প্রধান বিচারপতি বিএনপি-জামায়াতের কথাই বলেছেন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধান বিচারপতি বিএনপি-জামায়াতের কথাই বলেছেন : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা  ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রধান বিচারপিত ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত উক্তির পুনরাবৃত্তি করেছেন। তার এ রায় ও পর্যবেক্ষণে অনেক সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত আইন প্রণয়ন করতে পারে না, সংশোধনও করতে পারে না। সেই অধিকার কেবল সংসদের। আমরা ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে যখন ’৭২ এর সংবিধানের মূল কাঠামোয় ফিরে গেলাম তখন হাইকোর্ট তা বাতিল করে দিলো। এরপর আপিল বিভাগের রায়ে প্রধান বিচারপতি শত শত বছর পেছনে ফিরে নানা ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেখানে নানা স্ববিরোধিতাও আছে। কোথা থেকে কারা এটা তৈরি করে দিয়েছে সেটাও একটা প্রশ্ন। যে রায় দেয়া হয়েছে-তা কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়নি। জনগণের কাছে সবার জবাবদিহিতা থাকতে হবে।
বুধবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ও আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ বিষয়ে উত্থাপিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারায় এ বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একাংশের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রস্তাবটির ওপর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদসহ ২০ জন সরকারি, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্য প্রায় ৪ ঘণ্টা আলোচনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রস্তাবটি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করলে এটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। সংসদ, বিচার বিভাগ ও স্বাধীনতাযুদ্ধে একক নেতৃত্বসহ কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার কড়া সমালোচনা করেন।
মইন উদ্দীন খান বাদল তার প্রস্তাবে বলেন, সংসদের অভিমত এই যে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেয়া রায় বাতিল এবং রায়ে জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতির দেয়া অসাংবিধানিক, আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেণ বাতিল করার জন্য যথাযথ আইনি পদপে গ্রহণ করা হোক।
শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই জনগণ সংসদ নির্বাচিত করে। সেই সংসদের সদস্যরাই নারী সদস্যদের নির্বাচিত করে। রাষ্ট্রপতিকেও নির্বাচিত করছে এই সংসদ। সেই রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিচ্ছেন প্রধান বিচারপতিকে। কাজেই উনি যদি এ কথা বলেন, তার নিয়োগ কোথায় যাবে? বঙ্গবন্ধু ’৭২-এর সংবিধানেই এই নারী সদস্য দিয়েছিলেন। এখন ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য। সারা বিশ্বেও এখন নারীদের মর্যাদার কথা বলা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি স্বাধীনতাযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন। এক দিকে তিনি আমিত্বের বিরুদ্ধে বলছেন, আরেক দিকে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে আমিত্বের ব্যবস্থা করছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, মার্শাল ল’ অধ্যাদেশকে ইতোমধ্যে অবৈধ বলা হয়েছে। তাহলে আবার সেই মার্শাল ল’র মাধ্যমে সৃষ্ট সুপ্রিম জডিশিয়াল কাউন্সিলকে কিভাবে বৈধতা দেয়া হচ্ছে? আপিল বিভাগ সংবিধান সংশোধন করে দিতে পারেন না, সেই ক্ষমতা কেউ তাকে দেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ চলে কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী। সংসদ কত দিন চলবে সেই সিদ্ধান্ত নেয় কার্য-উপদেষ্টা কমিটি। সেখানে কেবিনেটের কোনো ভূমিকাই নেই। কাজেই এসব প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি নিজেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। সংসদই সার্বভৌম, এই সংসদই সংবিধান রচনা করে এবং এই সংসদই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। যেই সংসদ আইন তৈরি করে দেয় সেখানে সেই সংসদকে খাটো করা, রাষ্ট্রপতিকে খাটো করা-সেটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই রায় কারো কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, এই রায়ে বিএনপি খুব খুশি। অথচ এই রায়েই জিয়ার ক্ষমতা দখলকে অবৈধ বলা হয়েছে। সেটা মনে হয় তারা দেখেননি। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকাতেই তারা খুশি। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা সমুন্নত রাখতে হবে। গণতন্ত্র ছাড়া দেশের উন্নয়ন হয় না। এই সংসদ জনগণ দ্বারা নির্বাচিত। জনগণের অধিকার ও সম্মান সমুন্নত রাখতে হবে। তিনি প্রস্তাব সমর্থন করেন।
প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগেই এই দেশ স্বাধীন হয়। কাজেই তাকে নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। সবাইকে মনে রাখতে হবেÑ প্রধান বিচারপতির আসন একটি প্রতিষ্ঠান। তাই সবার দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করা। সবাইকে মনে রাখতে হবে জনগণ ক্ষমতার উৎস। সংসদকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যখন এই সংসদে ষোড়শ সংশোধনী পাস হয় তখন এর উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। গণপরিষদ দ্বারা যেই সংবিধান বঙ্গবন্ধু আমাদের উপহার দেন সেটি ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট মার্শাল ল’ দিয়ে ক্ষমতা দখল অবৈধ ঘোষণা করেন। দেশে গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই সংসদ উদ্যোগ নেয় এই ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ’৭২ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত সংসদ কর্তৃক কোনো বিচারপতি অপসারিত হননি।

Previous নোয়াখালীতে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩
Next রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চান নোবেল জয়ীরা

About author

You might also like

জাতীয় ০ Comments

জবানবন্দির পর ফরহাদ মজহার মুক্ত, হাসপাতালে ভর্তি

ঢাকা ৫ জুলাই ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): ৩৬ ঘণ্টা পরে মুক্ত হলেন কবি, লেখক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের পর আদালত তাকে নিজ জিম্মায় দিলে তিনি চিকিৎসার জন্য বারডেম হাসপাতালে

জাতীয় ০ Comments

শেখ ফজিলাতুন্নেছা ও হাসিনার নামে দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে

ঢাকা ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে পৃথক দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। জামালপুরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা

জাতীয় ০ Comments

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে

ঢাকা ২৮ মার্চ ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণের বিধান রেখে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৭’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply