তিন পুত্র পুলিশ কর্মকর্তা, কন্যা শিক্ষিকা: মা অনাহারী !

তিন পুত্র পুলিশ কর্মকর্তা, কন্যা শিক্ষিকা: মা অনাহারী !

বরিশাল ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): তিন পুত্র পুলিশ কর্মকর্তা, এক কন্যা সরকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অথচ তাদের গর্ভধারিণী মা ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে। এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের মৃত্যু আইয়ুব আলী সরদারের স্ত্রী মোসাঃ মনোয়ারা বেগমের (৮০) । ২০১৪ সালের স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে এই অবস্থা। স্বামীর মূল ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ইজিবাইক চালক ছেলের কাছেই থাকতেন তিনি। শোনা যায়, ছোট ছেলেকে দুই শতক জমি লিখে দেয়ার অজুহাতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি হয়। অযত্নের অত্যাচারে আর বয়সের ভারে এখন তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেও পারেন না। কয়েক বছর আগে স্ট্রোক হওয়ায় মানসিক ভারসাম্যও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক মাস আগে পা ফসকে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড়ও ভেঙ্গে যায়। সেই থেকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের এই অভাগা মা বাবুগঞ্জ স্টীল ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তের একটি খুঁপরী ঘরে বিনা চিকিৎসায় বেঁচে আছেন।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ‘বরিশাল ট্রিবিউন’ এ ‘মাকে দিয়ে ভিক্ষা করায় ৩ পুলিশ সন্তান’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সাথে সাথে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. টিপু সুলতান বাবুগঞ্জ উপজেলার ইউএনও দীপক কুমার রায়কে ঐ মা মনোয়ারা বেগমের চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। ইউএনও সেই বাড়িতে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ঐ মাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে তিনি ঐ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের ৪০৩ নম্বর কক্ষের বি-১৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন আছেন।

 

সোশাল মিডিয়ার ভুমিকা
পত্রিকায় তো এমন কতো অসহায় মানুষের খবরই ছাপা হয় এবং হয়েছে। তাতে কিছু কাজও হয়। কিন্তু তিন তিনটি বিভাগ (সমাজসেবা অধিদফতর, পুলিশ বিভাগ এবং জেলা প্রশাসন) এই অসহায় মায়ের পাশে যেভাবে এসে দাঁড়িয়েছে তার পিছনে সোশাল মিডিয়ার ভূমিকা সর্বাধিক বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। সোশাল মিডিয়ায় হাজার হাজার কমেন্ট আর শত শত শেয়ারের একটি সমন্বিত চাপ আছে যা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হবার চাপের চেয়ে বেশী শক্তিশালী। সোশাল মিডিয়ায় ঐ সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবী জানিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সম্ভবত সেজন্যই বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মহোদয় প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে উপস্থিত মিডিয়ার সামনে সমস্যা সমাধান সংক্রান্ত বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা করেন যা নজিরবিহীন। এই মুহূর্তে বরিশাল হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ডের বি-১৩ বেডের পাশে ৬ সন্তানকেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে সোশাল মিডিয়ার সর্বব্যপী শক্তির প্রমাণ দেয় আর অমিত সম্ভাবনার আশা জাগায়।

গৃহীত ব্যবস্থাদি
মাতা পিতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী সন্তানরা পিতা-মাতার খোঁজ খবর রাখতে বাধ্য। তাই ২১ সেপ্টেম্বর ডিআইজি, বরিশাল রেঞ্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম পিপিএম  মনোয়ারা বেগমের সন্তানদের কাছ থেকে এই মর্মে অঙ্গীকারনামা নেন যে, তারা পর্যায়ক্রমে ১৫ দিন করে দায়িত্ব পালন করে মায়ের সুস্থতার জন্য চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাবেন। এর মধ্যে কোন গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরপর সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি যার কাছে থাকতে চাইবেন তার কাছেই তাকে হস্থান্তর করা হবে। অন্য সন্তানরা তাকে সহায়তা করবেন। পুর্নাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্কুল শিক্ষিকা মেয়েকে শোকজ করেছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এদিকে চিকিৎসা পরবর্তী সময়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শান্তি নিবাস, বরিশালে বৃদ্ধা নারীকে রাখার জন্য ডিজি, সমাজসেবা ইতোমধ্যে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

 

 

Share Button
Previous মুক্তি পেল জয়ার ‘খাঁচা’
Next বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা নয় : প্রধানমন্ত্রী

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply