প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় সাতক্ষীরায় জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় সাতক্ষীরায় জনজীবন বিপর্যস্ত

এম এম রায়হান, সাতক্ষীরা ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি) : কয়েকদিনের তীব্র শীতে সাতক্ষীরায় শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগ-বালাই বেড়েছে। ঠান্ডায় কোল্ড ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ঠ, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ বৃদ্ধরা। এর ফলে রুগীদের ভীড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, শীতের কনকনে ঠান্ডায় জন জীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় দেশের উত্তরাঞ্চলের সাথে পাল্টা দিয়ে বাড়ছে শীত। শীতের তীব্রতায় প্রতিদিনই শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে। তাদেরকে ভর্তি করা হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। প্রচ- শীতে গত কয়েক দিনে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে আটজনের। এছাড়া ঠান্ডাজনিত রোগাক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে কমপক্ষে ২৮৯ জন শিশু। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর পরই শহরে মানুষ চলাচল কমে যাচ্ছে। দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হাঁট-বাজারের দোকানপাট। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শুরু হচ্ছে ঘণ কুয়াশা। ভোর বেলা ঘণ কুয়াশায় ঢাকা থাকছে শহরের রাস্তাঘাট। দুপুরে হালকা রৌদ বের হলেও তার উত্তাপ খুব কম থাকে। হঠাৎ প্রচ- শীতে শ্রমজীবি মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়ে গেছে। কনকনে শীতে তারা ঠিকমত কাজ করতে পারছে না। শীতে বস্তির হত দরিদ্রদের দূুর্ভোগ বেড়ে গেছে। গরম কাপড়ের খোঁজে পুরানো কাপড়ের দোকানে ভীড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত দশদিনে সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত রোগাক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১৪১ শিশু। এছাড়া ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৭৩জন। একইভাবে সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৩৫ শিশু। সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকার আমিনুর রহমান আলম জানান, তার মেয়ের বয়স দুই বছর। হঠাৎ সে ডায়রিয়া বমি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়। প্রথমে তাকে ডাক্তার দেখানো হলেও না কমায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এখন সে মোটা মুটি সুস্থ আছে। সাতক্ষীরার ভোমরস্থল বন্দর এলাকার খোকন জানান, তার ছেলের বয়স দুই বছর। প্রচ- শীতে সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। প্রথমে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সদর হাসপাতালের নার্স রাবেয়া খাতুন বলেন, হঠাৎ শৈত্য প্রবাহের সাথে শীত বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দশদিনে আড়াই শতাধিক শিশু সদর হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগাক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। তাদের আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডা: মো: সামছুর রহমান জানান, ঠান্ডা জনিত কারণে শিশুদের কোল্ড ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় বেশি আকান্ত হচ্ছে। কখনও ঠান্ডা বেশি আবার কখনও গরম হওয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে। প্রতিদিন সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রুগী ১০ থেকে ১৫ জন ভর্তি হচ্ছে। ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রুগী ভর্তি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ জন ও আউটডোরে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগি আসছে। সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রচন্ড শীত পড়ায় অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে শিশুরা কোল্ড ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। গত দশদিনে এই হার বেড়েছে। সচেতন না হলে অর্থাৎ শিশুদের ঠান্ডা থেকে দূরে রাখতে না পারলে তা ভোগান্তির কারণ হতে পারে। এদিকে, সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, সাতক্ষীরায় জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে গড় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ৮ জানুয়ারি ৭.৫ ডিগ্রি, ৯ জানুয়ারি ৫.৬ ডিগ্রি ও ১০ জানুয়ারি ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাড়ায়।

Share Button
Previous টাইম মেশিন ক্যামেরা!
Next প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় : দুদু

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply