খালেদার ভিশন-২০৩০ জাতির সাথে তামাশা : কাদের

খালেদার ভিশন-২০৩০ জাতির সাথে তামাশা : কাদের

ঢাকা ১১  মে ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): বিএনপির ভিশন-২০৩০ জাতির সাথে প্রতারণা ও তামাশা বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতির সামনে তাদের তথাকথিত ভিশন-২০৩০ উপস্থাপন করেছেন। খালেদা জিয়ার এই ভিশন একটি ফাঁকা প্রতিশ্রুতির ফাঁপানো রঙিন বেলুন; এই বেলুন অচিরেই চুপসে যাবে। জাতির সাথে একটি তামাশা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রকৃতপক্ষে বিএনপির ভিশন হচ্ছে হাওয়া ভবন বানিয়ে লুটপাট, দুর্নীতি আর এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার ভিশন।

বুধবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন।

বিএনপির ভিশন-২০৩০ ঘোষণা আওয়ামী লীগের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার নকল মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, নিজস্ব কোনো উদ্ভাবনী শক্তি না থাকায় এখন তারা আওয়ামী লীগের দেখাদেখি নানা ধরনের ভিশন নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হয়েছে। পরের মেধাসত্ব চুরি করা নৈতিক অপরাধ। এটা এক ধরনের রাজনৈতিক অসততা। একটি রাজনৈতিক দল কতটুকু দেউলিয়া হলে অপর একটি রাজনৈতিক দলের দেওয়া আইডিয়া এবং থট নির্লজ্জভাবে চুরি করতে পারে, নকল করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের পক্ষে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির সামনে ‘ভিশন-২০২১’ তথা রূপকল্প-২০২১ উপস্থাপন করেছিলেন। জনগণ ২০০৮ সালে নিরঙ্কুশভাবে শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘ভিশন-২০২১’ তথা ডিজিটাল বাংলাদেশের ওপর আস্থা স্থাপন করে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। শেখ হাসিনা শুধু কাগজে কলমে নয়, স্বপ্নে নয়, বাস্তব অর্থেই তার ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন করে চলছেন। যার প্রতিফলন দেশের আজকে সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম বাংলাদেশের এই অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। আমরা আশাবাদী, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অগ্রসরমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবো এবং ২০৪১ সালে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হব।

বিএনপির দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠনের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অবকাঠামো অন্যান্য দেশের তুলনায় ভিন্ন। এই ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের কথা জেনেও সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন করে কাকে খুশি করতে চান? কাদের বলেন, রাষ্ট্রপতিকে তিনি কি সম্মান করবেন। তার আমলে তো রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করা হয়েছিল, সেটা জাতি ভুলে যায়নি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির কাছে সততার বুলি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কথা শ্রবণ জাতির জন্য খুবই অপমানজনক। কারণ তাদের নেতা জিয়াউর রহমানই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর ইনডিমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশে বিচারহীনতার নজির স্থাপন করেছিল। স্বাধীনতার চেতনা জলাঞ্জলি দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের চরিত্র পরিবর্তন করেছিল। আজকে তারা ঠিক একই কায়দায় বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চায়। তিনি সংসদকে কার্যকর করার কথা বলেছেন, অথচ তিনি তো বিরোধীদলীয় নেতা থাকতে মাত্র ১০ দিন সংসদে গিয়েছিলেন। তার মুখে সংসদ কার্যকরের কথা মানায় না।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়া বরাবরের ন্যায় এবারও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন। তিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে আছেন এবং পক্ষেই থাকবেন। উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সাথে নিয়েই তারা রাজনীতি করবে। তাদের ভিশন যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার ভিশন, সন্ত্রাসবাদ কায়েমের ভিশন, দেশ বিক্রির ভিশন।

তিনি বলেন, বেগম জিয়া ‘ভিশন-২০৩০’ বলে যে কর্মপরিকল্পনার কথা বলেছেন এসবের অনেক কিছুই আওয়ামী লীগ আগেই তাদের দেয়া ‘ভিশন-২০২১’-এ রয়েছে। বিএনপির ভিশন যেমনই হোক এতে কোন নতুনত্ব নেই। বিএনপির মুখে কোন ধরনের ভিশনের কথা বিশ্বাস করার মতো বোকামী বাংলাদেশের জনগণ আর কোনো দিন করবে না।

Share Button
Previous প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার ঘোষণা খালেদার
Next সাজাপ্রাপ্ত সেই বিচারপতি ‌কারনান নিখোঁজ !

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply