স্বজনদের কাছে দেশের খবর নিলেন খালেদা জিয়া

স্বজনদের কাছে দেশের খবর নিলেন খালেদা জিয়া

ঢাকা ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): নাজিমুদ্দিন রোডের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের অফিস কক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ২ রাত কেটেছে। এ দিকে আদালতে জিয়া অরফারেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে বিচারক তাকে বৃহস্পতিবার পাঁচ বছরের সাজা প্রদান করে কারাগারে পাঠানোর ২৪ ঘণ্টা পর আজ শুক্রবার তার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন পরিবারের চার সদস্য। তারা ঘণ্টাব্যাপী পারিবারিক, রাজনৈতিক ও মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেন। তবে কারাগার থেকে বের হয়ে তারা মিডিয়ার মুখোমুখি না হয়ে অন্য রাস্তায় চলে যান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, খালেদা জিয়ার সাথে তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ছেলে অভি এস্কান্দার ও খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা হোসেন দেখা করতে শুক্রবার বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে কারাগারের সামনে যান। অনুমতি নিয়ে তারা খালেদার সাথে এক ঘণ্টা কথা বলেন। সাক্ষাৎ শেষে তারা মিডিয়ার সাথে কথা বলবেন, এমনটি মনে করে শতাধিক সংবাদকর্মী অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত তারা নাজিমুদ্দিন রোডের পথে না গিয়ে কারাগারের পূর্ব পাশের সাতরওজা এলাকা দিয়ে চলে যান। সাক্ষাতের সময় কারা কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে। রাত পৌনে ৭টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের নেতৃত্বে তিনজন সিনিয়র আইনজীবী খালেদা জিয়ার অবস্থান জানতে আবেদন নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যান। সেখান থেকে বের হয়ে ব্যারিস্টার খোকন জানান, খালেদা জিয়াকে মেডিক্যাল কেয়ারে নেয়ার জন্য আমরা একটি আবেদন দিয়ে এসেছি।

এর আগে সকালে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করতে যান জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকাসহ দু’জন। তারা ফল নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কারাগারে অপেক্ষা করলেও তাদের সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হয়নি।

পুরান ঢাকার এ কারাগারে আগে ডিউটি করেছেন এমন একজন কর্মকর্তা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে যদি সিনিয়র জেল সুপারের ওই কক্ষটিতে রাখা হয়, তাহলে সেই কক্ষটি ২৫০-৩০০ বর্গফিটের বেশি হবে না। তবে সামনে বারান্দাসহ আরো দু-তিনটি ছোট রুম রয়েছে। তার রুমের ভেতর কমোড লাগানো যে বাথরুম রয়েছে, সেটি আগের অবস্থায় থাকলে সেটি একটু নিচু বলেই তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি, আলোচনায় পারিবারিক, রাজনৈতিক ও মামলাসংক্রান্ত বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। এর মধ্যে খালেদা জিয়া তাদের কাছে বাইরের সর্বশেষ অবস্থাও জানতে চান। তখন তারা তাকে জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পরে তিনি (ম্যাডাম) পরিবারের সদস্যদেরকে বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের কাজ করো’ আর ‘দলের লোকজন দলের কাজ করুক’।

জানা যায়, খালেদা জিয়াকে কারা অফিস কক্ষে রাখা হলেও মূলত তার থাকার জন্য এ কারাগারের প্রধান ফটকের ডান পাশের (উত্তর) ডে-কেয়ার সেন্টারের দোতলায় নতুন খাট, চেয়ার, টেবিল, এসিসহ প্রয়োজনীয় সব কিছুই কেনা হয়েছে। মহিলাসহ তিনজন ডেপুটি জেলার ও ১০ জন মহিলা কারারক্ষী খালেদা জিয়ার সেবায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন। পাশাপাশি কাশিমপুর মহিলা কারাগারে (পার্ট-৩) রাখারও ব্যবস্থা করে রেখেছেন কারা কর্তৃপক্ষ।

মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রথম শ্রেণীর সাজাপ্রাপ্ত বন্দীর মর্যাদা দেয়ার কথা বললেও আজ পর্যন্ত কারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা স্বীকার করা হচ্ছে না। কারণ কারা কর্তৃপক্ষ এখনো ডিভিশনের কাগজ হাতে পাননি।

তবে সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার সাথে তার ব্যক্তিগত গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে বৃহস্পতিবার দিন থেকেই কারাগারে থাকা ও সেবা করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে।

 

Please follow and like us:
Previous ১১০ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ
Next কক্সবাজারে ইয়াবাসহ আটক ২

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply