৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি: ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি: ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা ২ নভেম্বর ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে বিশ্ব আন্তর্জাতিক রেজিস্টার স্মারকে (মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার) অন্তর্ভুক্ত করায় ইউনেস্কোর মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সম্মোহনী ভাষণে গোটা বাঙালি জাতি অনুপ্রাণিত হয়েছিল এবং বিজয় ছিনিয়ে আনতে উজ্জীবিত করেছিল। তিনি বলেন, এ ভাষণ তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে এবং অনাদিকাল ধরে অনুপ্রাণিত করে যাবে। খবর বাসসের।

বুধবার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করায় ইউনেস্কো ও এর মহাসচিব ইরিনা বোকোভাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতরে ৩০ অক্টোবর এ অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ শুরু করে। অর্থনৈতিক শোষণ ছাড়াও তারা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানে। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগ নেয় পশ্চিম পাকিস্তানিরা। পাকিস্তানিদের এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম রুখে দাঁড়ান। তার নেতৃত্বে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের সংগ্রাম শুরু হয়। বাঙালিদের ওপর নেমে আসে অত্যাচার ও নির্যাতন। ’৫২-র ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-র ৬ দফা আন্দোলন, ’৬৯-র গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭০-র সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের পথ ধরে বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম এক যৌক্তিক পরিণতির দিকে ধাবিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা ঘোষণার অপরাধে পাকিস্তান সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে তাকে প্রথমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং পরে কুর্মিটোলায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করে রাখে। শুরু হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কার্যক্রম। কিন্তু বাঙালিরা দমার পাত্র নন। তারা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করে আনেন। সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের পতন হয়। আরেক সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা দখল করে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেয়। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ ২৩ বছর পাকস্তানি শাসকদের নিপীড়ন এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর ১৯৭০ সালে দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনে সমগ্র পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। তারা উল্টো বাঙালিদের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন শুরু করে। তিনি বলেন, এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভার ডাক দেন। সেদিনের জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু বজ কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণই ছিল প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা।

Share Button
Previous বিশ্বের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিদের তালিকায় ড. ইউনূস
Next শরীরের জন্য দইয়ের ভূমিকা

You might also like

জাতীয়

খুলনা-কোলকাতা ট্রেন চলাচল শুরু

খুলনা ৮ এপ্রিল ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): খুলনা-কোলকাতা ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। মৈত্রী এক্সপ্রেস-২ নামের ট্রেনটি আজ শনিবার সকালে খুলনা রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। ট্রেনটি সকাল ১০টার পর বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছানোর কথা

জাতীয়

শ্রমিক অধিকার: খারাপ দেশের তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশ

২২ জুন ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): শ্রমিকের অধিকার বাস্তবায়নের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ ১০টি দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক শ্রম অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি ভিয়েনামভিত্তিক ‘বৈশ্বিক শ্রম অধিকার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন

জাতীয়

ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে সাফাত-সাদমানকে জিজ্ঞাসাবাদে: ডিবি

ঢাকা ১২  মে ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):  রাজধানীর বনানীতে হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি। আজ

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply