স্কুল থেকে শেখা শিশুর বদভ্যাস থামাবেন যেভাবে

স্কুল থেকে শেখা শিশুর বদভ্যাস থামাবেন যেভাবে

১৯ আগস্ট ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): স্কুল থেকে শিশুরা জীবনের দিকনির্দেশনা পেয়ে থাকে। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নিয়মকানুন তারা এখান থেকে রপ্ত করে। তাদের যে শুধু ভালো অভ্যাস গড়ে ওঠে তা না, কিছু বদভ্যাসও তাদেরকে প্রভাবিত করে।

এসব বদভ্যাস তারা সাধারণত সহপাঠীদের কাছ থেকে শেখে। তবে অন্যান্য মাধ্যম বা বিষয়কেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। স্কুলে শিশুরা যেসব বদভ্যাসে অভ্যস্ত হতে পারে সেসব সম্পর্কে এ প্রতিবেদনে আলোকপাত করা হলো।

অন্যের সম্পর্কে নিন্দা
আমাদের সংস্কৃতিতে গল্পগুজব করাটা দুর্নিবার অবসর বিনোদনে রূপ নিয়েছে। কিন্তু কারো অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে হীনজাত উদ্দেশ্যে কথা বলাটা শুধু অভদ্রতাই নয়, ক্ষতিকরও বটে। তাই আপনি যদি শুনেন আপনার বাচ্চা ক্লাসমেট সম্পর্কে নিন্দা করছে তাহলে তা থামানোর চেষ্টা করুন। অন্যের সম্পর্কে বা সঙ্গে কিভাবে সম্মানের সঙ্গে কথা বলতে হয় তা শিশুকে শেখানো গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শিশুকে বোঝান পরচর্চা কেন অসম্মানের ও কেন তা ক্ষতিকর। তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন কেউ তাদের সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করলে কষ্ট পাবে কিনা? যদি পেয়ে থাকে তাহলে যাদের সম্পর্কে বাজে কথা বলছে তারা কি কষ্ট পাবে না?

প্রযুক্তি আসক্তি
মিশিগানের শিশু মনস্তাত্ত্বিক নিকোলে বুরকেনস বলেন, অনেক স্কুল অসাবধানবশত স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটের প্রতি কচি বয়সে আসক্ত করে তোলে। তিনি বলেন, অনেক স্কুল ক্লাসে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের পাশাপাশি লাঞ্চ এবং অবকাশে ব্যক্তিগত ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতি দেয়। অনেক শিশু ক্লাসের বাইরে প্রায় সময় ডিভাইস নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তারা ভিডিও গেমস খেলে বা টিভি দেখে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটায়। তবে এসব সমাধান করা কঠিন নয়। প্রযুক্তির প্রতি বাচ্চার আসক্তি কমিয়ে ফেলুন বা তাদেরকে কিছু সীমাবদ্ধতায় রাখুন। তাদেরকে স্কুলে ব্যক্তিগত ডিভাইস নিতে দিবেন না। ঘরে টিভি দেখা বা স্ক্রিন উপভোগের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন ঠিক করে দিন।

অনবরত ঘ্যানঘেনানি
স্কুলের অনেক বিষয় নিয়ে বাচ্চারা ঘরে ঘ্যানঘ্যান করে। হোমওয়ার্ক, বাস, শিক্ষক কিংবা ক্যাফেটেরিয়া নিয়ে তারা অভিযোগ করে। কিছু অসুবিধার কারণে তারা এমনটা করে থাকে। তাদের এসব ঘ্যানঘেনানি বিরক্তির উদ্রেক করে এবং অনেক মা-বাবা তর্কে লিপ্ত হয়ে তা থামাতে চায়। ড. বুরকেনসের মতে, এসব থামানোর ভালো কৌশল হল অভিযোগে কান না দেওয়া। তিনি বলেন, ‘শিশুরা অভিযোগের প্রত্যুত্তর যত কম পাবে তারা তত কম অভিযোগ করবে।’ কিন্তু ঘ্যানঘেনানি অব্যাহত থাকলে কতটা নেতিবাচক মন্তব্য করছে তা ট্র্যাকিং করুন এবং তা কমানোর জন্য লক্ষ্য ঠিক করুন।

অশ্লীল শব্দ
স্কুলে পাঠ্যপুস্তকের শব্দ তালিকার বাইরে কয়েকটি অশ্লীল শব্দ শিখে না এমন শিশু পাওয়া দুর্লভ। শিশু বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি অশ্লীল শব্দ শিখে থাকে। এসব সহ্য করার কোনো মানে হয় না। এসব বলা থেকে তাদের বিরত রাখুন। যখন তারা অশ্লীল শব্দ উচ্চারণ করবে তখন কৌশল খাটিয়ে থামানোর চেষ্টা করুন। এ প্রসঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত শিকো সেন্টার ফর কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপির ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট জোয়েল মিন্ডেন বলেন, ‘শান্ত থাকুন, তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন তারা শব্দটি কোথায় শিখেছে এবং কেন তারা শব্দটি ব্যবহার করছে।’ তিনি বলেন, তাদের ব্যাখ্যা শুনে একই অনুভূতি ভিন্ন শব্দে প্রকাশে সাহায্য করুন। অযৌক্তিক শাস্তি দিবেন না, যেমন- অশ্লীল শব্দ বললে সাবান দিয়ে মুখ ধুয়ে দেওয়া। এরকম শাস্তি তাদের মধ্যে রাগের বিস্তার ঘটাতে পারে এবং যে শব্দের জন্য শাস্তি দিলেন তা বেশি বেশি বলতে পারে।

পরীক্ষায় প্রতারণা
পরীক্ষায় প্রতারণার আশ্রয় নেওয়াকে ক্ল্যাসিক ব্যাড বিহেভিয়ার বলা হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে শিশুরা তা করে থাকে, যেমন- পরীক্ষা সম্পর্কে উদ্বেগ, বিষয়বস্তু না বুঝা এবং সাহায্য চাইতে অত্যধিক ভয় পাওয়া। তাদেরকে প্রতারণামূলক ফলাফলের অভিজ্ঞতা নিতে দিন, যেমন- কোনো টেস্টে অনুত্তীর্ণ হওয়া বা কোনো প্রজেক্ট পুনরায় করা। কিন্তু এখানেই থেমে থাকবেন না। তাদের শিক্ষকের সঙ্গে তাদের ব্যাপারে কথা বলুন এবং পরামর্শ করুন। আপনার বাচ্চাকে ভালো অভ্যাসে উৎসাহিত করার জন্য তাদের সমস্যাকে গুরুত্ব দিন ও সমস্যার সমাধান করুন। তারা কনফিউজড ও আপসেট হলে তা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে দিন।

অন্য শিশুদের কটুক্তি করা
বাচ্চা নীচ মনমানসিকতার হোক এটা কেউ চায় না। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, শিশুরা বিভিন্ন উপলক্ষ্যে অন্য শিশুদের কটুক্তি করে। ‘আমার বাচ্চা এমন নয়’ বা ‘আমার বাচ্চা করেনি’ এমন কথা না বলে বাচ্চার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করুন এবং এ বিষয়ে বাচ্চার সঙ্গে কথা বলুন। ড. মিন্ডেন বলেন, ‘মাঝে মাঝে অন্য শিশুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েও তারা কটুক্তি করতে পারে। বাচ্চাকে কটুক্তির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বোঝান, এমনকি তা সহপাঠীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে করলেও।’ তিনি আরো বলেন, এ ধরনের অভ্যাস বন্ধ করার ব্যবস্থা নিন। বাচ্চাকে বলুন- যদি টিজ অব্যাহত রাখো তাহলে এটা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং তোমার শিক্ষককে এ বিষয়ে বলা প্রয়োজন হবে। কখনো কখনো টিজিং সীমারেখা অতিক্রম করে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি করে। তাই আপনার বাচ্চাকে এ অভ্যাসের আওতামুক্ত রাখুন।

পর্নো দেখা
নোভাস প্রজেক্টের একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, ৮ থেকে ১১ বছরের শিশুরা স্মার্টফোন ও ট্যাবের সংস্পর্শে প্রথম পর্নের সঙ্গে পরিচিত হয়। স্কুলে অন্যের দেখাদেখি বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আপনার বাচ্চা পর্নো দেখতে পারে। শিশুর সেক্সুয়্যাল ডেভেলপমেন্টের জন্য ও যৌন নিরাপত্তার খাতিরে পর্নো দেখা বন্ধ করা উচিত। ড. মিন্ডেন বলেন, যদি জানেন আপনার বাচ্চাকে কে পর্নো দেখিয়েছে তাহলে জরুরি ভিত্তিতে স্কুল বা অন্যান্য পিতামাতার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তিনি পরামর্শ দেন, শান্ত হোন, বাচ্চাকে বলুন যে পর্নোগ্রাফি শিশুদের জন্য নয় এবং এসব দেখলে ক্ষতি হতে পারে। তারা যা দেখেছে তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন আছে কিনা জিজ্ঞেস করুন। ড. মিন্ডেন যোগ করেন, যৌনতা সম্পর্কে তারা আপনার কাছ থেকে যা জানবে তা-ই গুরুত্বপূর্ণ, বন্ধুদের কাছ থেকে যা জানে তা নয়। আপনি বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে তাদেরকে পর্নো দেখা থেকে রক্ষা করতে পারেন।

নিজেকে বিভিন্ন নামে ডাকা
আপনার আদরের বাচ্চা যখন নিজেকে ডাম বা হাবা বা বোবা, আগলি বা বিশ্রী বা কুৎসিত, স্টুপিড বা মূর্খ বা বেকুব, ফ্যাট বা মোটা বা মোটকি এবং অন্য কোনো হাস্যকর বা সমালোচনামূলক নামে ডাকবে তখন হয়তো আপনার বুকটা ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। শিশুরা স্কুলজীবনের শুরু থেকেই পারফেকশনিস্ট বা সেনসিটিভ আচরণ করলে তাদের বিভিন্ন নাম ছড়িয়ে যায়। তাদের দুর্বলতা এবং শারীরিক গঠনের ওপর ভিত্তি করেও নানারকম নাম ছড়িয়ে পড়ে। বাচ্চা যদি এসব নামে নিজেকে সম্বোধন করে তাহলে তাকে ইতিবাচক নামে ডাকুন বা ভালো মন্তব্য শুনান, যেমন- তুমি সত্যিই সুন্দর/স্মার্ট/গ্রেট ইত্যাদি। এর ফলে তাদের মনের উদ্বেগ দূর হবে। ড. মিন্ডেন পরামর্শ দেন, নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করতে তাদেরকে উৎসাহ দিন, তাদের নেতিবাচক চিন্তাকে মিথ্যা প্রমাণের জন্য উপায় খুঁজুন এবং ফলাফলের চেয়ে প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিন, তারা যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তাতেও গুরুত্বারোপ করুন। সফল হতে পারে এমন কাজে তাদেরকে যুক্ত করুন।

Previous কক্সবাজারে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় নিহত ২
Next অস্ট্রেলিয়া দল এখন ঢাকায়

About author

You might also like

লাইফস্টাইল ০ Comments

বাবা-মায়ের যেসব আচরণ সন্তানদের প্রভাবিত করে

২৪ জুন ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): সন্তানের চিন্তা ভাবনা, আচার আচারণ, অভ্যাস এবং কর্ম প্রক্রিয়া তৈরিতে বাবা মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, আপনার বাবা মায়ের কাছ থেকে আপনি যে ব্যবহার পেয়েছেন

লাইফস্টাইল

Maecenas tempor volutpat commodo uspendisse potenti ed congue sodales

Nam in pharetra nulla. Cras aliquet feugiat sapien a dictum. Sed ullamcorper, erat eu cursus sollicitudin, lorem orci condimentum ante, non tincidunt velit dolor eget lacus. Ut dolor ex, gravida

লাইফস্টাইল ০ Comments

মাছি তাড়ানোর ঘরোয়া সমাধান

৩১ জানুয়ারি ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): একটি ফল খেতে যাচ্ছেন এবং দেখলেন সেটার ওপর মাছি বসে আছে! খুবই অরুচিকর ব্যাপার। শুধু কি তাই? এটা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কেননা মাছি ব্যাকটেরিয়া এবং

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply