রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে : সুষমা

রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে : সুষমা

ঢাকা ২২ অক্টোবর ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, বাস্তুচ্যুতদের (রোহিঙ্গা) রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব। আমাদের মতে, রাখাইন রাজ্যের সব সম্প্রদায়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে- এমন আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত প্রকল্পগুলোতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, রাখাইন সঙ্কট সমাধানে আনান কমিশনের প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নকে সমর্থন করে ভারত। রাজ্যের জনগোষ্ঠির কল্যাণের দিকটি মাথায় রেখে সংযত থেকে রাখাইন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমরা (মিয়ানমারকে) আহ্বান জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) চতুর্থ বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সুষমা স্বরাজ এসব কথা বলেন।

রোববার বিকেলে হোটেল সোনারগাঁওয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলীসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তার সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ও ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারির মধ্যে পেট্রোলিয়াম পণ্য ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি সই হয়েছে। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্সের (আইএসএ) অনুস্বাক্ষরকৃত দলিল ভারতের কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ।

‘পানি সম্পদ দুই দেশের ঐক্যের শক্তি হিসাবে কাজ করা উচিত’ মন্তব্য করে মাহমুদ আলী বলেন, তিস্তা চুক্তিসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বৈঠকে আমরা আলোচনা করেছি। ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের মেয়াদেই তিস্তা চুক্তি সই হবে বলে গত ৮ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরকালে) প্রতিশ্রুতির কথাটি আমরা স্মরণ করেছি। গঙ্গার পানি সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি সমীক্ষা চালানোর জন্য ভারতের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সমর্থন দেয়ার ভারতের নিশ্চয়তায় আমরা আনন্দিত। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেয়ার জন্য আমরা ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনসহ সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগে আমরা ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।

সুষমা স্বরাজ বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৬৫ সাল পূর্ববর্তী সড়ক, রেল, নদী ও উপকূলীয় জাহাজ চলাচল সংযোগ পুন:স্থাপনের মাধ্যমে কানেক্টিভিটি জোরদার করা দুই দেশের সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক। দুই দেশের মধ্যে চলাচল করা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। দুই প্রান্তের রেল স্টেশনে যাত্রীদের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস সম্পন্ন করার পাশাপাশি কলকাতা ও খুলনার মধ্যে বন্ধন ট্রেনের বাণিজ্যিক সার্ভিস শিগগির চালু হবে। ভারত ও বাংলাদেশের শহরগুলো বাস সার্ভিসের মাধ্যমে আরো বেশি করে সংযুক্ত হচ্ছে। সীমান্তে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততা আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ভারত ভ্রমণ করা পর্যটকদের শীর্ষ রয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে বাংলাদেশীদের জন্য ভারত নয় লাখ ৭৬ হাজার ভিসা ইস্যু করেছে। চলতি বছর তা ১৪ লাখে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরাসরি ট্রেন ও বাস সার্ভিস দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগকে অনেক সহজ করেছে। আমরা তরুণ, সংবাদকর্মী ও শিক্ষাবিদদের বিনিময়কে স্বাগত জানাই।

Share Button
Previous খালেদা-সুষমা বৈঠক: সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন চায় ভারত
Next প্রধানমন্ত্রীর সাথে সুষমার সাক্ষাৎ

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply