ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করুন : ফখরুল

ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করুন : ফখরুল

পার্বত্য চট্টগ্রামসহ যেসব এলাকায় পাহাড়িধসে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে সেসব এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসাথে মানবিক বিপর্যয়ে হতাহতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের দাবিও করেছেন তিনি।

আজ সোমবার এক ইফতার অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যখন এখানে ইফতার করছি, তখন অনেক দূরে দেশের একদম দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের ভাই-বোনেরা খুব কষ্টে আছে, তাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে পড়ছে, আত্মীয়-স্বজনরা মারা গেছে। ভুমিধসে ১৭০ এর মতো মানুষ মারা গেছে। তারপরও দুঃখজনকভাবে সরকার কোনো রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেনি এবং এখনো ওই অঞ্চলটিকে উপদ্রুত এলাকা ঘোষণা করেনি।

তিনি বলেন, আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের যেসব অঞ্চলে ভুমিধস হচ্ছে-ওইসব এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা হোক এবং রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হোক।

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির সংস্কৃতি এমন একটা জায়গায় নিয়ে চলে গেছে আওয়ামী লীগ, যেখানে বাংলাদেশের যে মৌলিকত্ব সেই মৌলিকত্ব হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রহীন দেশে প্রকৃত সংস্কৃতি চর্চা হয় না। গণতন্ত্রহীন ও অধিকারহীন অবস্থার মধ্যে দেশ চলছে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে জাসাস এই সংস্কৃতিকে ধারণ করে তারা সত্যিকার অর্থেই দেশের মানুষের প্রকৃতি কৃষ্টি ও সংস্কৃতি চর্চা করবে এবং দেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেবে।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় বলছি, আমরা গণতন্ত্র চাই। এটা চাই বলেই আমরা সবসময় লড়াই করছি, সংগ্রাম করছি। গণতন্ত্র আওয়ামী লীগ সরকার হরণ করে নিয়ে গেছে। আমরা মনে করি একমাত্র সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সেটাকে ফিরিয়ে আনার দাবি আমরা জানাচ্ছি।

গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে ‘সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমত’ সৃষ্টির জন্য জাসাসের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের কাজ করার আহবান জানান তিনি।

গুলশানের ইমানুয়েলস কনভেনশন সেন্টারে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের উদ্যোগে এই ইফতার মাহফিল হয়।

পরে জাসাস সভাপতি অধ্যাপক মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আবদুস সালাম, তাহমিনা রুশদীর লুনা, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক এম এ মালেক, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, জাসাসের সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলামসহ জাসাস নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ইফতার করেন মির্জা ফখরুল।

জাসাস নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন- সহ-সভাপতি বাবুল আহমেদ, লায়লা খানম ঝুনু, মুনিরুজ্জামান মুনির, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, ওবায়দুর রহমান চন্দন, শায়রুল কবীর খান, মীর সানাউল হক, আহসান উল্লাহ, হাসান চৌধুরী, সিনিয়র নেতা জাকির হোসেন রোকন, শিবা সানু, হান্নান মাসুদ, মাসুদুর রহমান টিপু, দ্বীন মোহাম্মদ মিন্টু প্রমূখ ইফতারে অংশ নেন।

Share Button
Previous একই ধারাবাহিকে তারা চারজন
Next সংসদে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি: ক্রিমিনাল চার্জ আনার দাবি

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply