আ.লীগই বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদ থেকে কেড়ে নেয় : ফখরুল

আ.লীগই বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সংসদ থেকে কেড়ে নেয় : ফখরুল

ঢাকা ১১ জুলাই ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগই বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিলো। তারাই বাহাত্তরের সংবিধানকে শেষ করেছে।

সোমবার নয়া পল্টনে মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ‘সদস্য সংগ্রহ অভিযান’ উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সেই দল যারা সেদিনও গণতন্ত্রের জন্য জনগণকে প্রতারিত করেছিলো। গণতন্ত্রের কথা বলে গণতন্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছিলো। আজকে তারা যখন ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পরে বিচার বিভাগকে আক্রমণ করে কথা বলে পার্লামেন্টের মধ্যে, পার্লামেন্টের সুপ্রিমিসি দাবি করে। তাদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, আপনারাইতো চতুর্থ সংশোধনীতে এই বিচারপতিদের অভিসংশনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির কাছে দিয়ে দিয়েছিলেন। ভুলে গেছেন, এখন সেটা মনে পড়ে না। আপনারাই কথা বলার অধিকার হরণ করে দিয়েছিলেন। পত্রিকায় লেখা ও পত্রিকা প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অন্য কোনো সংগঠন করা যাবে না- এসব ভুলে গেছেন?’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের একমাত্র ধারক-বাহক হয়ে বসে আছে। রোববার সংসদে বহু লেকচার করেছেন, তুলোধুনো করেছে বিচার বিভাগকে। তারা সংবিধানের কথা বলে। এই সংবিধান তৈরি করেছে কে? আপনারা। ১৯৭২ সালে যে সংবিধান তৈরি করা হলো সেই সংবিধানকে এক এক করে শেষ করলো কে? এই আওয়ামী লীগ। তারা বিশেষ ক্ষমতা আইন করলো, তারা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলো। তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল করেছে। আজ যখন তারা গণতন্ত্রের কথা বলে তখন না হেসে পারি না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মানহানি মামলার মূল বিষয়টা হচ্ছে, যার মানহানি হবে সে মামলা করবে। মানহানি করলাম প্রধানমন্ত্রীর, মামলা করলো তাঁতী লীগ না স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন। মামলা তো এমনিতেই হয় না। অথচ বিচার কার্য শুরু করেছে। আইনকে তারা তাদের মতো করে ব্যবহার করতে চায়। সেজন্যই বিচারক মহোদয়রা বলেছেন তোমরা আবার বিচারকদের অভিশংসন করবা কী? তোমরাতো তোমাদেরটা ছাড়া কিছু দেখবা না। সুতরাং তোমাদেরকে দায়িত্ব দেয়া যাবে না। সেজন্য তারা ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দিয়ে জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রেখেছেন।’ তিনি বলেন, ‘লজ্জা নাই। যেহেতু পার্লামেন্টে ইমুউনিটি (সুরক্ষা) আছে, যা খুশি তা বলতে পারে, বলতেছে। আমাদেরও বাইরে ইমুউনিটি আছে, আমরাও আপনাদের সমালোচনা করতে পারি।’

তিনি বলেন, প্রতিদিন সরকারি দলের নেতারা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন হবে। আসলে প্রধানমন্ত্রীর অধীনে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো তাহলে কী আমরা চাইতাম? হবে না বলেই তো আমরা চাচ্ছি। একদিন আপনরাই বলেছিলেন যে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তিনি বলেন, সময় আছে দাম্ভিকতা বাদ দিন, অহংকার বাদ দিন। আলোচনার ব্যবস্থা করুন, সমঝোতার ব্যবস্থা করুন। এটা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

তিনি আরো বলেন, ‘নর্থ কোরিয়া যেমন মিসাইল মারে মাঝে মাঝে। তেমনি সরকারের অস্ত্র হচ্ছে মিথ্যা মামলা। মামলা করো, আদালতে ওদের সময় কাটবে। মহানগরের উত্তরের সভাপতি এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা মারা গেলো গুলশানে। একদিনও যায়নি প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক থেকে বললেন, এই হত্যার সাথে নাকী বিএনপি জড়িত। এরপর তারা যা করার তাইতো করছে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জুর সভাপতিত্বে ও যুগ্মসম্পাদক এ জি এম শামসুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

 

Share Button
Previous লন্ডন যেতে দেয়া হল না ইলিয়াস পত্নী লুনাকে
Next আদালতের রায় নিয়ে আবার মেয়রের চেয়ারে মান্নান

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply