তারা পালাবার সময় পাবে না, বেরুতেও পারবে না: খালেদা

তারা পালাবার সময় পাবে না, বেরুতেও পারবে না: খালেদা

ঢাকা ১২ জুন ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

রোববার গুলশানের ইমান্যুয়েল সেন্টারে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, সরকার চায় না বিএনপি নির্বাচনে আসুক। বিএনপি নির্বাচনে এলে তাদের যে কী পরিণতি হবে, তারা গোপন খবর নিয়ে জেনে গেছে, তাদের অবস্থান কত নিচে। সেটা তারা বুঝে গেছে। সেজন্যই তারা নানাভাবে হয়রানি করছে যাতে বিএনপি নির্বাচন না আসে, বিএনপির লোকজনকে কিভাবে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা যায়। আমি সুস্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, বিএনপিকে বাদ দিয়ে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। এদেশে নির্বাচন হবে সহায়ক সরকারের অধীনে, হাসিনার অধীনে নয়। এদেশে নির্বাচন হবেই হবে। তবে সেটা হবে সহায়ক সরকারের অধীনে। সেই নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করবে। আমরা চাই, সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হোক।

বৃটেনে সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা দেখেছেন বৃটেনে নির্বাচন হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তো ভয় পাননি, তিনি নির্বাচন দিয়েছেন। অথচ তিনি এবার কিছু কম পেয়েছেন সিট। তারপরও তিনি সাহস করে দিয়েছেন। সেইভাবে আজকে আওয়ামী লীগের যদি সামান্যতম সাহস থাকে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিক। কত অপকর্ম তারা ১০ বছরে করেছে এর হিসাব বিএনপি যদি ছেড়েও দেয়, জনগণের কাছে প্রতিটি জিনিসের হিসাব আছে।আমি বলছি, এই কয়েকটা মাস আছে। যত পারেন লুটে নেন- আপনাদের জেনারেল সেক্রেটারি (ওবায়দুল কাদের) যেভাবে বলছেন, যা পারেন লুটে নেন। বিদেশে যান নাহলে আর বেশি সময় পাবেন না। এখন সময় চলে যাওয়ার।

তিনি বলেন, এই ১০ বছরে তারা যত লুট করেছে, যত খেয়েছে। তাদের একেক জনের এতো ওজন বেড়েছে যে, গাড়িও তাদের টানতে পারবে কি-না জানি না। এরা জানে নির্বাচন করাতো দূরের কথা, তারা পালাবার সময় তো পাবে না, এরা বেরুতে পারবে না। সেজন্য তারা একতরফা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। নিজে স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সব জায়গায় যাচ্ছেন এবং নৌকা প্রতীকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপির ইফতার মাহফিলে পর্যন্ত বাঁধা দেয়া হচ্ছে।

‘ভিশন ২০৩০’ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ বলে এটা না-কি তাদের থেকে নিয়েছি। এরকম ভিশন তাদের নেই। তাদের আছে চুরির চিন্তা। আমাদের ভিশনের চুরির কোনো কথা নেই। কাজেই তাদের ভিশন আর আমাদের ভিশন এক হতে পারে না, আমাদের চিন্তা ও তাদের চিন্তা এক হতে পারে না।

মূলমঞ্চে এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানসহ প্রবীন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া।

 

Share Button
Previous ঘূর্ণাবর্তের ঘূর্ণিপাকে মধ্যপ্রাচ্যের ঘুরপাক
Next ৫টি বিমানে কাতারে খাবার পাঠালো ইরান

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply