কোটা প্রথা বাতিল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

কোটা প্রথা বাতিল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান, ঢাকা ১২ এপ্রিল ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইলো। আশা করি, সুস্থ শরীরে বেশ ভালোই আছেন। গতকাল বিকালে জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ছাত্রের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য শুনে খুব খুশি হলাম। দেশের সর্বস্তরের ছাত্ররা যখন কোটা প্রথার সংস্কার নিয়ে আন্দোলনে মত্ত আর আপনি তখন সংস্কার না করে, পুরো কোটা প্রথাই বাদ করে দিলেন। খুব সুন্দর ও কার্যকরী একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আপনাকে এমন যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের জন্য সাধুবাদ জানাই। আপনি যে মা জননী, মহান পিতার যোগ্য কন্যা, সেটা বরাবরের মতো আবারও প্রমাণিত হয়ে গেল। কোটা বাতিল করে দেওয়ায় দেশের অনেক মানুষ আপনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছে আবার অনেক মানুষ বিরূপ মন্তব্য করেছে। দেশের কিছু হিংসুটে মানুষ গুলোর মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুনলে ভীষণ কষ্ট পাই গো মা জননী। ওরা আসলে আপনার রাজনৈতিক দক্ষতা ও সফলতা সহ্য করতে পারে না। তাই আপনার সব কিছুতেই সন্দেহ করে এবং কথায় কথায় নিন্দা জ্ঞাপন করে। আমি অতি সহজ সরল মানুষ, জটিলতা কম বুঝি। তাই আমি আপনার সিদ্ধান্ত শোনার সাথে সাথে আপনাকে সাধুবাদ জানিয়ে দিয়ে ছিলাম। দেশের একদল নিন্দুক বুদ্ধিজীবী বলছে, এটি নাকি আপনার একটি নতুন রাজনৈতিক কৌশল। তারা বলছে, এই কোটা প্রথা সংস্কার না করে কোটা বাতিল করে দিলে, সেটা দেশের সংবিধান পরিপন্থী হবে। তাদের যুক্তিটি উপস্থাপন করলাম, “কোটা প্রথা সম্পূর্ণ বাতিল করা সম্ভব নয়, কারণ কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করলে তা সংবিধানের ২৮(৪), ২৯(৩)(ক) অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক হবে। ফলে সুপ্রিমকোর্ট এ রিটে বর্তমান কোটা ব্যবস্থা ফিরে আসবে বা আদালত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কোটা প্রথা বহাল থাকবে।” কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছে, সামনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তাই এই সময়ে দেশে স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখতে এটা একটি রাজনৈতিক কূট কৌশল। এই আন্দোলনে বিরোধী শক্তিদের কোন রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না দিতে আপাতত এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কয়েক মাস গেলে সারাদেশ জুড়ে নির্বাচনী আমেজে প্রচার প্রচারণা শুরু হয়ে যাবে। নির্বাচনের আগে খুব বেশি সরকারি নিয়োগ দেওয়া হবে না। তাই এই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে কোটা প্রথার আসল রূপ মানুষ দেখতে পাবে। এখন মৌখিক ভাবে বাতিল করে দেওয়া হলেও সেটা তো আইন সম্মত না। আইন সম্মত করতে হলে জাতীয় সংসদে বিল পাস করে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কিছু ফালতু পোলাপান বলছে, আপনি নাকি খুব উত্তেজিত হয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। আপনি কোটা প্রথা বাতিল করে আন্দোলনে বিভক্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন। ওরা সবাই কোটা প্রথার সংস্কার চেয়ে আন্দোলন করে ছিল কিন্তু বাতিলের জন্য আন্দোলন করে নাই। কোটা বাতিল করে দিয়ে মেয়েদের এই আন্দোলন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ভবিষ্যতে কোটা নিয়ে কোন সমস্যা সৃষ্টি হলে, মেয়েরা যেন তাদের পাশে না থাকে। এছাড়াও যারা কোটাভুক্ত ছিল, তারা কোটা পাওয়ার দাবি রাখে। সর্বোপরি, তারা কোটা প্রথার সংস্কার চায়, বাতিল চায় না। আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ বলছে, আমরা চাইলাম কি আর উনি কি ঘোষণা দিলেন, তাজ্জব ব্যাপার! সবচেয়ে বড় কথা, ওরা নাকি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও ‘অন্যসব লীগের’ হাত থেকে বাঁচতে চায়। আপনার বক্তব্য শুনে ওরা সাংঘাতিক রকমের ভয় পেয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহী জওয়ানদের মতো কোটা প্রথার সংস্কার আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে গা ঢাকা দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। তাদের ধারণা, ছাত্রলীগ ও পুলিশলীগের বাহিনী ওদের গ্রেফতার করে, ওদের জীবন বিডিআর বিদ্রোহী জওয়ানদের মতোই বিভিষিকাময় করে দেওয়া হবে। আরও কতো জনে কতো কথা বলে, শুনলে সত্যি সত্যি মেজাজ চরম খারাপ হয়ে যায়। আমি খুব কষ্ট পাই এবং আমার হৃদয় খুব জর্জরিত হয়ে যায়। আপনি হলেন মা জননী, দয়ার সাগর। সন্তানের উপর রাগ করে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতেই পারেন। সন্তানের উপর রাগ করে পুরো কোটা প্রথা বাতিল করে দিতেই পারেন। এই দেশ স্বাধীন করে ছিলেন আপনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, এই দেশ স্বাধীন করে ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আপনি হলেন সেই মহান পিতার সন্তান এবং সেই গৌরবের রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রধান। আপনার একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে এতো কথা বলার কি আছে, অদ্ভুত সব মানুষ। এইসব মানুষ গুলোকে আল্লাহ্ হেদায়েত দান করুক, আমীন।

সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান

:  সম্পাদক, ত্রৈমাসিক আমাদের গল্পকথা।

Share Button
Previous বাংলাদেশে আর কোনো কোটা থাকবে না: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
Next সরকারের পরাজয় হয়েছে : মওদুদ

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply