বৈশাখ তুমি কার? *আতিক হেলাল

বৈশাখ তুমি কার? *আতিক হেলাল

ঢাকা ২০ এপ্রিল ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):  বৈশাখ তুমি কার? / আতিক হেলাল > পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ বাংলাদেশের একটি সার্বজনিন উৎসব, এতে কোনো সন্দেহ নেই। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সর্বস্তরের মানুষের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই বৈশাখী উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে আবহমান কাল থেকে। এক্ষেত্রে গ্রাম-গঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হালখাতা খুবই জনপ্রিয় একটি অনুষঙ্গ ছিলো বৈশাখে।হালখাতা মানে নতুন খাতা। দোকানের বাকির খাতা হালনাগাদ করে নতুন খাতা খোলার এই বিশেষ ব্যবস্থাকেই বলা হতো হালখাতা।সবচেয়ে বড় কথা, হালখাতা মানেই মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো ক্রেতাসাধারণকে।ক্রেতার সাথে যারা যেতো, অর্থাৎ ছোট ছেলেমেয়েদেরকেও আদর করে মিষ্টি খেতে দেয়া হতো।সেই কারণে গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি বাড়ির শিশু-কিশোর ছেলেমেয়েরাও সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো এই পহেলা বৈশাখের জন্য।কিন্তু, বর্তমানে নাগরিক বণিজ্যের প্রসারের সাথে-সাথে আমাদের সেই মধুর হালখাতাও যেন হারিয়ে যেতে বসেছে।সেইদিক বিবেচনায়, আমাদের আবহমান গ্রামবাংলার পটভূমিতে সেই চিরচেনা পহেলা বৈশাখ আজ কিছুটা হলেও তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও আবেদন হারিয়েছে বললে অত্যুক্তি হবে না।
তবে, নাগরিক-সমাজে সাম্প্রতিক কালে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষকে সকলের, সার্বজনিন উৎসব বলে অনেক জোরেসোরে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে, তার-স্বরে প্রচারও করা হচ্ছে। অন্যদিকে আবার, শুধু কয়েক লাখ সরকারী চাকরিজীবীকে বৈশাখী বোনাস দিয়ে এটাকে শুধু গুটিকয় সুবিধাপ্ররাপ্তদের আনন্দ-উত্তেজনা হিশেবে গণ্য করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ কোটি-কোটি ‘বেসরকারী’ মানুষকে এই উৎসব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সারাদেশের কৃষক-শ্রমিক, পেশাজীবী জনতাকে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। উপরন্তু, কিছু মানুষকে বিশেষ ভাতা দিয়ে বাজারে আরেক দফা আগুন জ্বেলে সরকারী-বেসরকারী নির্বিশেষে সবার জীবনকেই আধিকতর দুর্বিষহ করা হয়েছে। বোনাস-ভাতা খুশির বিষয়, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে বঞ্চিত করে এটা কিসের প্রণোদনা? এটা কার পুরস্কার, কেমন পুরস্কার?
সংগত কারণেই তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির প্রশ্ন : বৈশাখ তুমি কার? নববর্ষ তুমি কার? বৈশাখী ভাতাপ্রাপ্ত বিশেষ নাগরিকরাই কি তাহলে পালন করবে বৈশাখী উৎসব? সাধারণ জনতা কিভাবে, কী দিয়ে পালন করবে এটা? আর যদি তাদেরকে পয়সা ছাড়াই পালন করতে বলা হয়, তাহলে এই বিশেষ বৈশাখী বোনাসের আওয়াজই বা কেন দেয়া হলো?
জনসাধারণকে বাদ রেখে কাদের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা? এতে তো ‘সরকারীভাবেই’ দেশের বেশিরভাগ মানুষকে ‘বেসরকারী পাবলিক’ করে রাখা হলো! এমন অবহেলা নিয়ে তাহলে কোন আনন্দে এই জনগণ নববর্ষ উদযাপনে শামিল হবে, সেটা কি বড় প্রশ্ন নয়?

Previous আযান বিতর্কে নিজেই ন্যাড়া হলেন সোনু নিগম
Next অত্যাচার-নির্যাতনমুক্ত বাংলাদেশ আমরা গড়বই : ড. কামাল

About author

You might also like

কলাম ০ Comments

অভিমানী লাকীর গানগুলো কী বলে গেলো / *আতিক হেলাল

ঢাকা ১ মে ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): *আতিক হেলাল : “আমায় ডেকো না.. ফেরানো যাবে না ফেরারী পাখিরা কুলায় ফেরে না ।। বিবাগী এ মন নিয়ে.. জন্ম আমার যায় না বাঁধা আমাকে কোন

কলাম ০ Comments

ঘূর্ণাবর্তের ঘূর্ণিপাকে মধ্যপ্রাচ্যের ঘুরপাক

জাফর পাঠান : ১২ জুন ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক ঘূর্ণিপাকের ‘সৃষ্টিকারী’, ‘সহযোগীতাকারী’ এবং ‘ইন্ধনদানকারী’, সবাই এক খুরে মাথা কামালেও উদ্যেশ্যের পার্থক্য বিদ্যমান। দূর মহাদেশে বসে দাবার ঘুঁটি চাল দিয়ে যাচ্ছেন

কলাম ০ Comments

কওমি সনদের স্বীকৃতি : পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক

ঢাকা ১৩ এপ্রিল ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): অধ্যাপক তোহুর আহমদ হিলালী :  ১১ই এপ্রিল ২০১৭ গণভবনে আল্লামা শফির নেতৃত্বে বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের এক সমাবেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণদেরকে মাস্টার্সের

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply