কুষ্টিয়ায় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে কলেজ ছাত্রীকে নির্যাতন

কুষ্টিয়ায় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে কলেজ ছাত্রীকে নির্যাতন

কাজী সাইফুলঃ কুষ্টিয়া ১০ নভেম্বর ২০১৭ (গ্লোবটুডেবিডি): কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনস স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী (ছদ্মনাম) মহুয়া কে গত বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের কাথুলিয়া গ্রামে মিথ্যা অভিযোগ এনে ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক কলেজ ছাত্রী (ছদ্মনাম) মহুয়াকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে জরীর মাজার বাঁশ বাগানে বেঁধে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে। বর্তমানে সেই কলেজ ছাত্রী কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। এই ঘটনায় কলেজ ছাত্রীর মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গেছে, ভাদালিয়া স্বস্তিপুরের শহিদুল ইসলাম বাবুর ছেলে রাসেল ভাদালিয়া একটি টেইলার্সের দোকান থেকে কলেজ ছাত্রী (ছদ্মনাম) মহুয়াকে বাড়ি পৌছে দেওয়ার নাম করে মটর সাইকেলে তুলে বটতৈল শিশির মাঠ এলাকার একটি নার্সারীর দিকে নিয়ে গেলে ওই কলেজ ছাত্রী চিৎকার করে বলে আমাকে এখানে নিয়ে আসলেন কেন আমার বাড়ি তো এইদিকে না। তার চিৎকারে রাসেলের শ্বশুড় বাড়ির লোকজন বিষয়টি দেখে ফেলায় রাসেল মেয়েটিকে ছেড়ে দিলে তাৎক্ষণিক ওই কলেজ ছাত্রী সেখান থেকে ভ্যান যোগে কাথুলিয়ায় তার নিজ বাড়িতে চলে আসে। কিছুক্ষণ পরে ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক ওই কলেজ ছাত্রীর বাড়ি যেয়ে তাকে চড় থাপ্পড় মেরে হাত ধরে টানতে টানতে জরীর মাজার বাঁশ বাগানে নিয়ে আসে। সেখানে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে উপস্থিত ছিল সাজ্জাক, সাজ্জাকের দুই ছেলে নাজমুল, নাসির ও মেয়ে আসমা, জামাই রিপন, হামিদ এবং আমদের ছেলে শাজাহান সহ অজ্ঞাত প্রায় ৪০-৫০জন। ইউপি সদস্য রাজ্জাক ও তার ভাই সাজ্জাক (ছদ্মনাম) মহুয়াকে গাছের ডাল ও বাঁশের কঞ্চী দিয়ে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। এসময় (ছদ্মনাম) মহুয়া মাটিতে লুটিয়ে পরলে সেখানে উপস্থিত রাজ্জাক মেম্বারের লোকজনও (ছদ্মনাম) মহুয়াকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে কলেজ ছাত্রী (ছদ্মনাম) মহুয়া মাটিতে পরে থাকলে কলেজ ছাত্রীকে ইউপি সদস্য রাজ্জাক ও তার ভাই সাজ্জাকের নির্দেশে বাঁশের সাথে বেঁধে তার ছেলে নাসির, নাজমুল ও তার জামাই ভাদালিয়া পাড়ার হজরত আলীর ছেলে রিপন। মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে এই বলে যাতে কলেজ ছাত্রী (ছদ্মনাম) মহুয়ার কোন দিন বিয়ে না হয়। এই ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। পরিবারের দাবী পুলিশ নাসির, নাজমুল, রিপন, হামিদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এই ছবি ও ভিডিও চিত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে কলেজ ছাত্রী (ছদ্মনাম) মহুয়ার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, পূর্ব পরিকল্পিত মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে এভাবে মারধর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ওই ছাত্রীর বোন গোলাপী জানান আমার বোনকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বুধবার দুপুরে বাড়ি থেকে রাজ্জাক মেম্বার ধরে নিয়ে যায় জরীর বাঁশ বাগানে। সেখান থেকে রাজ্জাক মেম্বার ও তার ভাই সাজ্জাক ও তার ছেলে, মেয়ে, বউ, জামাই সহ তার লোকজন আমার বোনকে শারীরিক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতন করেছে। ওই কলেজ ছাত্রীর মামী মর্জিনা খাতুন জানান, আমি যখন শুনতে পাই (ছদ্মনাম) মহুয়াকে রাজ্জাক মেম্বার ও সাজ্জাক ধরে নিয়ে জরির বাঁশ বাগানে গেছে। আমি সেখানে যেয়ে দেখতে পাই রাজ্জাক মেম্বার, সাজ্জাক, শাজাহান, হামিদ, সাজ্জাকের ছেলে, মেয়ে, বউ, জামাই ও তাদের লোকজন (ছদ্মনাম) মহুয়াকে মারধর করছে। এ অবস্থা দেখে আমি রাজ্জাক মেম্বার ও তার ভাই সাজ্জাকের পা জড়িয়ে ধরলে তারা আমাকে লাথি মেরে ফেলে দেই। (ছদ্মনাম) মহুয়ার ভিডিও ও ছবি তুলতে বাঁধা দিলে সাজ্জাক তাকে থাপ্পড় মেরে চুলের মুঠি চেপে ধরে এবং নাসির নাজমুল ও রিপন মোবাইলে ভিডিও করে ও ছবি তুলে। এ সময় (ছদ্মনাম) মহুয়ার গায়ে জড়ানো একটি গামছা ছিল তাও ফেলে দেই শাজাহান। এ ব্যাপারে ভাদালিয়া বাজারের স্থানীয় ডাক্তার জহুরুল ইসলাম জানান, আমাকে রোগীর লোকজন ডেকে নিয়ে যায়। যেয়ে দেখি ওই কলেজ ছাত্রীর সারা শরীর ক্ষত বিক্ষত ও রক্তের ছাপ। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাতে বলি। আলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন শেখ কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কলেজ ছাত্রীকে বাঁশ বাগানে নিয়ে মারধরের কথা শুনেছি। তবে ওই সালিশে ছিল ২নং ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(অপারেশন) শেখ ওবায়দুর রহমান জানান, এক কলেজ ছাত্রী নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে এসেছে এই বিষয়টা জানার পর আমাদের একজন এস আইকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিলো। এ ব্যাপারে আলামপুর পুলিশ ক্যাম্পের এস আই মতিন জানান, আমি এ ব্যাপারে শাজাহান নামে এক ব্যাক্তিকে আটক করেছি। ওই কলেজ ছাত্রীর মা বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন, স্বস্তিপুর গ্রামের শহীদুল ইসলাম বাবুর ছেলে রাসেল, আলামপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, কাথুলিয়া গ্রামের কাদের বিশ্বাসের ছেলে সাজ্জাক, সাজ্জাকের ছেলে নাসির, নাজমুল ও মেয়ে আসমা, কাথুলিয়া আমদ বিশ্বাসের ছেলে শাজাহান, আকবরের ছেলে হামিদ।

Share Button
Previous ব্রাজিলের সহজ জয়
Next সোনাইমুড়ীতে যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply