মায়ের দুধের উপকারিতা

মায়ের দুধের উপকারিতা

১৪ মার্চ ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের বুকের শালদুধ দিন। এই শালদুধে রয়েছে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান, যা নবজাতকের সুস্থতার জন্য অতীব জরুরি। এতে আছে শতকরা ১০ শতাংশ আমিষ, রোগপ্রতিরোধক ইমিওনোগ্লোবিউলিন, লাকটোফেরিন, প্রচুর ভিটামিন ‘এ’, তুলনামূলক কম চর্বি ও শর্করাজাতীয় খাবার। এটা নবজাতককে জন্ডিস রোগ থেকে রক্ষা করে।

মায়ের দুধ শিশুর জীবন্ত অবলম্বন। শিশুর স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সহায়তাদানের ক্ষেত্রে মায়ের দুধের ভূমিকা অপরিহার্য। মহান আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে মায়ের বুকের দুধ শিশুর জন্য শ্রেষ্ঠ নেয়ামত।
আমরা অনেক দিন ধরেই জেনে আসছি ‘মায়ের দুধের বিকল্প নেই’। পাশাপাশি অজস্র ব্র্যান্ডের শিশুর দুধের বাহারি বিজ্ঞাপন আমাদের নজরে আসে। কখনো এসব দুধের বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে মায়েরা বুকের দুধের পরিবর্তে বিভিন্ন ইনফ্যান্ট ফর্মুলা খাইয়ে শিশুর মারাত্মক বিপদ ডেকে আনেন। সে কারণেই এ বছর মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের মূল স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘মায়ের বুকের দুধ : সুস্থ মা ও সুস্থ শিশু’। মায়ের দুধের ব্যাপারে আমাদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। শিশুকে কখন বুকের দুধ দেবেন সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের বুকের শালদুধ দিন।

কত দিন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে
শুধু বুকের দুধ শিশুকে ছয় মাস পর্যন্ত দিতে হবে। এ সময়ে শিশুর জন্য কোনো কিছুই যেমন গরুর দুধ, ইনফ্যান্ট ফর্মুলা দেয়া যাবে না। এ সময়ে শিশুকে এমনকি পানিও দেয়ার প্রয়োজন নেই। ছয় মাস পর থেকে বুকের দুধের পাশাপাশি স্বাভাবিক পারিবারিক খাবার যেমন খিচুড়ি, ভাত, ফলমূল ইত্যাদি দিতে হবে। পবিত্র কুরআনে কয়েকবার বলা হয়েছে- ‘তোমরা পূর্ণাঙ্গ দুই বছর মাতৃদুগ্ধ পান করাবে’। এ আলোকে বলা যায়, বুকের দুধ অনধিক দুই বছর পর্যন্ত অন্যান্য খাবারের সাথে দিতে হবে।

কী আছে মায়ের বুকের দুধে?
নবজাতক ও শিশুর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধিসাধনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সব কিছুই আনুপাতিক হারে বিদ্যমান এ দুধে। পরিমিত আমিষ, শর্করা, চর্বি, খনিজ লবণ যেমন- ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সবই এতে শিশুর প্রয়োজন মেটানোর মতো করেই রয়েছে। গরুর দুধে এসবই আছে কিন্তু আনুপাতিক হারে ভিন্নরকম- অনেক কিছুই আছে কম বা বেশি, যা শিশু স্বাভাবিকভাবে আত্মীকরণ ও দেহের কাজে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে দেখা দেয় নানা জটিলতা। উপরোল্লিখিত উপাদানগুলো ছাড়াও মায়ের বুকের দুধে আছে শিশুর রোগপ্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপাদান, যা শিশুকে নিরোগ রেখে স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধক ইমিওনোগ্লোবিউলিন আইজিজ, আইজিএন, ম্যাক্রোপজ, কমপ্লিমেন্ট সি-৩ ও সি-৪ ল্যাকটোফেরিন, লাইসোজিইম, ক্ষতিকর জীবাণুর বংশবৃদ্ধি প্রতিরোধক ফ্যাক্টর ইত্যাদি উপাদান শিশুকে জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

মায়ের দুধের উপকারিতা
বুকের দুধ শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্য গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটা আরো বেশি কার্যকর হয় যদি তা এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং হয়ে থাকে।
১. জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধ মায়ের বুকের দুধের ভূমিকা অতুলনীয়-
(ক) বুকের দুধ খাওয়া শিশুরা অন্য শিশু থেকে ২৫ গুণ কম ডায়রিয়া রোগে ভুগে থাকে।
(খ) নিউমোনিয়া আক্রান্তের ঝুঁকি শিশু ফর্মুলা গ্রহণকারী শিশুদের ৩-৪ গুণ বেশি হয়।
(গ) মায়ের দুধের অ্যান্টিবডি শিশুর প্রথম ভ্যাকসিন হিসেবে কাজ করে।
(ঘ) শিশুর দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সংগঠিত ও দ্রুত কার্যকর করে তোলে।

২. শিশুকে এলার্জি থেকে রক্ষা করে এই দুধ। জীবনের শুরুতে এক বোতল ফর্মুলার দুধও অ্যালার্জি প্রবণতাকে অনেক গুণ বৃদ্ধি করে।

৩. শিশুর অন্যান্য উপকারিতা যেমন- (ক) মায়ের বুকের দুধ শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস করে। (খ) ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও কানপাকার ঝুঁকি ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনে। (গ) রোগপ্রতিরোধক ভ্যাকসিনকে দ্রুত কার্যকরী করে তোলে। (ঘ) দাঁত ও মাড়ির রোগ থেকে শিশুকে কার্যকরভাবে রক্ষা করে। (ঙ) শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধি বৃদ্ধি উন্নয়নে ফর্মুলাগুলোর চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। (ট) শিশুর অস্থির রোগ রিকেট প্রতিরোধ করে এবং ক্যালসিয়াম আত্মীকরণে সহায়তা হবে। (ছ) শিশুর মস্তিষ্ক বৃদ্ধিতে এটা অতিপ্রয়োজনীয় একটি উপাদান। (জ) মা ও শিশুর পারস্পরিক বন্ধন অনেক দৃঢ় করে।

Share Button
Previous কাঠমান্ডুতে বিমান বিধ্বস্ত: বৃহস্পতিবার সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক
Next শুরু হল মেঘে ঢাকা শহর

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply