বৃষ্টির পানি অনেক রোগের ওষুধ

বৃষ্টির পানি অনেক রোগের ওষুধ

২০ আগস্ট ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): বর্ষা মানেই পেটের রোগ। বর্ষা মানেই হাঁচি, কাশি, সর্দি, জ্বর। এটাই প্রচলিত ধারণা আমাদের। কিন্তু, বর্ষাই হয়ে উঠতে পারে রোগমুক্তির ঋতু। প্রশ্ন উঠবে, কীভাবে? বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশ বলছেন, বৃষ্টির পানি পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ পানি।

অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণা রিপোর্টে দাবি, বৃষ্টির পানি পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। মাটি বা পাথরে থাকা মিনারেলস আর বর্জ্য, বৃষ্টির পানিতে থাকে না। সেকারণেই বৃষ্টির পানি পানে অনেক উপকারিতা দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

এক নজরে দেখে নেয়া যাক বৃষ্টির পানিতে কী কী উপকার হয়-
১) হজমশক্তি বাড়ায়
বৃষ্টির পানিতে থাকে অ্যালকালাইন পিএইচ যা অ্যাসিডিটি কমায়, হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

২) রাসায়নিক মুক্ত পানি
ট্যাপের পানি জীবাণুমুক্ত করতে ক্লোরিন ব্যবহার করা হয়। আর ফ্লোরাইড আসে মাটির নিচ থেকে। বেশি মাত্রায় ক্লোরিন বা ফ্লোরাইড পেটে গেলে গ্যাসট্রাইটিস, মাথাব্যথার মতো সমস্যা বাড়ে। বৃষ্টির পানিতে ফ্লোরাইড বা ক্লোরিন, কোনোটিই থাকে না।

৩) ক্যান্সার বিরোধী
বৃষ্টির পানিতে থাকা অ্যালকালাইন পিএইচ ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রুখে দেয়। ক্যান্সার রোগীদেরে ক্ষেত্রে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে বৃষ্টির পানি।

৪) পাকস্থলীর সমস্যা দূর করে
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২ থেকে ৩ চামচ বৃষ্টির পানি খাওয়া ভালো। পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটি বা আলসার থাকলে বৃষ্টির পানি ওষুধের কাজ করে।

৫) বৃষ্টির পানি সুন্দর চুল করে
কোনো মিনারেলস না থাকায়, বৃষ্টির পানি অত্যন্ত কোমল। এই পানিতে মাথা ধুতে পারলে শ্যাম্পু বা সাবানের চেয়েও ভালো কাজ দেয়।

৬) ত্বকের পক্ষে উপকারী
বৃষ্টিতে ভিজলেই অসুখ- এটা পুরনো ধারণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুন্দর সুস্থ ত্বক পেতে হলে, বৃষ্টির পানি অত্যন্ত উপযোগী। সুগন্ধি সাবানে থাকে অ্যাসিডিক পিএইচ যা ত্বককে রুক্ষ ও প্রাণহীন করে দেয়। বৃষ্টির পানিতে এই সব কিছু নেই।

৭) জ্বালা ও ব্যাকটেরিয়া নাশক
বৃষ্টির পানি কোষে জমে থাকা খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে সাফ করে দেয়। ত্বকের জ্বালাও দূর হয়। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৃষ্টি দেখে আর ঘরে বসে থাকা নয়। প্রাণ ভরে ভিজুন। বৃষ্টির পানি পান করুন।

কীভাবে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করবেন?
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার জন্য বড় আকারের পাত্র বা ড্রাম লাগবে। সেক্ষেত্রে ভালো মানের প্লাস্টিকের বিভিন্ন আকারের ড্রাম কাজে লাগানো যেতে পারে। ড্রামের মুখ নেট ও ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যাতে মশা, কীটপতঙ্গ বা পোষা প্রাণী দ্বারা পানি নষ্ট না হয়।

বাড়ির ছাদ যদি হয় টিনের, তাহলে তা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার জন্য আদর্শ। একটু খাটুনি করে টিনের চালের সাথে ইউ শেপ করে টিন কেটে বসিয়ে দিন। বৃষ্টির সময় ড্রামটি ওই আদল বরাবর বসিয়ে দিন। এতে সহজে পানি ভরে নেয়া যাবে।

সংরক্ষণ ও শোধন
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া (রেইন ওয়াটার কালেকশন সিস্টেম) স্থাপন করে প্রাকৃতিক এ পানি মজুদ করতে পারেন। এ প্রক্রিয়ায় মাটির নিচে একটি বড় ট্যাংক স্থাপন করা হয়। বৃষ্টি হলে পানি সরাসরি ট্যাংকে জমা হবে। এর সাথে একটি ফিল্টার ও পাম্প থাকবে, যাতে আপনার চাহিদা অনুযায়ী তা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারে।

এ ধরনের সংরক্ষণ প্রক্রিয়া অবশ্য বেশ ব্যয়বহুল। অভিজ্ঞ লোক ডেকে এটি স্থাপন করতে হবে। স্বল্প পানি সংরক্ষণের জন্য বালতি, বড় আকারের জার, বোতল ইত্যাদি ব্যবহার করুন। খুব কম সময়ের মধ্যে এ পানি ব্যবহার করে ফেলতে হবে। বেশি সময় এ পানি রাখা যাবে না। এতে মশা বংশবৃদ্ধি করবে। সবচেয়ে ভালো হয় দুই দিনের মধ্যে পানি ব্যবহার করে ফেললে।

Previous প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে না অস্ট্রেলিয়া
Next নায়ক খুঁজছেন প্রিয়াঙ্কা

About author

You might also like

লাইফস্টাইল ০ Comments

শিশু কতটা পানি খাবে

৮ জুন ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): একটি শিশু যখন জন্ম নেয় তখন তার ওজনের প্রায় ৩/৪ ভাগই থাকে পানি। শিশুর এক বছর বয়স হলেই সেই পানির পরিমান দাঁড়ায় ওজনের ৬০%। বয়ঃসন্ধির সময় তা

লাইফস্টাইল ০ Comments

অপ্রয়োজনীয় চিন্তা থেকে মনকে মুক্ত রাখুন

৪ জুলাই ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): অধিকাংশ সময় আমরা যা কিছু ভাবি বা চিন্তা করি তার খুব কমঅংশই বাস্তবজীবনে প্রতিফলিত হয়। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করার ফলে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের মনোদৈহিক সমস্যা। কারণ

লাইফস্টাইল ০ Comments

বেলুন ব্যবহারে সাবধানতা

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): বেলুন জিনিসটি দেখতে খুব মজার, কিন্তু এটিই হতে পারে আপনার সন্তানের স্থায়ীভাবে শ্রবণক্ষমতা হ্রাসের কারণ। কোনো জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বা পার্টিতে বা এ ধরনের কোনো অনুষ্ঠানে রঙ

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply