আজ মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা

আজ মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা

ঢাকা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): শারদীয় দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিনে বুধবার সারা দেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপিত হয়েছে মহাসপ্তমী। সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে নবপত্রিকায় প্রবেশ ও স্থাপনের মধ্য দিয়ে মহাশক্তি আনন্দময়ীর পূজা শুরু হয়। মহাসপ্তমীতে ষোড়শোপচারে অর্থাৎ ১৬টি উপাদানে দেবীর পূজা হয়। সেই সাথে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে দেবীর পূজা করেন ভক্তরা।
পুজার তৃতীয় দিন অর্থাৎ আজ বৃহস্পতিবার মহাষ্টমী। সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে মহাঅষ্টমী পূজার পর হবে কুমারী পূজা। এর বড় আকর্ষণ হলো ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন পূজামণ্ডপে অন্যান্য বছরের মতো মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা।
দুর্গাপূজার অন্যতম বৈশিষ্ট্য কুমারী পূজা। দেবী পুরাণে কুমারী পূজার সুস্পষ্ট উলেøখ রয়েছে। শাস্ত্রে সাধারণত এক বছর থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলণা কুমারীকে পূজার উলেøখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। বয়স ভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন। এ দিন নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। হাতে দেয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুর এবং পায়ে আলতা। ঠিক সময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়। চার দিক মুখর হবে শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মায়ের স্তব-স্তুতিতে।
১৯০১ সালে ভারতীয় দার্শনিক ও ধর্মপ্রচারক স্বামী বিবেকানন্দ সর্বপ্রথম কলকাতার বেলুড় মঠে ৯ কুমারীকে পূজার মাধ্যমে এই পূজার পুনঃপ্রচলন করেন। তখন থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে এ পূজা চলে আসছে। আধ্যাত্মিক ও জাগতিক কল্যাণ সাধনই কুমারী পূজার মূল ল্য। জগতের দ্বিধাদ্ব›দ্ব ও অশুভের ভেদাভেদ ভুলে মায়ের কৃপা তুষ্টি লাভই মানব জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য। সব রকম মঙ্গলের অধিষ্ঠাত্রী দেবী দুর্গা।
আগামীকাল ২৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মহানবমী। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব। এ দিন বিকেলে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন থেকে বিজয়ার শোভাযাত্রা বের করা হবে। এই শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে বাঙালি হিন্দুর চির কাক্সিত শারোদোৎসব।

Share Button
Previous এবার গাড়ি কিনতে ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাচ্ছেন উপসচিবরা
Next কষ্টের জয় বার্সেলোনার

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply