭ এপ্রিল ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):

তনু হত্যাকাণ্ড ও আমাদের নীরবতা : রাব্বুল ইসলাম খান

ফেইসবুকে ভেসে বেড়ানো ঝালমুড়ি বিক্রির সাথে কাগজের চামচ হিসেবে তনুর একটি ছবিটি পাঠিয়েছেন আমার একজন প্রিয় মানুষ শ্রদ্ধেয় ইকবাল ভাই। তনু হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে তিনি আমাকে একটি লেখাও দিতে বলেছিলেন। আমার সাধারণ লেখাগুলোকে যখন কোনো অসাধারণ মানুষ গুরুত্ব দেন, তখন অবশ্যই ভালো লাগে। ইকবাল ভাই একজন সু-চিকিৎসক। ডাক্তার হিসেবে মানবিক বিষয়গুলো তাঁকে হয়তো একটু বেশিই স্পর্শ করে। অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করাই যার পেশা, তিনি একজন সুস্থ মানুষের অপমৃত্যু দেখলে এবং সেই মৃত্যুর বিচার না হতে দেখলে ক্ষুব্ধ হবে, ব্যথিত হবেন—সেটিই স্বাভাবিক। ইকবাল ভাই গতকালই তাঁর নিজের টাইমলাইনেও লিখেছেন,

“তনু হত্যার এক বছর হলো। কারো মুখে উচ্চবাচ্য নেই। বড় পত্রিকাতেও সংবাদ নেই। ক্যান্টনমেন্টের মতো স্থান নিরাপদ নয়, ধর্ষণ করার পর হত্যা! এটি কি এতই সহজ ব্যাপার? একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্র ঠিক কোন পর্যায়ে গেলে এ ধরণের ভয়ংকর জঘন্য অপরাধগুলো ডাল ভাত হয়ে যায়, জানি না। একটি দেশ চেতনার ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতা কতটা হাই থাকলে এইসব অপরাধী নিয়ে কথা বলা নিষেধ?”

ইদানিং একটি কথা চালু হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথা বা ব্যক্তি বা বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলে তখন বলা হয়, “মুড়ি কিনে খাক।” তাচ্ছিল্য মেশানো এই কথাটি বোধহয় রাষ্ট্রই আমাদের শিখিয়েছে। এই ছবিটিও বোধহয় যথার্থভাবে সেটিই প্রমাণ করে! তাই তনুর মৃত্যু এবং এর বিচার যারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করেন, তাঁরাও মুড়ি কিনে খেতে পারেন। এতে মিডিয়া বা রাষ্ট্রের কিছু যায়-আসে না!

ইকবাল ভাই মন্তব্যের মধ্যে আরও লিখেছেন, “আমরা তাহলে মুড়ির খোঁজে বের হই।”
তাতেই বা কার কী যায় আসে? তেলবাজ মিডিয়া আর যাদেরকে তেল মারা, এই দুই শ্রেণিই তো মনে করেন যে, তারা কেয়ামত পর্যন্ত এভাবে একইরকম থেকে যাবেন! অতএব বাকিদের যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন।

গতকাল ২০ মার্চ ছিল তনুর মৃত্যু দিবস। অনেক কিছুই ‘গত’ হয়ে যাওয়ার তালিকায়। আমরা যেহেতু উন্নয়নের মহাসড়কে দ্রুত গতিতে শুধু সামনে এগিয়ে যাচ্ছি, তাই তনু হত্যারও এক বছর গতকাল নিরবেই গত হয়ে গেল! কিন্তু এমন অনেক বড় বড় ‘গত’, মানুষের মনে অনেক বড় বড় ‘ক্ষত’ সৃষ্টি করে রেখে যাচ্ছে। যাদের ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে না বা ব্যাথা লাগছে না, তাদের শরীরে পলিটিক্যাল-এনেসথেসিয়া দেওয়া। এই পলিটিক্যাল এনেসথেসিয়ার প্রভাব কেটে গেলেই ব্যাথা শুরু হবে! সেই ব্যাথা অনেক তীব্র হতে পারে। সেই ব্যাথ্যার যন্ত্রণা অসহনীয় মাত্রার হতে পারে!

Share Button
Previous সিরিয়ায় বাসে হামলা: নিহতদের ৮০ জনই শিশু
Next ইলিয়াস গুম ইস্যু আন্তর্জাতিক পর্যয়ে নিতে হবে: ফখরুল

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply