১২ বছরে ৩০০ মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী তিনি!

১২ বছরে ৩০০ মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী তিনি!

ঢাকা ৮ মে ২০১৮ (গ্লোবটুডে ডেস্ক): যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অফ ক্রিমিনাল জাস্টিস (টিডিসিজে) কর্মী হিসেবে মিচেল লায়ন্স নামে এক নারী ১২ বছরে প্রায় ৩০০ মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী দিয়েছেন।

সেই সব মৃত্যুদণ্ডের অন্তত শতিনেক ঘটনা নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। ২০০০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ১২ বছর ধরে মৃত্যুকে চাক্ষুষ করাই ছিল তার কাজ। খবর বিবিসির।

১২ বছর ধরে প্রত্যক্ষ করা মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে তার স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘ডেথ রো : দি ফাইনাল মিনিটস।’

সে বিষয়েই এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথা।

ডেথ চেম্বার বা মরণ-কুঠুরিতে নিয়ে মৃত্যুশয্যায় শেষ শয়ানে হাত-পা বেল্ট দিয়ে আটকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির শরীরে দেয়া হয় ইনজেকশন। ইনজেকশনের সেই প্রাণঘাতী তরল কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই চিরতরে নিস্তেজ করে দিয়েছে কত নারী ও পুরুষের দেহ।

ফুসফুস থেকে শেষ বাতাসটুকু বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কেউ হয়তো সামান্য কেশেছে কেবল। আবার কেউ হয়তো দম আটকে আসায় হাঁসফাঁস করেছে খুব। আর কেউ হয়তো হাঁপড়ের মতন ফুঁস করে একটা শব্দ তুলেছেন শুধু।

২০০০ সালে প্রথমে এসব মৃত্যুকে তিনি দেখেছেন পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে। আর এর পর টিডিসিজের মুখপাত্র হিসেবে মৃত্যুকে সামনে থেকে পরখ করাই ছিল তার কাজ। এসব মৃত্যুকে খুব নিকট থেকে দেখতে গিয়ে তার নিজের ওপরেও গভীর প্রভাব পড়েছিল।

১৮ বছর আগে প্রথম যে মৃত্যুর ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন মিজ লায়ন্স, সেটি এখনও ভুলতে পারেননি। তার চোখের সামনেই নিস্তেজ হয়ে গিয়েছিল রিকি ম্যাকগিনের দেহ।

মি. ম্যাকগিনের মতন আরও অনেকের চেহারা তার স্পষ্ট মনে আছে। যদিও কী ছিল তাদের অপরাধ, কী ছিল তাদের নাম সেই সব কিছু আজ আর তার মনে নেই।

১৭ বছর বয়সী নেপোলিয়ন বিজলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর অফিস থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় সারা পথ ধরে অঝোরে কেঁদেছিলেন মিজ লায়ন্স। তার শুধু বারবার মনে হচ্ছিল, বেঁচে থাকলে ছেলেটি হয়তো সমাজের কাজে আসতে পারত।

এমন ভাবনা মনে আসায় তিনি আবার মানসিক টানাপড়েনেও থেকেছেন। কারণ নেপোলিয়ন বিজলের অপরাধও ছিল গুরুতর। তাই তিনি এটিও ভেবেছেন, বিজলের হাতে যিনি খুন হয়েছিলেন লায়ন্স নিজে যদি সেই পরিবারের কেউ হতেন, তা হলে তার মৃত্যুদণ্ডই হয়তো চাইতেন তিনি।

এখন ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যু কার্যকর করা হলেও একসময় তা করা হতো ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে। ১৯২৪ থেকে ১৯৬৪ পর্যন্ত এভাবেই ৩৬১ জনের শাস্তি কার্যকর হয়েছে।

১৯৭২ সালে সুপ্রিমকোর্টের এক আদেশে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই আদেশে মৃত্যুদণ্ডকে ‘নৃশংস’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

কিন্তু এই আদেশের কিছু দিনের মধ্যেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ফিরিয়ে আনার দাবি ওঠে। একপর্যায়ে নিষিদ্ধ হওয়ার দুই বছরের মধ্যেই টেক্সাসে আবারও বহাল হয় মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান।

টেক্সাসে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সংখ্যা অনেক বেশি। ২০০০ সালেই সেখানে এ শাস্তি পেয়েছিল ৪০ জন।

সাম্প্রতিক জরিপে অবশ্য দেখা যাচ্ছে, টেক্সাসে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। যদিও তা এখনও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি।

আমেরিকায় মৃত্যুদণ্ডের এই বিধান নিয়ে সমালোচনায় সরব ইউরোপ। মৃত্যুদণ্ডকে তারা খুন বলেই বর্ণনা করে। আর অনেকের ভাষায়, মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে- রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে হত্যাকাণ্ড।

কিন্তু খুব সহসাই টেক্সাস থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান উঠে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাও দেখছেন না মিচেল লায়ন্স।

কারণ ২০১৩ সালের এক জরিপেই উঠে এসেছিল যে, টেক্সাসের অন্তত ৭৪ শতাংশ মানুষ মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করছে।

মিজ লায়ন্স যখন টিডিসিজের মুখপাত্র ছিলেন, তখন বহু মানুষের কাছ থেকে ঘৃণা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিশ্রিত চিঠি ও ইমেইল পেয়েছেন।

কখনও কখনও এসব চিঠি ও ইমেইলের জবাবে তিনিও কড়া ভাষায় বলে দেন- টেক্সাসের সরকারি কাজে নাক না গলাতে। কিন্তু লায়ন্স যখন গর্ভবতী হলেন, যখন মা হলেন, যখন ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ করতে থাকলেন প্রতিদিন, তখন তার মনের ওপর বড্ড চাপ তৈরি হয়েছিল।

Please follow and like us:
Previous সেলুন থেকে যে ইনফেকশনগুলো হতে পারে
Next প্রিয়াংকার নতুন ছবির ট্রেলারে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়!

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply