রাজধানীতে ‘ক্রসফায়ারে’ ‘কিশোর নিহত

রাজধানীতে ‘ক্রসফায়ারে’ ‘কিশোর নিহত

ঢাকা ৮ এপ্রিল ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি):   রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রাকিব হাওলাদার নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, ১৯ বছর বয়সী রাকিব পেশাদার ছিনতাইকারী। সে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র খন্দকার আবু তালহা হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন। এ ছাড়া একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সে অভিযুক্ত ছিল। এদিকে নিহতের স্বজনরা বলছেন, রাকিবের বয়স মাত্র ১২ বছর। বুধবার তাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। সে কিছুটা দুষ্টু হলেও কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। শিশুশিল্পী হিসেবে সে চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছে। রাকিবকে ‘হত্যা’র অভিযোগে আজ শনিবার আদালতে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছে তার পরিবার।
ওয়ারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম  বলেন, রাকিবকে বাসা থেকে ধরে আনার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বয়সের দাবিও ঠিক নয় বলে জানান তিনি।
এদিকে রাকিবের বাবা মহসীন হাওলাদার শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে গিয়ে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন। এ সময় তিনি ছেলেকে নির্দোষ দাবি করেন। নিজেকে চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, ২০০৬ সালে রাকিবের জন্ম হয়। সে এখনও কোমলমতি শিশু।পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। সে ‘ভালো আমাকে বাসতেই হবে’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়শিল্পী হিসেবে কাজ করেছে। মহসীন হাওলাদার প্রযোজিত এ সিনেমাটি ২০১৫ সালে মুক্তি পায়। তার প্রযোজিত ও রাকিব অভিনীত ‘এসো না প্রেম করি’ নামে আরেকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
মহসীন জানান, প্রথম সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তখন তিনি তিনটি চায়ের দোকান দেন। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে পরে তিনি দোকানগুলো ভাড়া দিয়ে ‘মদীনা ডিজিটাল সাইন’ নামে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ৩০ ও সপ্তাহে ২৫০ টাকা চাঁদা আদায় করে পুলিশ। মঙ্গলবার তিনি টাকা না দেওয়ায় বুধবার পুলিশ তার ছেলেকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাকিব নামে অন্য কেউ হয়ত হত্যা-ছিনতাইয়ে জড়িত। কিন্তু পুলিশ তার ছেলেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে।
স্বজনদের অভিযোগের জবাবে ওয়ারী থানার ওসি জানান, আবু তালহা হত্যাকাণ্ড ছাড়াও একাধিক হত্যা-ছিনতাইয়ে অভিযুক্ত ছিল রাকিব। তালহাকে ছুরিকাঘাত করার দু’দিন পর ১০ অক্টোবর ছিনতাই করতে গিয়ে সে ধরা পড়ে। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। তিন মাস তাকে কারাগারে থাকতে হয়। সর্বশেষ ২ এপ্রিল জয়কালী মন্দির এলাকায় মোক্তার হোসেন নামে একজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে সে।

Share Button
Previous জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হওয়া উচিত : সিইসি
Next কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান, পদযাাত্রা

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply