কবি কাজী নজরুলের স্মৃতি কেন্দ্রে একদিন

কবি কাজী নজরুলের স্মৃতি কেন্দ্রে একদিন

মো.জাভেদ হাকিম, ঢাকা ২৭  মে ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি:
আমি আর মারুফ বাইকে চড়ে বিয়ের দাওয়াতে গিয়েছিলাম নেত্রকোণা। পথে পড়েছিল তারূণ্যের কবি কাজি নজরুলের ত্রিশাল। কবি সর্বদা তারূণ্যের শক্তি ছিলেন।তাঁর লেখা কবিতা, গল্প, গান ঝিমিয়ে পড়া তরূণ সমাজকে উজ্জীবিত করে। ১১ জৈষ্ঠ জাতীয় কবির ১১৮তম জম্ম বার্ষিকী। এবার সুযোগ পাওয়ায় আর হাতছাড়া করিনি।
ত্রিশালে কবি কাজী নজরুল ইসলাম ডাকবাংলো হতে একটু এগিয়ে কাজী নজরুল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক ধরে যেতে থাকি। অবশেষে পেয়ে যাই নামা পাড়া গ্রামের বিচুতিয়া বেপারীবাড়ীটি। বাড়ীর প্রবেশ মুখেই চির নিদ্রায় শায়িত আছেন মরহুম বিচুতিয়া বেপারী। সরকারী ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বাড়ীটি নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট তৎকালিন সরকারের মানীয় উপদেষ্টা বেগম রাশেদা কে. চৌধুরী কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন। নজরুল প্রেমিক ও সাধারণ দর্শনার্থীরা স্মৃতি কেন্দ্রের তৃতীয় তলায় অবস্থিত গ্যালারিতে কবির ব্যবহৃত তৈজষ পত্র ও তাঁর লেখা বিভিন্ন গল্প-কবিতার বই নেড়ে চেড়ে পড়ে বেশ আপ্লুত হন। বিশেষ করে দেয়ালে কবির বিভিন্ন কবিতার লাইন গুলো পড়ে দর্শনার্থীরা বেশ উজ্জীবিত হন। দর্শনার্থী খাতায় মন্তব্য করতে গিয়েত আমি কবিকে উদ্দশ্য করে কয়েক লাইন কবিতাও লিখে ফেলছিলাম।
২য় তলায় অফিস ও তথ্য কেন্দ্র এবং নীচ তলায় অডিটোরিয়াম। পুরো স্মৃতি কেন্দ্রটি সবুজে ঘেরা। রয়েছে ঘাটলা বাঁধা পুকুর,ফুটে থাকা নানান ফুলের সুভাষ। কবি ছনের তৈরী যে ঘরটিতে থাকতেন ঠিক সে জায়গাতেই এখন ব্যালকনি সহ সু-দৃশ্য একটি টিনের ঘর করা হয়েছে। সপ্তাহে একদিন সেই ঘরে ছোট ছোট বাচ্চাদের নজরুল সঙ্গীত চর্চা করানো হয়। বিচুতিয়াবাড়ী তথা নজরুল স্মৃতি কেন্দ্রটির বিশাল আঙ্গীনায় হরেক জাতের গাছের ছায়ায় আপনাকে বেশ পুলকিত করবে নিঃস্বন্দেহে।
আসান সোলের রুটির দোকানে সুশ্রী স্বান্ত স্বভাবের ভদ্র কিশোর নজরুলকে কাজ করতে দেখে ১৯১৪ সালে দারোগা কাজী রফিজ উল্লাহ ত্রিশাল নিয়ে আসেন। ভর্তী করিয়ে দেন দরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। কবি এখানে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। বর্ষা মৌসুমে দারোগা বাড়ী হতে স্কুলে আসা যাওয়ায় সমস্যা হওয়ায় কবি বিচুতিয়া বেপারী বাড়ীতে জায়গীর থাকেন।বর্তমানে স্কুলটি নজরুল একাডেমি নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম জম্ম গ্রহণ করেছিলেন ১৮৯৯ সালের ২৫ মে আর মৃত্যবরণ করেন ১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার,নাট্যকার ও অভিনেতা সহ অনেক প্রতিভার অধিকারী। এর পরেও তাঁর পরিচিতী একজন কবি হিসেবেই। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠার পরেও তিনি কখনো অন্যায়ের নিকট মাথা নত করেন নি। কবি সর্বদা জুলুম, নির্যাতনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন। যে কারণে তাঁকে বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে। তিনি আজীবন মজলুমের পক্ষে ছিলেন। কবিকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২৪ মে পুরো পরিবার সহ বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তাঁকে দেয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। কবি নজরুল ইসলামের শেষ দিন গুলো কেটেছে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। কবি মাত্র ৭৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকায় তাঁর বিশাল নামাজে জানায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটে।
খোঁজ খবরঃ-সপ্তাহের দুই দিন শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকে। এছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা হতে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত সবার জন্য উম্মুক্ত থাকে।
যোগাযোগঃ- ঢাকা মহাখালী বাস স্ট্যান্ড হতে ময়মনসিংহ গামী যে কোন বাসে চড়ে ত্রিশাল যেতে হবে। সেখান থেকে অটোতে যাওয়া যাবে।

Share Button
Previous বিয়ের আগে বাচ্চা নিতে রাজি শ্রুতি
Next বেছে বেছে হত্যার মাধ্যমে দেশকে গোরস্থান বানানো হচ্ছে : খালেদা

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply