ঋণ খেলাপির পেছনে ব্যাংক ও ব্যাংকাররা দায়ী : অর্থমন্ত্রী

ঋণ খেলাপির পেছনে ব্যাংক ও ব্যাংকাররা দায়ী : অর্থমন্ত্রী

ঢাকা ২৭ আগস্ট ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): দেশে ঋণ খেলাপি সৃষ্টির পিছনে ব্যাংক ও ব্যাংকাররা দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
তিনি বলেছেন, ব্যাংকারদের ধারণা সৃষ্টি হয়, ব্যাটাকে (গ্রাহক) যে করেই হোক ডিফলটার বানাতেই হবে। তাই গ্রাহকদের ঋণখেলাপি বানাতে ব্যাংক এবং ব্যাংকাররাই বেশি দায়ী। একজন গ্রাহক প্রথমে যখন ঋণ নিতে আসেন তখনই তাকে নিজের কব্জায় আনতে খেলাপি করানোর চিন্তা করেন ব্যাংকাররা। আমাদের দেশের ব্যাংক খাতের জন্য এটি খুবই খারাপ সংস্কৃতি। এক্ষেত্রে একটি বিষয় খুব ভালোভাবে মেনে চলা উচিত। সেটি হলো গ্রাহককে জানা (কেওয়াইসি), গ্রাহককে চেনা। এটি মেনে চললেই অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

শনিবার সিরডাপ মিলনায়তনে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আয়োজিত ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকে অবস্থা : চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপায় শীর্ষক’ এক কর্মশালায় একথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, যখন একজন গ্রাহককে ঋণ দেয়া হয় তখন থেকেই ব্যাংকিং সিস্টেমে একটি ধারণা চালু হয়ে যায় এ ব্যাটাকে যে করেই হোক ডিফলটার বানাতে হবে। এর জন্য ব্যাংকাররা যা যা করার সবই করেন। এক সময় ওই গ্রাহক খেলাপি হয়ে যায়। এভাবে ভালো ভালো প্রকল্পে ঋণ দেয়া হয়। কিন্তু ঋণটা এমনভাবে দেয়া হয় যেন গ্রাহক খেলাপি হয়ে যান। প্রত্যেক ব্যাংকারই এটা চান। কেননা ওই ব্যাংকার মনে করে খেলাপি হলে গ্রাহক আমার কব্জার মধ্যে চলে আসবে। এটা (ব্যাংকারদের) সবার পরিহার করা দরকার।

হলামার্ক, বিসবিল্লাহ গ্রুপ ও বেসিক ব্যাংকে ঋণ দেয়ার নামে হরিলুট পরিস্থিতি যার সময় সংঘটিত হয়েছে, সেই অর্থমন্ত্রী মুহিত অনুষ্ঠানো আরো বলেন, দেশে একটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়া মানে শুধু একটি ব্যাংকের সমস্যা হিসেবে দেখা দেয় না। সেটা হয় পুরো ব্যাংক খাতের এমন কি পুরো অর্থনীতির সমস্যা। তবে আশার দিক হচ্ছে, এ দেশে স্বাধীনতার পর কোনো ব্যাংকই (লাটে উঠেনি) দেউলিয়া হয়নি। স্বাধীনতার আগে দেউলিয়া হয়েছিল কমরেড ব্যাংক (ইস্পাহানি গ্রুপের)। ওই ব্যাংক লাটে উঠার পর আর কোনো ব্যাংক কিন্তু লাটে উঠেনি। আমরা এ খাতটিকে মোটামুটি ভালোভাবেই চালাচ্ছি। কমরেড ব্যাংক লাটে উঠায় তার নিজেরও ১৪০ টাকা লোকসান হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ইউনুসুর রহমান। মুল প্রবন্ধও উপস্থাপন করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রণায়ল সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, অর্থবিভাগের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এতে রাষ্ট্রয়ত্ত ছয়টি ব্যাংকের ব্যবস্থপনা পরিচালক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শীর্ষ কর্মকর্তা, সরকারের সাবেক ও বর্তমান সচিবরা এবং ব্যাংক ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

 

Previous শুধু পদ নয়, দেশও ছাড়তে হবে : এসকে সিনহাকে মানিক
Next গফরগাাঁওয়ে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে সশস্ত্র হামলা

About author

You might also like

অর্থ-বাণিজ্য ০ Comments

৬০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় অর্জিত হবে: তোফায়েল

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):  বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সব ধরনের প্রতিকূল অবস্থা পেরিয়ে বাংলাদেশ পোশাক শিল্পের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ৬০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় অর্জন করবে।আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর

অর্থ-বাণিজ্য ০ Comments

Paris fashion week AW14: the 10 key trends – in pictures

Nam in pharetra nulla. Cras aliquet feugiat sapien a dictum. Sed ullamcorper, erat eu cursus sollicitudin, lorem orci condimentum ante, non tincidunt velit dolor eget lacus. Ut dolor ex, gravida

অর্থ-বাণিজ্য ০ Comments

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমান সরকার পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পুঁজিবাজার হবে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের এক নির্ভরযোগ্য উৎস।’ প্রধানমন্ত্রীআজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply