অন্যের বাড়িতে থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে পিতৃহীন যমজ বোন

অন্যের বাড়িতে থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে পিতৃহীন যমজ বোন

ঢাকা ৮ মে ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি): বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৮ সনের এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করে স্বপ্ন জয়ের ধাপে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো আপন দুইবোন।জিপিএ ৫ পেয়েও কেন যেন স্বতঃস্ফুর্ততা নেই ওদের মনে। আর্থিক অনটন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শহরের ভালো একটি কলেজে ভর্তি হবার ক্ষেত্রে।

৯ বছর আগে সড়ক দূর্ঘটনায় বাবার মৃত্যু হয়। তখন ওদের বয়স মাত্র ৭ বছর। আর্থিক অনটনের সংসারে ‘লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হবে’ এই অদম্য ইচ্ছা মনে পুষে নিজ গ্রাম থেকে নানা বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয় এই আপন দুই বোন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অভাব-অনটনের সংসারে টানাপড়েন লেগে থাকলেও তা নিয়ে কখনোই মন খারাপ করেনি এই দুইবোন। কোন কিছুর জন্য মাকে চাপ দেয়নি। তবে লক্ষ্য ছিল ভালো রেজাল্ট করার মধ্য দিয়ে জীবনে ভালো কিছুর দিকে এগিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্য থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে জিপিএ ৫ ও বৃত্তি প্রাপ্তি ওদের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষাতেও সকল বিষয়ে ৮০ নম্বর নিয়ে জিপিএ ৫ পায় এই দুই শিক্ষার্থী। স্বপ্নটা বেড়ে যায় আরো। এসএসসিতে একই ধারা বজায় রেখে ভালো একটা কলেজে লেখাপড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে কবিতা-মোহনা।

মেধাবী শিক্ষার্থী ববিতা বলেন,‘ডাক্তার হবার ইচ্ছা থেকেই সায়েন্স নিয়ে পড়া। ডাক্তারই হতে চাই। পড়তে চাই শহরের ভালো একটি কলেজে। কিন্তু পারবো কিনা তা এখনো নিশ্চিত নই। শহরে পড়ানোর মতো আর্থিক অবস্থা যে আমাদের নেই!’

ছোট বোন অপর মেধাবী ছাত্রী মোহনা বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পরে আমাদের নিয়ে মায়ের যুদ্ধ। আমরা ভালো কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে লেখাপড়া করে যাচ্ছি। কিন্তু আর্থিক অনটনের কাছে শেষ পর্যন্ত হারতে হবে কি না বুঝতে পারছি না।’ ‘ভালো একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার ইচ্ছা আমাদের।’ জানি না এই স্বপ্ন কিভাবে বাস্তব হতে পারে?

মা কল্পনা বেগম বলেন,‘ওর বাবা যখন মারা যায় তখন ওদের বয়স ৭ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়ি। কিন্তু আমার মেয়েদের লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নিই। টানাটানির সংসারে কোন মতে ওদের নিয়ে বেঁচে আছি। প্রাথমিক থেকে এই পর্যন্ত দুই বোনই ভালো রেজাল্ট করে আসছে। স্বপ্ন বড়। কিন্তু ভালো কোন কলেজে পড়ানোর মতো আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল আমরা নই। ভাগ্যে কি আছে জানি না!

উৎরাইল এমএল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমতিয়াজ আহমেদ ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশ্রাফুল আলম বলেন,‘ওরা মেধাবী এবং দরিদ্র। এই কারণেই বিদ্যালয়ের বেতন, টিউশন ফি, ফরম পূরনের টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে এই দুইবোনকে সাপোর্ট দেয়া হয়েছে। ওরা আমাদের গর্ব।

Share Button
Previous কোটা নিয়ে অগ্রগতি নেই : মন্ত্রিপরিষদ সচিব
Next হায়দরাবাদের দারুণ জয়ে ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল সাকিব

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply