টিনএজ কেয়ার

টিনএজ কেয়ার

৬ মে ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): টিনএজ সময়টা উচ্ছলতার। ফ্যাশন ম্যাগাজিন আর গ্ল্যামার জগতের প্রতি থাকে প্রবল আকর্ষণ। সাজতে ও সাজাতে ভালো লাগে। আগামীর প্রস্তুতি শুরু হয় এখান থেকেই। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের পরিচর্যা শুরু করতে হবে এই সময় থেকেই

টিনএজ বয়সটা বলা যায় জীবনের একটা মজার সময়। অবশ্য কখনো কখনো বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয় অনেককে। এক দিকে থাকে বড় হয়ে উঠেছি এমন একটি অনুভূতি অন্য দিকে এখনো বড় হওনি এমন শাসন। এক দিকে থাকে সীমাহীন কৌতূহল অন্য দিকে না জানতে চাওয়ার বারণ। কৈশোর পেরুনো এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়ে মেয়েরা একটু একটু করে সাজতে চায়। ত্বকের আসে পরিবর্তন।

টিনএজ বয়সটাই যেন উচ্ছ্বলতার। এ বয়সে মেয়েদের আগ্রহ বেশি থাকে সব বিউটি ম্যাগাজিন আর ফ্যাশন ট্রেন্ড নিয়ে। কোন ড্রেসটা কেমন তা নিয়ে বন্ধুদের সাথে চলে বিস্তর আলোচনা। কোন পোশাকটা তাকে মানাবে, কেমন হেয়ার স্টাইলে ভালো দেখাবে, সে সব নিয়েও কৌতূহলের শেষ থাকে না। ত্বক, চুল, মেকআপ এসব বিষয়গুলোর প্রতিও যত্ন নিতে হবে এই সময় থেকেই। নিজের পছন্দ, অপছন্দের বিষয়গুলো জানার পাশাপাশি সঠিক উপায়ে পরিচর্যার বিষয়েও জানা থাকা প্রয়োজন। কারণ, কখনো কখনো এই সময়ের কোনো ক্ষতি সারা জীবনের জন্য স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। প্রাপ্ত বয়স্কদের থেকে টিনএজারদের সৌন্দর্যচর্চা একেবারেই ভিন্ন এ কথা মনে রাখতে হবে।

ত্বকের যত্ন
টিনএজারদের ত্বকের ধরন বড়দের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এদের ত্বক খুবই কোমল ও সেনসেটিভ হয়। তাই কেমিক্যালযুক্ত সাবান, ফেসওয়াশ ও প্রসাধনী এদের ত্বকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া করতে পারে। তবে সুবিধা হলো এদের ত্বক সেরে যায় তাড়াতাড়ি। ত্বকের যতেœ কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে :
ষ নিয়মিত স্ক্রাব করতে হবে, যেন ত্বকের সব মরা কোষ দূর হয়ে যায়। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের টি-জোন ধরে স্ক্রাবার ব্যবহার করতে হবে এতে ব্লাকহেডস দূর হবে।
ষ কেউ যদি ওয়াক্সিং করে তাহলে সাথে সাথে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করতে হবে।
ষ হাত-পায়ের মতো নখেরও যত্ন নিতে হবে। নিয়মিত নখ কেটে ফাইল করে নিতে হবে।
ষ ব্রন ও ডার্ক সার্কেল প্রতিরোধ করার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।
ষ ঠোঁটের ত্বক অনেক বেশি নরম ও সেনসিটিভ তাই বিশেষভাবে ঠোঁটের যত্ন নিতে হবে। অল্প মধু ও চিনি একসাথে মিশিয়ে ঠোটে ঘঁষে ধুয়ে নিতে হবে। এটি এক্সফলিয়েটের কাজ করবে। ঠোট যেন শুষ্ক না থাকে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ জন্য নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করা ভালো।
ষ ঠোঁট ফেটে গেলে কখনো লিপস্টিক ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে ঠোঁট আরো শুষ্ক হয়ে যায়।

চুলের যত্ন
ত্বকের যত্নের মতো চুলের পরিচর্যার বিষয়েও কিছু বিষয় জানা প্রয়োজন।
ষ চুলের যত্নের প্রথম কথা পরিচ্ছন্নতা। তাই নিয়মিত চুল শ্যাম্পু ও কন্ডিশনিং করতে হবে। যাদের চুল তৈলাক্ত তারা সপ্তাহে তিনবার শ্যাম্পু করলে ভাল। তবে শ্যাম্পু করার আগে অবশ্যই চুলের ধরণ অনুযায়ী শ্যাম্পু বাছাই করতে হবে।
ষ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার কেনার সময় অবশ্যই নামী কোম্পানির প্রোডাক্ট কিনবেন।
ষ চুলের সাজে খুব বেশি স্প্রে ল্যাকার বা হাই লাইটার ব্যবহার না করাই ভালো। চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য যতটা বজায় রাখা যায় চুলের জন্য ততটাই ভালো হবে।
ষ একটি সহজ হেয়ারকাট রাখলে ভালো হয়। চুলের জন্য বেশি সময়ও দিতে হয় হবে না, আবার দেখতে ভালো লাগবে এমন হেয়ার কাট রাখা যেতে পারে।
ষ যাদের চুল তৈলাক্ত তারা তৈলাক্ত স্কাল্পে বেবি পাউডার ব্যবহার করতে পারে। এতে চুলের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়মিত শ্যাম্পু করতে হবে যেন মাথার ত্বক পরিষ্কার থাকে।
ষ চুলের সাজে খুব বেশি আয়রনিং বা কার্লি না করলেই ভালো। সামনে অল্প কার্ল করে বাকিটা আয়রনিং করে নিলেই সাজ হয়ে যাবে।

মেকআপ টিপস
টিনএজ মেয়েদের খুব বেশি প্রসাধনী ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। কারণ, এদের ত্বক এমনিতেই সুন্দর থাকে। তবে প্রসাধনী ব্যবহারের বিষয়ে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
ষ পরীক্ষা না করে কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত না। প্রথমে অল্প করে ব্যবহার করে বুঝে নিতে হবে এই প্রসাধনীটা ব্যবহার করা যাবে কিনা।
ষ স্মোকি আইজের সাথে গাঢ় লিপস্টিক না লাগিয়ে বরং হালকা কোনো রঙ বেছে নিলেই ভালো লাগবে।
ষ অনেক প্রসাধনী ব্যবহার না করে বরং নিজের চেহারার আকর্ষণীয় অংশকে গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে। যদি চোখ সুন্দর হয় তাহলে সুন্দর করে আইলাইনার দিয়ে চোখ আরো সুন্দর করে তোলা যায়।
ষ একইভাবে সুন্দর করে ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানো যেতে পারে।
ষ যাদের ব্রণের প্রবণতা রয়েছে তাদের আলাদা করে ত্বকের যতœ নিতে হবে।
ষ কনসিলার ব্যবহার করলে আঙুলের সাহায্যে করাই ভালো।
ষ দিনের বেলায় মেকআপ দেয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
ষ ব্রণের দাগ বা ডাক সার্কেল ঢাকার জন্য কনসিলার ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য
ষ স্বাস্থ্যের প্রতি অবশ্যই সচেতন হতে হবে। তাই পুষ্টিকর খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে। বিশেষ করে ফল, সবজি ও ডিম রাখতে হবে খাবার তালিকায়।
ষ নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
ষ প্রতিদিন আট ঘণ্টা বিশ্রাম নেয়া জরুরি।
ষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি ব্যবহার্য জিনিসপত্রও পরিষ্কার রাখতে হবে।

Share Button
Previous কাঁচা আমের উপকারিতা
Next ৩৩ কোটি ব্যবহারকারীকে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে পরামর্শ টুইটারের

You might also like

রাজনীতি
লাইফস্টাইল

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply