বেসিক ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাচ্চু ফের দুদকে

বেসিক ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাচ্চু ফের দুদকে

ঢাকা ৮ মার্চ ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুকে চতুর্থ দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন তিনি।

এরপরই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

গত ৬ মার্চ দুদকের উপপরিচালক শামসুল আলমের সই করা চিঠিতে বাচ্চুকে তলব করে আজ হাজির হতে বলা হয়েছিল।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ওই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান বেসিক ব্যাংকের আলোচিত প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু।

তিন দিন শেষে ৫৬টি মামলার মধ্যে ২৪টি মামলার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তৃতীয় বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদের কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চেয়ে দুদকে লিখিত আবেদন করেন আব্দুল হাই বাচ্চু। তার আবেদন নাকচ করে দুদক।

গত ৪ ডিসেম্বর বেসিক ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ওই দিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, নিজেকে দোষী মনে করি না। এরপর গত ৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় বারের মতো প্রায় সাত ঘণ্টা আব্দুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা।

তবে দ্বিতীয় দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যান জাতীয় পার্টির এই প্রাক্তন সংসদ সদস্য। তবে সাংবাদিকদের জেরার মুখে এক পর্যায়ে তিনি বিড়বিড় করে বলেন, ‘কী বিপদেই না পড়লাম।’

বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণ আসার পর সম্প্রতি ব্যাংকটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেয় দুদক। এর আগে ব্যাংকের প্রাক্তন ১০ পরিচালককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর তিন দিনে টানা ৫৬টি মামলা করেন দুদকের অনুসন্ধান দলের সদস্যরা। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় এসব মামলায় আসামি করা হয় ১৫৬ জনকে।

অনিয়মের মাধ্যমে ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এর মধ্যে রাজধানীর গুলশান শাখায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, শান্তিনগর শাখায় ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রধান শাখায় প্রায় ২৪৮ কোটি টাকা এবং দিলকুশা শাখায় ১৩০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। অভিযোগের বাকি অংশের অনুসন্ধান দুদকে চলমান।

মামলায় আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা আছেন ২৬ জন। বাকি ১৩০ আসামি ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সার্ভে প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকার ও ঋণগ্রহীতাদের অনেকেই একাধিক মামলায় আসামি হয়েছেন। এর মধ্যে ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে ৪৮টি মামলায়। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ডিএমডি ফজলুস সোবহান ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থ ২৩টি, মো. সেলিম আটটি, বরখাস্ত হওয়া ডিএমডি এ মোনায়েম খান ৩৫টি মামলার আসামি। তবে কোনো মামলায় ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুসহ পরিচালনা পর্ষদের কাউকে আসামি করা হয়নি। এ ছাড়া বেসিক ব্যাংকসংক্রান্ত বিষয়ে আরো ৪ মামলা করে দুদক।

২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ব বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে অনিয়মের মাধ্যমে মোট সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে নামে দুদক। ঋণপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়াসহ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিধিবহির্ভূত ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে।

জাতীয় পার্টির প্রাক্তন সংসদ সদস্য আব্দুল হাই বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়নও হয়। কিন্তু ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করার পর চাপের মুখে থাকা আব্দুল হাই বাচ্চু পদত্যাগ করেন।

Share Button
Previous ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বড় ধাক্কা, ২৭ হাজার সদস্যের পদত্যাগ
Next বিজিবির ডিজি আবুল হোসেনকে প্রত্যাহার !

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply