মরা মুরগি বেচে কোটিপতি!

মরা মুরগি বেচে কোটিপতি!

৩০ এপ্রিল ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): মরা মুরগি বিক্রি করে কোটিপতি বনে গেছেন কাওসার আলি ঢালি! পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের গ্রাম থেকে দুবছরের মধ্যে লেক টাউনে ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া কাঁটারআটি গ্রামে রয়েছে নতুন বাড়ি। দুটি গাড়িও।

আগে কাওসার আলির গ্রামের বাড়িতেই ছিল মুরগির খামার। সেটি বন্ধ করে তিনি মন দেন মরা মুরগির কারবারে। কলকাতার আশপাশে কোন এলাকার খামারে মুরগি বেশি মরেছে, কোন বাজারে মাংসের চাহিদা বেশি জানতে তিনি লিঙ্কম্যানও লাগিয়েছিলেন।

তারাই হদিস দিত কোন কোন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, হোটেল বা রেস্তোরাঁয় কীভাবে পৌঁছানো হবে ভাগাড়ের মাংস। এমন ৫ জন লিঙ্কম্যানকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কাওসার অন্যতম জোগানদার হলেও ভাগাড়ের মাংস-কাণ্ডের মূলহোতা অবশ্য কাঁকিনাড়ার শরাফত হোসেন। ১৫–২০ বছর ধরে তিনি মরা পশুর মাংসের ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। তিনিও কোটিপতি। কাঁকিনাড়ায় তার পাঁচতলা বাড়ি। গাড়িও।

তবে শরাফত হোসেন পরিবারের দাবি, তিনি চামড়া, হাড় আর মিনারেল পানির ব্যবসা করেন।

প্রসঙ্গত, রোববার নারিকেলডাঙায় একটি বরফকলের খোঁজ মিলেছে। সেখানে বরফ তৈরির আড়ালে মরা মুরগির মাংস মজুদ করা হতো। আপাতত সেটির মালিক উধাও। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে।

মরা মুরগির চক্রের রহস্যভেদে ‘সিট’ (বিশেষ তদন্তকারী দল) তৈরির ভাবনা চলছে।

জানা গেছে, ৫০ টাকা কেজিতে মরা মুরগি কিনে প্রক্রিয়াকরণের পর তা পাঠানো হতো বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, হোটেল–রেস্তোরাঁয়।

এদিন সকালে গড়িয়ার বোড়ালে এক বাইক–আরোহীর সঙ্গের দুটি ব্যাগে ১০০ কেজি মুরগির মাংস মেলে। ছড়ায় আতঙ্ক।

পরে পুলিশ এলে জানা যায়, সেগুলো তাজা মাংস। তবে একের পর এক জায়গায় মরা মুরগি উদ্ধার হওয়ায় কমেছে বিক্রি। কমেছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কাটা মাংসের বিক্রিও। ছোট রেস্তোরাঁ, রাস্তার পাশে রোল, চাউমিনের দোকানেও মাংসের পদের বিক্রি কমেছে। আগে থেকে কেটে রাখা মুরগির বিক্রি নেই। সকলে জ্যান্ত মুরগি সামনে কাটিয়ে নিচ্ছেন। এর পর সুযোগ বুঝে দামও বাড়ছে তার। তবে বাঙালির ভিড় বেড়েছে এখন মাছের বাজারে।

Share Button
Previous চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমচাষিদের ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি
Next আইনি লড়াই ছাড়া খালেদার মুক্তির পথ নেই: কাদের

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply