৭ই মার্চের ভাষণ মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রী

৭ই মার্চের ভাষণ মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা ১০ মার্চ ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭৫ সালের পর ৭ই মার্চের ভাষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। আজ সেই ভাষণের সম্মান ফিরে পাওয়া গেছে। এজন্য আমরা গর্বিত। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভাষণটি ছিল প্রেরণাদায়ক। কিন্তু এ নিয়ে প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল। আমাদের একটি প্রজন্ম প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ‘৭ই মার্চের ভাষণ এবং বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা’- শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমাকে ওই ভাষণের প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে বলার অনুরোধ জানানো হয়। আমি মনে করি, এদেশের মানুষের এসব জানার অধিকার রয়েছে। আমাদের পরিবারের তো দু’জনই বেঁচে আছি। আর কেউ তো নেই। ওইসময়কার ঘটনার নীরব সাক্ষীও ছিলাম আমরা। তাই আমাদের থেকে আর কে ভালো বলতে পারবেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট সেমিনারের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই ট্রাস্টের সভাপতি। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন। আলোচনায় অংশ নেন দি এশিয়ান এজ এর সহযোগী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল আহসান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আকসাদুল আলম। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশুরা হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ৭ই মার্চের ভাষণের বিস্তারিত প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।  তিনি বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ কোনো লিখিত ভাষণ না, কোনো রিহার্সেল দিয়ে তৈরি করা ভাষণও না। এই ভাষণ দীর্ঘ ২৩ বছরের লাঞ্ছনা-বঞ্চনা ও প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর। এই ভাষণের আবেদন যুগ যুগ ধরে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবীর যে কোনও ভাষণের চেয়েও এই ভাষণ সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী। এর কোনও তুলনা হয় না। এটি অতুলনীয় ভাষণ। ১৯৭৫ সালের পর ২১ বছর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল এ ভাষণ বাজানো। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে এ ভাষণ আজ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। মুক্তিযুদ্ধের সম্পূর্ণ দিক-নির্দেশনা ছিল এ ভাষণ। ভাষণটি মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিদিন বাজানো হতো। ১৯৭৫ সালের পর হারিয়ে গিয়েছিল এ ভাষণ, বাঙালি জাতি তা আবারও ফিরে পেয়েছে। শুধু বাংলাদেশ না, সারা বিশ্ব এ ভাষণ নিয়ে গর্বিত।

Share Button
Previous আমি দুর্বল, নিরীহ একজন মানুষ: নাহিদ
Next অবশেষে স্মরণীয় জয়

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply