সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের ইন্তেকাল

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের ইন্তেকাল

ঢাকা ৪ নভেম্বর ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস ইন্তেকাল করেছেন।শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। নব্বইয়ের দশকে বিএনপি সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস।
তার ছেলে মিজানুর রহমান এ হাসান মনু বিশ্বাস জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইউনাইটেড হাসপাতালের একজন ব্যবস্থাপক বলেন, রাত ৮টা ২৭ মিনিটে বনানীর গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্ট প্যালেসের বাসভবন থেকে গুরুতর অবস্থায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে আনা হয়। তার আগেই তার মৃত্যু হয়।
আবদুর রহমান বিশ্বাসের জন্ম ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশালের শায়েস্তাবাদে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে বিএ সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং তিনি আইনেও স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
ছেলে মুন বিশ্বাস জানান, বড় ভাই এহসানুল কবির জামাল বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলে তার বাবার দাফনকাজ সম্পন্ন হবে। এখন ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে লাশ রাখা হয়েছে।
১৯৯১ এর ১০ অক্টোবর থেকে ’৯৬ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে আবদুর রহমান বিশ্বাস বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
আবদুর রহমান বিশ্বাস ৪ ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। এরা হলেন, শামসুদ্দোজা কালাম বিশ্বাস, এহসানুল কবির জামাল বিশ্বাস, মিজানুর রহমান এ হাসান মনু বিশ্বাস, জামিরুল রহমান শিবলী বিশ্বাস এবং দুই মেয়ে আঁখি বিশ্বাস ও রোমেন বিশ্বাস রুবে।
স্ত্রী হোসেনে আরা রহমান এ বছরের ২৩ জুন মারা যান। এক ছেলে এহতেশামুল হক নাসিম বিশ্বাস ১৯৯৮ সালে মারা যান। এর আগে বাবা রাষ্ট্রপতি হলে ওই আসন থেকে নাসিম বিশ্বাস ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে আবদুর রহমান বিশ্বাস পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ থেকে ’৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদ সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে তিনি বরিশাল বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ’৭৭ সালে তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসেন। জিয়াউর রহমানের সময় থেকে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন দীর্ঘদিন।
১৯৭৯ সালে সাধারণ নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭৯-৮০ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৮১-৮২ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।
আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯৯১ সালে সংসদের স্পিকার ছিলেন। রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ১৯৯৬ সালে এক সেনা ক্যু ঠেকিয়ে দিয়ে দেশবাসীর কাছে যথেষ্ট প্রশংসিত হন তিনি।
রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর আবদুর রহমান বিশ্বাস রাজনীতি থেকে অবসর নেন।
রাষ্ট্রপতির শোক : বাসস জানায়, রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি এক শোকবার্তায় তার রূহের শান্তি কামনা এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
খালেদা জিয়ার শোক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

Share Button
Previous যৌন হেনস্তার অভিযোগে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ
Next বাংলাদেশ সন্ত্রাসী হামলার ‘উচ্চ ঝুঁকি’তে রয়েছে : অস্ট্রেলিয়া

You might also like

জাতীয়

আ’লীগ থাকলে জনগণের কল্যাণ হয়: প্রধানমন্ত্রী

২০  মে ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশে একটিই রাজনৈতিক দল রয়েছে, যেটি ক্ষমতায় থাকলে জনগণের কল্যাণ হয়।’ শনিবার গণভবনে আয়োজিত আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি

জাতীয়

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকেই খুঁজতে হবে

১০  মে ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মায়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার পথ খুঁজে বের করতে তার  বার্তা মায়ানমার সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে দেশটির বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মিয়ো মিন্ত থানের

জাতীয়

হস্তক্ষেপমুক্ত ইসি চায় গণফোরাম

ঢাকা, ৯ জানুয়ারি ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি):নির্বাচন কমিশন-ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব ও হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন, শক্তিশালী ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন গণফোরাম নেতৃবৃন্দ।তারা রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন, যেকোনো প্রভাব ও

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply