রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করাতে হবে : ফখরুল

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করাতে হবে : ফখরুল

ঢাকা  ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। এ নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। আমরা চাই সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এ সঙ্কট মোকাবিলা করতে। কারণ এটা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আগ্রাসন।

তিনি সোমবার আজ বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ১০ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভায় সরকারের উদ্দেশে বলেন, রোহিঙ্গাদেরকে স্থায়ীভাবে আশ্রয় দিতে বলছি না। তাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দেয়া হোক। পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে হবে। এছাড়া বিএনপি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলে বিএনপির অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিমের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, জয়নুল আবেদীন, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্মমহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছা সেবকদলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিশ্ব বিবেক রোহিঙ্গা ইস্যুতে যখন জাগ্রত তখন সরকার কোনো প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি। রোহিঙ্গাদেরকে জাতিগতভাবে নির্মূল করা হচ্ছে। তাদের ওপর নিপীড়ন শুরুর পরপরই আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিবৃতি দিয়েছেন। গোটা বিশ্ব সোচ্চার। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার কোনো কথাও বললো না। আজ মানুষ মরছে, শিশু মরছে। পথে সন্তান প্রসব করছে মা। আমরা যখন কথা বলতে শুরু করেছি। তখন তারা বলতে শুরু করেছে, আমরা না কি রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনীতি করছি। একটি কথা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই- রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা কোনো রাজনীতি করতে চাই না। এ সঙ্কটের সমাধান আমরা জাতীয়ভাবে মোকাবিলা করতে চাই। যেমন ১৯৭৮ সালে প্রেসিন্ডেন্ট জিয়াউর রহমান টেকনাফে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিলেন।

তিনি আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, দেশের মানুষ যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে একটি নির্বাচনের জন্য। সেই নির্বাচনী আওয়াজ শুনতে পেরে সরকার তাদের লোকেরা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের বন্দি করে নির্বাচনী কৌশল এখন থেকেই গ্রহণ করেছে। কিন্তু দেশের মানুষ তা কখনো মেনে নিবে না। জনগণ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব সরকারের মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যারা বিষোদগার করছেন তারা নিজেদের চেহারাটা আয়নায় দেখুন। বাংলাদেশের সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের জন্য ত্যাগ স্বীকারকারী নেত্রী হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। এসময় তিনি দলের নেতাকর্মীদেরকে আরো বেশি সুসংহত এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মতো বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামীদেরকে নির্মূল করা হচ্ছে। যারা গণতন্ত্র ও সত্যের পক্ষে কথা বলে এই সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাদেরকে নির্মূল করে দিচ্ছে একের পর এক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাদশ জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের কোনো প্রশ্নই আসে না। নির্বাচন হতে হবে নিরপক্ষে সহায়ক সরকারের অধীনে। এ নির্বাচন এতো সহজে আদায় হবে না। কারণ জনগণ স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশ চায়। তাই কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন প্রসঙ্গে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যে চুক্তি হয়েছিল সেই চুক্তির মাধ্যমেই মিয়ানমার সরকারকে চাপ দিতে হবে। যাতে রোহিঙ্গারা স্বসম্মানে ফিরে গিয়ে মিয়ানমারে নাগরিকত্ব পান।

 

Previous মাহফুজের গান নিয়ে তসলিমা যা বললেন..
Next আট মাসে সড়কে প্রাণ গেল ২,৮৭৩ জনের

About author

You might also like

রাজনীতি ০ Comments

সমাবেশে থাকছেন খালেদা, সরকারের সহযোগিতা চায় বিএনপি

ঢাকা ৮ নভেম্বর ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশে থাকবেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শিগগিরই সমাবেশের অনুমতি পাওয়া যাবে, আশাবাদ ব্যক্ত করে সরকারকে

রাজনীতি ০ Comments

ময়লার স্তূপের পর আ’লীগের অনুষ্ঠানস্থলে সংঘর্ষ

ঢাকা ১৬ নভেম্বর ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানস্থলের সামনে ময়লার স্তূপ রাখার পর এবার সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে দলটির দুই গ্রুপ। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর আজিমপুরের পার্ল

রাজনীতি ০ Comments

সংঘাতের উস্কানি দিচ্ছে সরকার: ফখরুল

ঢাকা ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দেওয়া কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে সরকার ‘সংঘাতের উস্কানি দিচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি সংঘাতের রাজনীতিতে

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply