বজ্রপাত থেকে কম্পিউটার বাঁচান

বজ্রপাত থেকে কম্পিউটার বাঁচান

২৬ মে ২০১৮ (গ্লোবটুডেবিডি):

দেশে বজ্রপাত আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। বজ্রপাতের কারণে অনেকের কম্পিউটার, টিভিসহ নানা প্রযুক্তিপণ্যের ক্ষতি হচ্ছে। তবে কিছু কৌশল জানলে এবং সতর্ক থাকলে বজ্রপাতের কবল থেকে প্রযুক্তিপণ্যকে রক্ষা করা যায়।

১. বজ্রপাতের আভাস পেলেই কম্পিউটার, রাউটার, টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সুইচ অফ রাখতে হবে। বাসার বাইরে থাকার সময়ও বজ্রপাত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাইরে যাওয়ার আগেই কম্পিউটার, রাউটারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের সুইচ অফ করে দিলে বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি এড়ানো যাবে।

২. বজ্রপাতের কারণে বেশি নষ্ট হয় টেলিভিশন। কেননা টেলিভিশনের সঙ্গে ডিশের লাইনের সংযুক্ত থাকে। ফলে  কোনো এলাকায় বজ্রপাত হলে ডিশের লাইনের মাধ্যমে সহজেই টিভির ক্ষতি করে। অনেকেই কম্পিউটারে টিভি কার্ড ব্যবহার করেন। ফলে বজ্রপাতের সময় ডিশ লাইন সংযোগ থাকায় কম্পিউটারেরও ক্ষতি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বজ্রপাতের সময় ডিশের সংযোগটি খুলে রাখুন। এতে প্রযুক্তিপণ্যগুলো নিরাপদ থাকবে।

৩. বজ্রপাতের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় রাউটার ডিভাইসগুলোর। বজ্রপাতের আভাস পেলে শুধু রাউটারের লাইন বন্ধ করলেই চলবে না, রাউটার থেকে ইন্টারনেট সংযোগের ল্যান কেবলটিও খুলে রাখতে হবে। তবে যদি আপনার ইন্টারনেট সংযোগে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল ব্যবহার করা হয়, তাহলে বজ্রপাতের ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকে। কেননা এসব কেবলে ধাতব তারের ব্যবহার হয় না।

৪. ভালোমানের মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করতে হবে। যে মাল্টিপ্লাগগুলো সেলফ কন্ট্রোল অটোমেটিক সিস্টেমে বিদ্যুত্প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলো ব্যবহার করাই ভালো। ফলে হাই ভোল্টেজ বা বজ্রপাতের সময়ও মাল্টিপ্লাগের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা ডিভাইসে প্রভাব পড়বে না। বাজারে এমন নানা ব্র্যান্ডের মাল্টিপ্লাগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘হান্টকি ব্র্যান্ড’। দেশের বাজারে ব্র্যান্ডটির মাল্টিপ্লাগ মডেলভেদে দাম ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা।

৫. বজ্রপাত থেকে বাসাবাড়ি ও যন্ত্রাংশ রক্ষা করতে আর্থিং করতে হবে। বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ নেওয়ার সময় একটা মেইন লাইন থাকে এবং অন্যটি থাকে নিউট্রাল লাইন। এই নিউট্রাল লাইনটা রড বা তার দিয়ে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়, যাকে বলে আর্থিং। এটি বজ্রপাতের পর বিদ্যুেক নিরাপদে মাটিতে নিয়ে যেতে ব্যবহৃত হয়। বজ্রপাতের কারণে অতিরিক্ত ভোল্টেজ বা কারেন্ট প্রবাহিত হলে আর্থিংয়ের মাধ্যমে তা নিরাপদ পথে মাটিতে নেমে আসে। ফলে বহু মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায়।

Share Button
Previous সহকর্মীকে ‘হ্যান্ডসাম’ বলে চাকরি খোয়ালেন টিভি উপস্থাপিকা
Next আমরা সন্তান চাই : কোহলি

You might also like

০ Comments

No Comments Yet!

You can be first to comment this post!

Leave a Reply