স্কিন ইনফেকশন থেকে রক্ষা পাবেন কিভাবে

স্কিন ইনফেকশন থেকে রক্ষা পাবেন কিভাবে

৩ মে ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):  বাংলাদেশের জনসাধারণের মধ্যে চর্মজনিত সমস্যা খুব বেশি। এর কারণ হলো স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব। কী কারণে রোগটি হচ্ছে যদি সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় তাহলে চর্মের বিরক্তিকর অনেক সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

টিনিয়া পেডিস
ট্রাইকোফাইটন রুব্রাম এবং ট্রাইকোফাইটন মেনটাগরোফাইট নামক ছত্রাক এ চর্মরোগটি ঘটিয়ে থাকে। যেসব স্থানে লোকজন খালি পায়ে হাঁটে সেখানে সংক্রমণের মাত্রা বেশি পরিলক্ষিত হয়। জিমনেশিয়াম, সুইমিংপুল কিংবা একই বাথরুম অনেকে ব্যবহার করলে এ ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ক্ষেত্রে আঙুলের খাঁজগুলোয় প্রদাহসহ চুলকানি হয়। স্থানগুলো ভেজা থাকে। সাধারণত আঙুলগুলোর মধ্যবর্তী পাতলা সংযোজক ত্বক, পায়ের পাতার পার্শ্ববর্তী এলাকা, পায়ের চতুর্থ ও পঞ্চম আঙুলের মধ্যবর্তী স্থান আক্রান্ত হয়। ফুসকুড়ি কিংবা ঘা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মামড়িও থাকতে পারে। ত্বক খুব বেশি শক্ত হতে পারে আবার নাও হতে পারে। সংক্রমণ কেবল ত্বকের টিস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। গরমে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তা আঙুলের নখে ছড়াতে পারে। ফলে পায়ের বিকৃত গঠন ও নখ পুরু হতে পারে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে যথাসম্ভব সতর্কতা নিতে হবে। যথাসম্ভব পা শুষ্ক রাখতে হবে। সুতির মোজা ও স্যান্ডেল ব্যবহার করতে হবে। জুতো না পরাই ভালো। শোষক পাউডার বেশ সহায়ক। পা সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। দিনে কমপক্ষে একবার ধুতে হবে এবং পুরোপুরি শুকাতে হবে। আঙুলগুলোর মধ্যবর্তী স্থানগুলো কখনোই ভেজা রাখা চলবে না। চর্ম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ছত্রাকবিরোধী ওষুধ খেতে হবে এবং চিকিৎসামাত্রা সম্পন্ন করার আগে তা বন্ধ করা যাবে না।

টিনিয়া করপোরিস
সাধারণত ছত্রাক সংক্রমিত জন্তু দ্বারা এ রোগ ছড়িয়ে থাকে, আবার মানুষের দ্বারাও ছড়াতে পারে। শিশু এবং বয়স্করা সমানভাবে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন অংশে সংক্রমণ দেখা দেয়। মাথায়, চিবুকে, মুখমণ্ডলে, গলা কিংবা পিঠেÑ মোটামুটি শরীরের যেকোনো অংশে এ চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। উপসর্গ হিসেবে উঁচু ঘা, মামড়ি কিংবা গোলাকার ঘা দেখা যায়। আকৃতি দেখতে রিংয়ের মতো। রিং আড়াআড়িভাবে হতে পারে এবং অনেকগুলো বৃত্ত সৃষ্টি করতে পারে। পুঁজপূর্ণ ফুসকুড়ি থাকে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে ছত্রাকবিরোধী মলম বেশ কাজ দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো ওষুধটির সঠিক মাত্রায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবহার। সাধারণত দুই সপ্তাহ ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। তবে যেসব রোগীর শরীরে দৌর্বল্যকর রোগ রয়েছে তাদের টিনিয়ে করপোরিস নির্মূল করা কঠিন ব্যাপার। এসব রোগীকে দীর্ঘদিন যেমন চার সপ্তাহ একটানা স্থানিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এতেও যদি সংক্রমণ চলে না যায় তাহলে মুখে ছত্রাকবিরোধী ওষুধও খেতে হবে।

টিনিয়া ক্রুরিস
সাধারণত মোটা লোকদের এবং যারা আঁটসাঁট পোশাক পরে থাকে কিংবা ভেজা কাপড় পরে থাকে তাদের এ রোগটি বেশি হয়। রোগের প্রাদুর্ভাব সাধারণত শরীরের দুই পাশে এবং এক লাইন বরাবর দেখা দেয়। জননাঙ্গের কাছের ত্বকে প্রদাহ হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে সচরাচর ঘটে অণ্ডথলির ত্বকে। পায়ু এলাকা, নিতম্ব এবং পেটে রোগটি বিস্তৃত হতে পারে। ত্বকে চুলকানি ও প্রদাহ থাকে। ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পুঁজ থাকে। আক্রান্ত স্থানটি লাল, এমনকি বাদামি হতে পারে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্থানিক ছত্রাকবিরোধী ওষুধ বেশ কার্যকর। ঘর্ষণ এবং চুলকানি এড়াতে রোগীকে ঢিলা পোশাক পরতে হবে। যদি আক্রান্ত স্থানে অতিরিক্ত রস ক্ষরণ হয় তাহলে শোষণক্ষম পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।

টিনিয়া ভার্সিকালার
পিটাইরোস পরাম অরবিক্যুলারি নামের এক ধরনের ছত্রাক এ রোগটির জন্য দায়ী। এ ক্ষেত্রে রোগীর বুকে, পিঠে কিংবা কেবল মুখে সাদা, তামাটে কিংবা বাদামি সমতল মসৃণ দাগ দেখা দেয়। মামড়ি থাকতে পারে, নাও পারে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের স্থানিক ছত্রাকবিরোধী ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে ছত্রাকটি স্বাভাবিকভাবে ত্বকে অতিরিক্ত পরিমাণ থাকে বলে বারবার এ চর্মরোগটি দেখা দেয়।

কিউটেনিয়াস ক্যানডিডিয়াসিস
এ রোগের জন্য ক্যানডিডা এলবিকান, যদিও অন্যান্য ক্যানডিডা শ্রেণী দায়ী হতে পারে।
সংক্রমণের স্থানের সাথে ক্যানডিডিয়াসিসের উপস্থিতির ভিন্নতা লক্ষণীয়। এটা সাধারণত উপস্থিত থাকে চর্মের ভাঁজের গরম ভেজা এলাকায়। স্থানটিতে লাল ক্ষত থাকে এবং চুলকানি হয়। ক্ষতের প্রান্তগুলোয় সাধারণত ছোট, লাল ফুসকুড়ি থাকে। ক্যানডিডিয়াসিস ঘটে বোগলে, স্তনের নিচে, কুঁচকিতে, পেরিনিয়ামে, নিতম্বের খাঁজে এবং হাত ও পায়ের আঙুলের মাঝে।
শিশুদের তোয়ালে জড়িয়ে রাখার ফলে যে লাল লাল ফুসকুড়ি ওঠে, ক্ষত ব্যাপক ছড়াতে পারে এবং মলদ্বারের চারপাশ, নিতম্বের খাঁজ, জননাঙ্গ, ঊরুর ভেতরের অংশ ও নিতম্ব এলাকা আক্রান্ত হয়। বৈশিষ্ট্যসূচকভাবে প্রদাহ উজ্জ্বল লাল হয়, চর্ম চকচকে দেখায় এবং সচরাচর ক্ষতে ফুসকুড়ি ও পুঁজপূর্ণ ফুসকুড়ি থাকে। ক্যানডিডাজনিত যোনিদেশের ওষ্ঠসমূহের প্রদাহ সচরাচর ঘটে মহিলাদের গর্ভাবস্থা ও গর্ভনিরোধক বড়ি অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে এবং ডায়াবেটিস মেলাইটাস থাকলে। এর প্রধান উপসর্গ হলো যোনি এবং তার ওষ্ঠের প্রদাহের সাথে সাদা কিংবা হলুদ নিঃসরণ। ফুলে যায় এবং পুঁজ বের হয়। নখের নিচে সংক্রমণ হলে নখশয্যা থেকে নখ আলাদা হয়ে যেতে পারে এবং নখের নিচের সাদা কিংবা হলুদবর্ণ দেখা যায়।
কিউটেনিওয়াস ক্যানডিডিয়াসিসে স্থানিক মনিলিয়াল বিরোধী ওষুধ ভালো কাজ করে। ক্যানডিডাজনিত যোনি ও যোনির ওষ্ঠের প্রদাহের চিকিৎসায় অ্যান্টিমনিলিয়াল ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট দেয়া যেতে পারে।

এটোপিক ডার্মাটাইটিস
এটোপিক ডার্মাটাইটিসের কারণ অজ্ঞাত। বংশগত ব্যাপার এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি অ্যালার্জিগত রোগের ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস থাকে।
এটোপিক ডার্মাটাইটিস সাধারণত শিশুদের হয়। এ ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল, মাথার চর্ম এবং হাত-পায়ে লাল পানিপূর্ণ কঠিন ক্ষত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় সাধারণত চুলকানি হয়। সন্তান বেড়ে ওঠার সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানের পরিবর্তন হয়। ৮-১০ মাস বয়সে যখন শিশুটি গুড়ি দেয়, বাহু ও পায়ের বাইরের স্তর আক্রান্ত হয় এবং বড় শিশু, তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে কনুইয়ের সামনের অংশ এবং হাঁটুর পেছনের অংশ এমনকি মুখমণ্ডল ও গলা আক্রান্ত হতে পারে। শুকনো ত্বক এই রোগের একটি বৈশিষ্ট্য।
দীর্ঘস্থায়ী, অনেক দিনের এটোপিক ডার্মাটাইটিসের ক্ষেত্রে কব্জি, গোড়ালি, হাঁটুর পেছন ভাগ এবং কনুইয়ের সম্মুখ ভাগে পুরু, খসখসে এবং অতিরঞ্জক চর্মের বিকাশ ঘটতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এটোপিক ডার্মাটাইটিসের রোগীর হারপিস সিমেপ্লক্স থাকলে ভয়াবহভাবে কাঁপিয়ে জ্বর আসে এবং সে ক্ষেত্রে সিস্টেমিক অ্যান্টিভাইরাল থেরাপির প্রয়োজন হয়।
এ রোগের চিকিৎসার প্রথম উদ্দেশ্য হলো শুষ্কতা ও চুলকানি কমিয়ে আনা। রোগীর গোসল সীমিত করতে হবে- বিশেষ করে শীতের মাসে এবং চর্মের শুষ্কতা দূর করতে চর্ম কোমল করে এমন পদার্থ ও পিচ্ছিল উপাদান ব্যবহার করতে হবে। কর্কশ, অমসৃণ কাপড় পরিহার করতে হবে এবং সেই সাথে ডার্মাটাইটিস (চর্মের প্রদাহ) কমাতে স্থানিক করটিকোস্টেরয়েড ও চুলকানি কমাতে মুখে খাবার অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহার করতে হবে।

কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস
এ রোগের কারণ হলো অ্যালার্জি উৎপাদক দ্রব্য কিংবা জ্বালাতনকর দ্রব্যের সংস্পর্শে থাকা।
উপসর্গ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। ত্বক লাল হতে পারে, পানি জমতে পারে এবং ফুসকুড়িসহ প্রদাহ হতে পারে। ডার্মাটাইটিস (চর্মের প্রদাহ) প্রথমে ঘটে ত্বকের যে জায়গাটি সরাসরি দ্রব্যের সংস্পর্শে আসে, পরে তা অন্যান্য এলাকায় ছড়াতে পারে।
ক্ষতিকর বস্তু সরিয়ে নেয়ার পর লাল রঙ সাধারণত মিলিয়ে যায় এবং ফুসকুড়ি ফেটে যায় এবং শক্ত দানা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন বস্তুগুলোর সংস্পর্শে থাকলে সংক্রমণ হয়ে থাকে।
জরুরি পরিস্থিতিতে ভেজা সেক ব্যথা এবং চুলকানি উপশম করতে পারে। তীব্র প্রদাহ কমানোর জন্য কখনো মুখে খাবার করটিকোস্টেরয়েড উপকারী। ডার্মাটাইটিস জরুরি না হলে এবং ফোস্কা মিলিয়ে গেলে স্থানিক করটিকোস্টেরয়েড উপকারী।

সোরিয়াসিস
সোরিয়াসিসের কারণ অজ্ঞাত। তবে এর সাথে বংশগত ব্যাপার জড়িত। কারণ সোরিয়াসিস সচরাচর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঘটে।
এটি চর্মের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা যা সাধারণত ১০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে ঘটে। তবে যেকোনো বয়সের রোগীকে আক্রমণ করতে পারে। সোরিয়াসিসে আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকে মামড়ি হয়। এই মামড়িগুলোতে ঘষা লাগলে খসে পড়ে এবং সাদা, ঝকঝকে অভ্রচূর্ণের মতো লাগে। মামড়ি ঝরে পড়লে বা সরিয়ে ফেললে নিচে যে ত্বক বেরিয়ে পড়ে তার রঙ হয় লালচে এবং তার মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তক্ষরণ ঘটতে দেখা যায়। সচরাচর এই রোগ দেখা দেয় কনুই, হাঁটু, নিতম্বের খাঁজ এবং মাথার ত্বকে। নখের রঙ হলুদ বর্ণের হয়। নখ বেঢপ হয়ে যায়। সেই সাথে নখের ওপর ছোটখাটো গর্ত দেখা যায়। আঘাতজনিত টিস্যুতে সোরিয়াসিস হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় শ্বাসতন্ত্রের উপরিভাগের অসুস্থতা এবং ফ্যারিংসে প্রদাহ দেখা দেয়।
সোরিয়াসিসের চিকিৎসা রোগে আক্রান্ত স্থান এবং এর তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। সীমাবদ্ধ ক্ষতের জন্য কেবল স্থানিক করটিকোস্টেরয়েড কিংবা কেরাটোলাইটিক এজেন্টের সাথে মিশ্রণ দেখা যায়। ব্যাপক সোরিয়াসিসের ক্ষেত্রে কেবল আলট্রাভায়োলেট-বি ব্যবহার করা যেতে পারে কিংবা কোলটারের সাথে অথবা এনথালিনের সাথে মিশিয়ে তা ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যান্য চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে সোরলেন ইউভিন, মেথোট্রিক্সেট এবং ইট্রোটিনেট।

একজিমা
একজিমা যেকোনো ত্বকের প্রদাহ থেকে হতে পারে।

হাতের একজিমা
হাতের এক কিংবা অন্যান্য চর্মরোগের সাথে একত্র থাকতে পারে। হাতের একজিমা শরীরগত কিংবা শরীরবহির্ভূত কারণের জন্য হতে পারে যেমন দীর্ঘ সময় পানি এবং ডিজারজেন্টে উন্মুক্ত থাকার ফলে হতে পারে। উপসর্গগুলোর মধ্যে ত্বকে শুষ্কতা, চুলকানি, ফাটল দেখা দেয়, ত্বক লাল হয়ে যায় এবং পানি জমতে পারে।
যে কারণে একজিমা হয়েছে তা বের করতে পারলে এবং ওই বস্তু পরিহার করলে পুনরায় রোগের আক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ত্বক কোমল করার উপাদান এবং স্থানিক গ্লুকোকরটিকয়েড সচরাচর ব্যবহার করা হয়। ভেজা সেক ব্যথা ও চুলকানি সারাতে সাহায্য করে। ঘরের কাজ করার সময় হাতে দস্তানা পরা উচিত।

নিউ ম্যুলার একজিমা
এর কারণ অজ্ঞাত। তবে শুষ্কতা এবং বাইরের অস্বস্তিকর দ্রব্য সম্ভবত এর জন্য দায়ী।
স্থানিক স্টেরয়েডে ভালো কাজ হয় না বলে কেউ কেউ অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন।
ইমপেটিগো
বিটা হেমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাই কিংবা স্টাফাইলোকক্কাস অরিয়াস জীবাণু এ রোগের জন্য দায়ী।
এ ক্ষেত্রে ত্বকে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং তা বড় পানিপূর্ণ ও পুঁজপূর্ণ হয়। দেখতে ফোস্কার মতো লাগে। ফুসকুড়ি এবং ফোস্কা ফেটে যায়। সেই সাথে শক্ত, গোল, মধুবর্ণের ক্ষত দেখা যায়। ক্ষত যেকোনো স্থানে হতে পারে তবে বেশি হয় মুখমণ্ডল, বাহু ও পায়ে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে।

স্ক্যাবিস
রোগের কারণ হলো সারকোপটেস স্ক্যাবি জীবাণু যা কেবল চর্মগর্তে দেখা যায়। সংক্রমণ প্রধানত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছড়ায়। এসব পরজীবী ক্ষুদ্র কীট আশ্রয় থেকে দূরে সরে গেলে দু-তিন দিনের বেশি বাঁচতে পারে না।
স্ক্যাবিসে তীব্র চুলকানি হয়, বিশেষ করে রাতে চুলকানি খুব বেড়ে যায়। চুলকানির ফলে নখের আঁচড়ে ফুসকুড়ি ওঠে, শরীরে লাল দানা সৃষ্টি হয়। একজিমা হতে পারে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। আঙুল, হাত, কনুই, বোগলের সামনের ভাঁজে, মহিলাদের স্তনবৃন্তে, পুরুষদের লিঙ্গে এবং অণ্ডথলিতে, নিতম্বে ও গোড়ালিতে চুলকানি হয়।
সঠিক পরজীবীনাশক ওষুধ ব্যবহার করে চিকিৎসা করা হয়। পারিবারিক সদস্যদের সবাইকে প্রয়োজনে চিকিৎসা করা হয়।
চর্মরোগ একজন রোগীর জন্য খুবই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগের জন্য কেউ কেউ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। চর্মরোগ দেখা দিলে তাকে মোটেই উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। আপনার নিজের কিংবা পরিবারের যে কারোরই হোক না কেন, প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ইমার্জেন্সি এবং সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি:, ২ ইংলিশ রোড, ঢাকা। ফোন : ০১৭১৬২৮৮৮৫৫

Previous ওষুধ খাওয়ার কথা ওষুধই মনে করিয়ে দেবে!
Next নোটিশ পেলে সামরিক চুক্তি সংসদে তুলব: প্রধানমন্ত্রী

About author

You might also like

স্বাস্থ্য ০ Comments

‘প্রাণ গোপাল দত্ত স্যার , এত অভিশাপ রাখবেন কই !’

ঢাকা ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): শিরিন সাবিহা তন্বী : ব্যাংকে গিয়েছিলাম একটু জরুরী কাজে।আমি ডাক্তার,বাবা ব্যাংকার শুনে মহা ব্যবস্থাপক সাহেব মহাখুশী।নিজে রুম থেকে এসে এক অফিসারকে আমাকে হেল্প করতে বললেন।আশাতীত আন্তরিকতার

স্বাস্থ্য ০ Comments

দুঃসহ গরমে শিশুকে নিরাপদে রাখুন

২৫ মে ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): দুঃসহ গরমে যে কোনো সময় শিশুরা অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের শরীরের তাপমাত্রাও বাড়তে থাকে। গরমে ঘেমে শিশুদের ঠাণ্ডা লেগে যায় এবং

স্বাস্থ্য ০ Comments

যেসব সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে

৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): আপনি সম্ভবত শুনে থাকবেন যে ভিটামিন বি শক্তি যোগায়, মেজাজ ঠিক রাখে বা উন্নত করে এবং ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে। কিন্তু ভিটামিন বি সাপ্লিমেন্ট যে

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply