‘রাখাইনে সহিংসতা দ্রুত বন্ধ করুন’

‘রাখাইনে সহিংসতা দ্রুত বন্ধ করুন’

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর এই আহ্বান জানানো হয়। ১৫ সদস্যের এই পরিষদের বৈঠকে রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের কারণে ৩ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে পরিষদের এক বিবৃতিতে রাখাইনের ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে সেখানে মানবিক সহায়তাকর্মীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি জাতিসংঘে ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রদূত তেকেদা আলেমু সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের সময় ব্যাপক সহিংসতার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিষদের সদস্যরা এ সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।’

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিল পরিষদের স্থায়ী সদস্য ব্রিটেন ও অস্থায়ী সদস্য সুইডেন। ওই বৈঠকের পর জাতিসংঘে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রাইক্রফট বলেন, ‘গত নয় বছরের মধ্যে এই প্রথম মিয়ানমার নিয়ে বিবৃতিতে সম্মত হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।’

এদিকে নিরাপত্তা পরিষদের ওই বৈঠকের আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমরা ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক পরিস্থিতি বিপর্যয়কর অবস্থায় পৌঁছেছে।’ তিনি রোহিঙ্গাদের ওপর এই নিপীড়নকে ‘কার্যত জাতিগত নির্মূল’ বলে মন্তব্য করেন।

রাখাইনে বেসামরিক লোকজনের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণকে ‘উদ্বেগজনক’ এবং ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, ‘আমি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি রাখাইনে সামরিক অভিযান বন্ধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের ফেরার অধিকার স্বীকার করে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ‘জাতিগত নির্মূলের’ শিকার হচ্ছে কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, ‘যখন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এক-তৃতীয়াংশ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে, তখন সেই পরিস্থিতি তুলে ধরতে এর চেয়ে ভালো কোনো শব্দ আপনি কি খুঁজে পাবেন?’

Share Button
Previous আমরা কি ত্রাণও দিতে পারব না? প্রশ্ন আব্বাসের
Next সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আইনের রক্ষক হয়ে কাজ করবে পুলিশ: প্রধানমন্ত্রী

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply