তীব্র শীতে ১০ জনের মৃত্যু

তীব্র শীতে ১০ জনের মৃত্যু

ঢাকা ৯ জানুয়ারি ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় সোমবার তাপমাত্রা নেমেছিল ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটিই ৫০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সর্বনিম্তা মাত্রা। এর আগে ১৯৬৮ সালে বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুর বিভাগের অবশিষ্ট জেলাগুলোতেও সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করে।। সোমবার সৈয়দপুরে তাপমাত্রা নেমে যায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এসব অঞ্চলে প্রচণ্ড শীতে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। গতকাল শীতে পাবনায় ছয়জনসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, ১৯৪৮ সাল থেকে আবহাওয়া অফিসে তাপমাত্রার রেকর্ড রয়েছে। দেখা যাচ্ছে ১৯৬৮ সালে শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা নামে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু আজকে (গতকাল সোমবার) তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলের রেকর্ড ভেঙেছে।

প্রচণ্ড শীতে মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা ধরনের সমস্যা। কারো ডায়রিয়া, কেউ ভুগছেন হাঁপানিতে। আবার সর্দি-কাশি খুবই সাধারণ বিষয়। কেউ কেউ ভুগছেন প্রচণ্ড মাথা ব্যথায়। হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসকেরা সর্দি-কাশি, হাঁপানি ও ডায়রিয়ার রোগী বেশি আসছেন বলে জানান। চিকিৎসকদের চেম্বারে এত রোগী আসছেন যে রাত পর্যন্ত তাদের চেম্বারেই থাকতে হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানান, হিমালয় অঞ্চলের হিমশীতল বায়ুপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে নেমে আসায় এবং শুষ্ক বাতাস, ঘন কুয়াশা, ঊর্ধ্বাকাশের জেট বায়ু ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি চলে আসার কারণেই তাপমাত্রা এত বেশি নিচে নেমেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেট বায়ু খুবই ঠাণ্ডা থাকে। এটি স্বাভাবিক সময়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ফুটের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় এটি ১০ থেকে ২০ হাজার ফুটে নেমে আসে। এ বছর জানুয়ারির শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ঠাণ্ডা বায়ু প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। গত ৩ জানুয়ারির বিকেল থেকেই দেশের অর্ধেক অঞ্চল মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের আওতায় চলে আসে। গত ৪ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা নামে সাড়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এরই ধারবাহিকতায় গত দুই দিন থেকে কয়েকটি স্থানে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন, চলতি শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা দুই থেকে তিন দিন পর ধীরে ধীরে উন্নতি হবে। তবে আগামী পাঁচ দিন পর তাপমাত্রা অনেকটাই বাড়তে শুরু করবে। কারণ আন্দামান সাগরে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়ে গতকাল বিকেল পর্যন্ত তা অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তংসংগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। লঘুচাপটি আরেকটু অগ্রসর হলে তা দেশের তাপমাত্রার ওপর প্রভাব ফেলবে। ধীরে ধীরে শৈত্যপ্রবাহকে আরো উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ঠেলে দেবে। তখন তাপমাত্রা একটি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসতে পারে।

গতকাল পর্যন্ত রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ ছাড়া টাঙ্গাইল, শ্রীমঙ্গল, চুয়াডাঙ্গা এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। আজ মঙ্গলবারও এসব অঞ্চল ছাড়া তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আওতা বাড়বে যশোর অঞ্চলেও। আজ ময়মনসিংহ, বরিশাল বিভাগ এবং ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অবশিষ্ট অঞ্চল এবং সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে বয়ে যেতে পারে মৃদু থেকে মাঝারি (৬.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের শৈত্যপ্রবাহ।
আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে রাতের তাপমাত্রা সকাল পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাবে।

 

পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া সংবাদদাতা জানান, গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। সোমবার সকালে এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত চার দিনের মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের পর রোববার রাত থেকে শুরু হয় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। গতকাল ভোর থেকেই ভারী কুয়াশায় ঢেকে যায় জেলার সব এলাকা। ভোরে দুই হাত সামনের জিনিসও ভালোমতো দেখা যায়নি। তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সূর্যের মুখ দেখা যাওয়ার পর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক তৌহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার সকাল ৬টার সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার সকাল ৯টায় রেকর্ড করা হয় সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরো জানান, একই অফিসের গ্রাস থার্মোমিটারে গতকাল সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Share Button
Previous শানুর ''মিস্টার বাংলাদেশ''
Next ঢাকা উত্তর সিটিতে একক প্রার্থী দেবে ২০ দলীয় জোট

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply