যুক্তরাজ্যের কাছে লুট হওয়া মুকুট ফেরত চায় ইথিওপিয়া

যুক্তরাজ্যের কাছে লুট হওয়া মুকুট ফেরত চায় ইথিওপিয়া

৬ এপ্রিল ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): ঔপনিবেশিক আমলে লুট হওয়া সোনার মুকুটসহ সব সম্পদ ফেরত দিতে যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইথিওপিয়া।

লুট হওয়া এসব সম্পদ লন্ডনের ভিক্টোরিয়া ও আলবার্ট মিউজিয়ামে রয়েছে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ইথিওপিয়াকে এসব ধার দেয়ার কথা বলছে।

কিন্তু ইথিওপিয়া তাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে লুট করা এসব সম্পদ স্থায়ীভাবেই ফেরত দিতে বলছে।

১৮৬৮ সালে রাজা দ্বিতীয় টেউড্রসের সময় ইথিওপিয়ার মেকদেলা শহর দখল করেন ব্রিটিশরা।

তারা রাজার সোনার মুকুট, পানীয় পরিবেশনের পেয়ালা ও রাজকীয় বিয়ের পোশাক লুট করে ব্রিটেনে নিয়ে যায়।

এর পর থেকে আফ্রিকার দেশটির জাতীয় সম্পদগুলো ভিক্টোরিয়া ও আলবার্ট মিউজিয়ামে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

ইথিওপিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিচালক ডিসালেগান আবেবাউ বার্তা সংস্থা আলজাজিরাকে বলেন, মেকদেলার এসব হাতে বানানো ঐতিহাসিক নিদর্শন জনসাধারণকে দেখানোর বিষয়টি আমরা ইতিবাচক মনে করি।

তবে ব্রিটিশদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা উচিত যাতে তারা এই নির্দশনগুলো প্রকৃত মালিককে ফেরত দেন।

আদ্দিস আবাবা গত ১০ বছর ধরে চুরি হওয়া সম্পদগুলো যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

২০০৭ সালে প্রকৃত মালিক হিসেবে ইথিওপিয়া সরকার সম্পদগুলো ফেরত পেতে একটি ক্ষতিপূরণের মামলাও করে।

এদিকে আলবার্ট মিউজিয়াম লুট হওয়া সম্পদগুলো দীর্ঘমেয়াদের জন্য ধার হিসেবে দেয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইথিওপিয়া।

তাদের দাবি, যেহেতু এ সম্পদগুলোর প্রকৃত মালিক ইথিওপিয়ার জনগণ; তাই স্থায়ীভাবে তাদের তা ফেরত দেয়া হোক।

আদ্দিস আবাবা বিশ্বাবদ্যালয়ের ইথিওপিয়ান স্টাডিজ বিভাগের পরিচালক এলিজাবেথ গিওরগিজ বলেন, তারা এটি যে কারো মাধ্যমে দখল করেছে। আর এটি অপরাধমূলক কাজ। এ জন্য তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

ফ্যাসিস্ট নেতা বেনিতো মুসোলিনির নেতৃত্বেও ইতালির সেনারা ইথিওপিয়ার ধর্মীয় সম্পদ লুট করেছিলেন।

তখন তারা ইথিওপিয়ার এক হাজার ৭০০ বছরের পুরনো গ্রানাইট শিলাও চুরি করেছিলেন। ৬৮ বছর পর ২০০৫ সালে শিলাটি ইথিওপিয়াকে ফেরত দিতে বাধ্য হয় ইতালি।

জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো চুরি হওয়া বিভিন্ন নিদর্শন পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা করছে। আফ্রিকার বিভিন্ন জাতির লুট হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে তারা সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে মিসর ও নাইজেরিয়া তাদের চুরি হওয়া সম্পদ ফেরত পেয়েছে। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সহায়তায় সুইস সরকার ৩২টি প্রাচীন সাংস্কৃতিক নিদর্শন মিসরকে ফেরত দেয়, যেগুলো ফারাও এবং রোমানদের সময়ে চুরি হয়েছিল।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল ম্যাক্রন বলেছেন, আফ্রিকার দেশগুলোকে এসব নিদর্শন ফেরত দিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

Share Button
Previous পর্ন তারকার ব্যাপারে মুখ খুললেন ট্রাম্প
Next নির্দিষ্ট সময়ের পরও বুকের দুধ খাওয়ানোয় বিপদ!

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply