সুইস ব্যাংকে কারা টাকা রেখেছে, নাম প্রকাশ করুন : খালেদা

সুইস ব্যাংকে কারা টাকা রেখেছে, নাম প্রকাশ করুন : খালেদা

ঢাকা ২ জুলাই  ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকারের এত করুণ পরিণতি হবে, যে পরিণতি খুব ভালো হবে না। মানুষ সেই পরিণতিতে চোখের পানি যেভাবে অতীতে ফেলেনি, এবারো ফেলবে না; বরং উৎসব করবে কারণ তারা অন্তত জালেমদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। শনিবার রাতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম বানিয়ে বসে আছে। তিনি সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশী হিসাবধারীদের নামের তালিকা প্রকাশের দাবি জানান।
তিনি বলেন, এই বছরই সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কাগজে ছিল সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের লোকের বহু টাকা। বাংলাদেশকে গরিব দেশ বলা হয় অথচ বাংলাদেশের মানুষ সেখানে টাকা রাখছে। এই টাকাগুলো কাদের, এর নাম আমাদের দরকার। আমরা নাম জানতে চাই কারা, কে সুইস ব্যাংকে কত টাকা রেখেছে। এই সরকার যদিও অবৈধ তারা জোর করে মতায় বসে আছে তবুও আমি তাদের কাছেই দাবি করছি, এই সুইস ব্যাংকে কারা টাকা রেখেছে, কত টাকা রেখেছে তাদের নাম-ধামসহ হিসাবপত্র প্রকাশ করুন।
গুলশানে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ঘোষিত ‘প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ’ অভিযানের উদ্বোধন উপলে এই অনুষ্ঠান হয়। গতকাল শনিবার থেকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে এই কর্মসূচি চলবে।
কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় বেগম খালেদা জিয়া ১০ টাকার বিনিময়ে সদস্য রসিদে স্বার করে নিজের সদস্যপদ নবায়ন করেন। এরপর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাদের সদস্যপদ নবায়ন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দেিণর ছয়জন নতুন সদস্য ফরম সংগ্রহ করেন।
সর্বশেষ ২০১২ সালে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান হয়েছিল। দলের নেতারা জানান, আন্দোলনের কারণে পরে এই সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি করা যায়নি। অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, রুহুল আলম চৌধুরী, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, আবদুল মান্নান, আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, গোলাম আকবর খন্দকার, আবদুল কাইয়ুম, কবীর মুরাদ, অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, তাহমিনা রুশদীর লুনা, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হারুনুর রশীদ, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সানাউল্লাহ মিয়া, আজিজুল বারী হেলাল, অঙ্গসংগঠনের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান, কাজী আবুল বাশার, হাবিবুর রশীদ হাবিব, শায়রুল কবির খান প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ১০ বছর আওয়ামী লীগ মতায় আছে। এই ১০ বছর দেশ গণতন্ত্রহীন অবস্থায় আছে। সব প্রতিষ্ঠানকে তারা অচল করে দিয়েছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বত্র দুর্নীতি। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে দেশের মানুষ সরকার পরিবর্তনে এবার ভোট দিতে চায়। মানুষের প্রত্যাশা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারা জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। ১০ বছর তারা ভোট দিতে পারেনি, তারা এবার ভোট দেবে। সেজন্য প্রয়োজন একটি সহায়ক সরকার।১০ বছরে দেশটাকে শেষ করে দিয়েছেন। যেটুকু আছে, দেশটাকে রা করার জন্য একটা নিরপে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। তাহলেই জনগণ হয়তবা আপনাদের কিছুটা হলেও মা করতে পারে। নইলে আল্লাহর কাছে তো জবাবদিহি থাকবেনই, এই জনগণের কাছেও আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে। এত করুণ পরিণতি হবে, যে পরিণতি খুব ভালো হবে না। মানুষ সেই পরিণতিতে চোখের পানি যেভাবে অতীতে ফেলেনি, এবারো ফেলবে না; বরং উৎসব করবে কারণ, তারা অন্ততপে জালেমদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি উপো করে দলের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন নিরপেভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে না। শুধু তাই নয়, পুলিশও নিরপেভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে না। দেশের পুলিশ নিরপেভাবে দায়িত্ব পালন করতে চায়; কিন্তু তাদের বাধ্য করা হয় মতাসীনদের পে কাজ করতে, তাদের হয়রানি করা হয়।
তিনি বলেন, আসুন এসব বাদ দিয়ে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে একটা নিরপে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। দেশের মানুষ চায়, বিদেশী রাষ্ট্রগুলো চায় সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, সবার সমান সুযোগ থাকবে, সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে। সেজন্য আমরা বলেছি, নির্বাচনের সাতদিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। জনগণ যদি দেখে ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী আছে, তাহলে ভোটারেরা সাহস করে ভোটকেন্দ্রে আসবে। এটাতে আপনাদের আপত্তি কেন? সেনাবাহিনী ভোটকেন্দ্রে এর আগেও দায়িত্ব পালন করেছে। আপনারা নিরপে নির্বাচন হোকÑ এটা চান না সেজন্য এসব আপত্তি করছেন।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ যা করেছে, ক্ষমতায় গেলে আমরা তা করব না। আপনারা যেগুলো করেছেন, এই একে মারো, একে ধরো- এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দাও, একে বন্দী করোÑ আমরা সেগুলো করব না। আমরা সেগুলোতে বিশ্বাস করি না, সেগুলো করে গণতান্ত্রিক রাজনীতি হয় না, সেগুলো করে দেশের কোনো উন্নতি হয় না। আমরা চিরস্থায়ীভাবে মতায় থাকব, সে জন্য এগুলো করা দরকার তা আমরা বিশ্বাস করি না। এটা ছেড়ে দিতে হবে জনগণের ওপরে, জনগণ কাদের চায়, কারা জনগণের জন্য ভালো কাজ করছে, সেগুলো দেখে জনগণ ঠিক করবে। জনগণের ওপরে আস্থা রাখতে হবে। এটাই ব্যতিক্রম দেখতে পাবেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে এই পার্থক্য সেখানেই খুঁজে পাবেন।
দেশে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে অভিযোগ করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিন একটি খবরে কাগজে দেখলাম পাঁচ বছরে নতুন কোটিপতি ৫০ হাজার। তার মানে বুঝতে পারছেন, কী পরিমাণ দুর্নীতি তারা করেছে। না হলে এত কোটিপতি হয়ে গেল। এরা কারা? সবই আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশটাকে নিজের দেশ ভাবে না। তারা এই যে অত্যাচার-অনাচার করছে, আল্লাহর বিচার হবেই, সময় একদিন শেষ হবেই। সেজন্য কিন্তু তারা ভয়ে ও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম বানিয়ে বসে আছে, টাকা বানিয়ে বসে আছে।

Please follow and like us:
Previous লুটপাটের টাকা আ.লীগ সুইস ব্যাংকে পাচার করেছে: রিজভী
Next ৬ মাসে সড়কে প্রাণ গেল ২২৯৭ জনের: আহত ৫৪৮০

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply