ঘুষের মামলায় শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে চার্জগঠন

ঘুষের মামলায় শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে চার্জগঠন

নারায়ণগঞ্জ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): ধর্ম অবমাননার অভিযোগে লাঞ্ছনার শিকার নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের মামলায় চার্জগঠন হয়েছে। এ মামলায় শ্যামল কান্তি স্থায়ী জামিনে রয়েছেন।

বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামানের আদালতে ঘুষ গ্রহণের মামলায় শ্যামল কান্তির অব্যাহতির আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে। পরে ঘুষ গ্রহণ ও প্রতারণার মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশ দেয় আদালত।

গেল বছর বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে এমপিওভুক্ত করে দেয়ার আশ্বাসে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মামলায় দায়ের হয়েছিল শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে।

শ্যামল কান্তি ভক্তের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘মামলাটি থেকে অব্যাহতির আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেছে। আমরা সুবিচারের আশায় আছি। শ্যামল কান্তি ভক্ত একজন শিক্ষক মানুষ, নিরাপরাধ। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্কুল থেকে তাড়ানোর জন্যই এ মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আশা করছি শ্যামল কান্তি স্যার সুষ্ঠু বিচার পাবেন।’

এ মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া।

উল্লেখ্য ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগে গত বছরের ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠ-বসের ঘটনার দুই মাসের মাথায় ওই বছরের ১৪ জুলাই এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক মোর্শেদা বেগমের কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে মামলা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ ৪ জনকে সাক্ষী দেখিয়ে ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এমপিওভুক্ত করে দেয়ার জন্য শ্যামল কান্তি ভক্তকে ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ দেন ইংরেজি শিক্ষক মোর্শেদা বেগম। এরপর আরো ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবী করেন। পরে আরো ১ লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু সে শিক্ষক মোর্শেদা বেগমের এমপিওভুক্তের দরখাস্ত কোন স্থানেই প্রেরণ করেনি। পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ফেরত চাইলে তিনি ২০১৬ সালের ১২ মে কোন টাকা নেয়নি বলে অস্বীকার করেন। এবিষয়ে মোর্শেদা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে বন্দর সহকারী কমিশনার ভূমি তদন্তও করেছেন। গত ২৪ মে শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ওই মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়। সেদিন শ্যামল কান্তি আদালতে আত্মসমর্পন করলে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। পরে গত ৩১ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন দেন। এ মামলায় ১৬ আগস্ট স্থায়ী জামিন লাভ করেছেন তিনি।

Share Button
Previous মিয়ানমারে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির কথা বিবেচনা করছে ভারত
Next ডিভোর্স নিয়ে হ্যাপির ফেসবুক স্ট্যাটাস

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply