আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারপর অন্য কথা : বরিশালে ফখরুল

আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারপর অন্য কথা : বরিশালে ফখরুল

বরিশাল ৮ এপ্রিল ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে এখন বুলেট ও জুলুমের শাসন চলছে, দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে, ব্যাংকগুলো লুট করা হয়েছে- অথচ তারা বলছে বাংলাদেশ নাকি উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে, এই উন্নয়ন হয়েছে কাদের, এই উন্নয়ন হয়েছে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগারদের। তিনি বলেন, এখন শুধু আলোচনার বিষয় একটাই। সেটা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি। তার মুক্তির দাবির কাছে কোনো আপস নয়। আগে তাকে মুক্তি দিতে হবে, তারপর অন্য আলোচনা।
শনিবার বিকেলে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান সরোয়ার। মির্জা ফখরুল বলেন, যিনি (খালেদা জিয়া) গণতন্ত্রের মাতা, এই দেশের মানুষের মুক্তির জন্য যিনি আজীবন লড়াই করেছেন সেই নেত্রীর মুক্তির জন্য আপনারা আজ এখানে এসেছেন। শুক্রবার দেশনেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, তাকে যখন বললাম- কালকে বরিশালে জনসভা করতে যাচ্ছি। তখন তিনি বললেন, বরিশালের জনগণকে আমার সালাম জানাবেন। বরিশালের মানুষ সংগ্রামী লড়াকু। তারা গণতন্ত্রের লড়াইয়ে আছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই দেশের জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। বর্তমান অবৈধ সরকার গায়ের জোরে বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা আজ জনগণের নেত্রীকে সুচিকিৎসা পর্যন্ত দিচ্ছে না।আজকে আপনাদের পরীক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে। পরীক্ষায় আপনাদের জয়ী হতে হবে। অন্যথায় চির জীবনের মতো আবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে,’ জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন ফখরুল। নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দয়া করে ধৈর্য ধরুন, শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্যে থাকেন। নেত্রী যে নির্দেশ দেবেন তা পালন করতে হবে। তবে এর আগে তাকে জেল থেকে বের আনতে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ আন্দোল করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, তিনবারের নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রীকে একটি পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে, তার জন্য ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। এটা অমানবিক। তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বিধায় পিস্তলের জোরে ক্ষমতা জবর দখল করে আছে, বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, কারাগারে ঢুকিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে শুধু সেলফি তুললে হবেনা, নিহত ভাইদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে হবে। শৃংখলার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

 

Share Button
Previous জামিন পেলেন সালমান খান
Next ম্যানসিটির উৎসব উপলক্ষ থামিয়ে দিল ম্যানইউ

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply