চুয়াডাঙ্গার খেজুরের গুড় স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়

চুয়াডাঙ্গার খেজুরের গুড় স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়

চুয়াডাঙ্গা ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় চুয়াডাঙ্গার উৎপাদিত খেজুরের গুড়। জেলার ৪ উপজেলার প্রতিটি গ্রামে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছে গুড় তৈরীতে। আর এই নলানে গুড়ের হাট বসছে চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি স্থানে। মাঘের শেষ ও ফাল্গুনের শুরুতে গুড় উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তর চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জের খেজুর গুড়ের হাট জমে উঠেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসছে ব্যাপারিরা। সপ্তায় দুই দিন সোম ও শুক্রবার এ হাট বসে। হাট থেকে প্রায় ২০-৩০ ট্রাক গুড় ব্যাপারিরা ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করেন। প্রায় দুই কোটি টাকার গুড় কেনা বেচা হয় হাটে।
দেশের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। এ জেলার মানুষেরা কৃষির উপর নির্ভরশীল। ধান, পাট, ভূট্টা, সবজী চাষের পাশাপাশি শীত মৌসুমে খেজুরের গুড় তৈরী করে বাড়তি উপার্জন করে। জেলায় রয়েছে প্রায় ৩ লাখ খেজুর গাছ। শীত মৌসুম শুরুর সাথে সাথে কৃষকরা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে সুস্বাদু গুড় তৈরী করে। তাই নলানে এ গুড় দিয়ে পিঠা পায়েস বানানোর ধুম পড়ে গেছে এলাকায়। অনেক কৃষকই প্রতিদিন ১/২ ভাড় গুড় তৈরী করে। কৃষকরা জানান, ১০-১২ ভাড় রস জ্বাল দিয়ে তৈরী হয় ১ ভাড় (১০-১১) কেজি গুড়। ৪০-৫০টি খেজুর গাছ কাটলে গড়ে প্রতিদিন ৮-১০ কেজি গুড় পাওয়া যায়। গত বছরের তুলনায় গুড়ের দাম একটু বেশি হওয়ায় লাভ হচ্ছে। এই গুড় বিক্রির জন্য তোলা হয় চুয়াডাঙ্গার বৃহত্তর সরোজগঞ্জ হাটে।
হাটের দিন কয়েকশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। হাটে কাজ করে এলাকার অনেক মানুষ স্বাবলম্বী হচ্ছে। গুড়ের হাটের পাশে মাটির হাড়ির(ভাড়ের) হাট বসে। এখানে প্রতিহাটে ২ হাজার ভাড় বিক্রি হয় বলে জানালেন এখানকার ব্যাপারীরা। তা থেকে অনেকের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এখানকার গুড়ের মান অন্য জেলার চেয়ে অনেক ভাল। অন্যান্য স্থানে গুড়ের সাথে চিনি ভেজাল দেয়া হলেও এখানে তা কম দেয়া হয়। হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাল। গুড়ের ব্যবসা লাভজনক। বর্তমানে প্রতি কেজি গুড় ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রকার ভেদে একভাড় (১২/১৪ কেজি) গুড়ের দাম ১০০০/১২০০ টাকা। সরোজগঞ্জ হাট থেকে প্রতি সপ্তাহে ২০-৩০ ট্রাক গুড় ঢাকার কালামপুর, সাভার, সিরাজগঞ্জ, সিলেটসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নেয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবায়ের মাশরুর বলেন, চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলায় রয়েছে খেজুর গাছ রয়েছে ৩ লাখ। গাছিরা শীত মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে রস তৈরি করেন। রস জ্বালিয়ে তারা গুড় তৈরি করেন। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গাছি(কৃষকরা) প্রতি সোমবার ও শুক্রবার সরোজগঞ্জ হাটে গুড় বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। এই হাটটি দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এ বছর শীত বেশি হওয়ায় গুড়ের মান অন্যান্য বছরের তুলনায় ভাল। প্রতি হাটে ১ কোটি টাকার গুড় বেচাকেনা হয়ে থাকে।

Share Button
Previous আনসার-ভিডিপিকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
Next সিতারায় ব্যস্ত জাহিদ হাসান

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply