রংপুরের সুষ্ঠু ভোট ইসির যোগ্যতার মাপকাঠি নয় : সুজন

রংপুরের সুষ্ঠু ভোট ইসির যোগ্যতার মাপকাঠি নয় : সুজন

ঢাকা ০১ জানুয়ারি ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি):  সুজনের নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, রংপুর সিটি নির্বাচন একটি ছোট জায়গায় হয়েছে। আমরা সবাই এ নির্বাচনকে যতটা গুরুত্ব দিচ্ছি তা আদৌ জরুরি কি-না? ৩০০ আসনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় একদিনেই এবং যেখানে সরকারও পরিবর্তন হবে। তাই আমি মনে করি, এটি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বভাস নয়। এ নির্বাচন দিয়ে নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা, যোগ্যতা নিরুপণ করা সম্ভব নয়। জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন কতটা দক্ষতা ও কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে পারে তা দেখার বিষয় হবে। রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন : বিজয়ীগণের তথ্য উপস্থাপন ও নির্বাচন মূল্যায়ন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন এবং নির্বাহী সদস্য ড. হামিদা হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন সহ-সভাপতি বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অতীতে বিতর্কিত ছিলো। রংপুর সিটি নির্বাচনের পর কিছুটা হলেও বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রংপুরে সরকার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। গণমাধ্যম সজাগ ছিলো। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আমরাও বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এর ফলে রংপুরে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সরকার যদি নিরপেক্ষ আচরণ না করে তবে সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুজনের আরেক নির্বাহী সদস্য ড. হামিদা হোসেন বলেন, সংরক্ষিত আসনসহ সাধারণ আসনে তিনজন মাত্র নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্বাচনে কি আদৌও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম-সুযোগ রয়েছে কি-না এ নিয়ে আমার মনে সংশয় রয়েছে। আমি মনে করি, এর পেছনে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতাই মূলত দায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার রংপুর সিটিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত তথ্য উপস্থাপন করেন।প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মো. মোস্তাফিজার রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। এছাড়া নবনির্বাচিত ৩৩ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ১৩ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে।

নবনির্বাচিত মেয়র মো. মোস্তাফিজার রহমানসহ ৩৩ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ২৪ জনই ব্যবসায়ী। সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ১৪ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, স্বল্প আয়কারী প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার হার প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুলনায় কম। নবনির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মধ্যে শতকরা ৮১.৮১% ভাগ পাঁচ লাখ টাকার কম মূল্যমানের সম্পদের মালিক।

তিনি বলেন, প্রার্থীদের সম্পদের হিসাবের যে চিত্র উঠে এসেছে, তাকে কোনোভাবেই সম্পদের প্রকৃত চিত্র বলা যায় না। কেননা, প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই প্রতিটি সম্পদের মূল্য উল্লেখ করেন না, বিশেষ করে স্থাবর সম্পদের। আবার উল্লিখিত মূল্য বর্তমান বাজার মূল্য না, এটা অর্জনকালীন মূল্য।

Share Button
Previous নতুন বছর ২০১৮ : দেশবাসীকে খালেদার শুভেচ্ছা
Next ইসির নিবন্ধন পেতে ৭৬ দলের আবেদন

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply